📌 যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিল পাসের পরই রাশিয়া ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ২০ জনের বেশি আহত হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতি করতে বাধ্য করতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিল পাসের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই রাশিয়া ইউক্রেনে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এই হামলা রাশিয়ার অবিরাম আগ্রাসনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২০ জনের বেশি আহত**: ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। কিয়েভে ১৮ জনের মধ্যে দু’জন শিশুও আহত হন।
- 📌 **বিশেষ হামলা কিয়েভে**: ১৬ তলা একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে, চারটি জেলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। পেট্রল স্টেশন ও গুদামঘরও লক্ষ্যবস্তু হয়।
- 📌 **ব্যালিস্টিক ও ড্রোন হামলা**: ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাতের হামলায় **১৬০টি ড্রোন** এবং **অনেকটি ক্ষেপণাস্ত্র** ব্যবহার করা হয়।
- 📌 **মস্কোর প্রতিক্রিয়া**: রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, তারা ইউক্রেনের নৌযানগুলিতে হামলা চালিয়েছে।
- 📌 **ইউক্রেনের প্রতিহত প্রচেষ্টা**: ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা চালায়, আগুন ধরে যায়।
- 📌 **যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ**: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস **লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট** পাস করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এই বিলে স্বাক্ষর করবেন।
- 📌 **জেলেনস্কির আহ্বান**: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শক্তিশালী হতে হবে, যাতে শান্তি আলোচনা সফল হয়।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস বুধবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করে। এই বিলের উদ্যোগ নেয়েন প্রাক্তন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিল পাসের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার, যা রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করতে পারে।”
রাশিয়া এই নিষেধাজ্ঞা পাসের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ইউক্রেনে হামলা চালায়। কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো জানান, শহরে ১৮ জন আহত হন, যার মধ্যে দু’জন শিশু। আহতদের বেশিরভাগই একটি ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ তলা আবাসিক ভবনের বাসিন্দা। শহরের চারটি জেলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়, যার মধ্যে একটি পেট্রল স্টেশন ও গুদামঘরও রয়েছে। দিনিপ্রো নদীর বাম তীরে পানির সরবরাহও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
ওদেসা শহরে ছয়জন আহত হন, যার মধ্যে দু’জন শিশু। একটি ১৯ তলা আবাসিক ভবন ও অন্যান্য স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিল্প স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, হামলায় **অনিক্স অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র**, **ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র**, চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় **১৬০টি ড্রোন** ব্যবহার করা হয়। তবে কতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল এবং এর মধ্যে কতটি প্রতিহত করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়াকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জরুরি। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই শক্তিশালী হতে হবে, যাতে শান্তির জন্য সব প্রচেষ্টা সফল হতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং আমাদের অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে আমাদের যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও রয়েছে।’”
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, তারা ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত নৌযানগুলিতে হামলা চালিয়েছে। কিয়েভে রাতভর আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেতের সাইরেন এবং বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বৃহস্পতিবার সকালেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যখন জেটচালিত ড্রোন দিয়ে হামলা চলছিল।
ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়ায়, তারা রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা চালায়। ইয়ারোস্লাভল শহরের একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়, পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
"এটি প্রতীকী যে ইউক্রেনে আবারও ব্যালিস্টিক ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার হামলার রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট পাস করেছে।"
"নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই শক্তিশালী হতে হবে, যাতে শান্তির জন্য সব প্রচেষ্টা সফল হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিয়েভ, ওদেসা, জাপোরিঝঝিয়া (ইউক্রেন), নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র), মস্কো (রাশিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভলোদিমির জেলেনস্কি (ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট), ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট), ভিতালি ক্লিৎস্কো (কিয়েভের মেয়র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ জনের বেশি আহত, ১৮ জন কিয়েভে আহত (দু’জন শিশু), ১৬০টি ড্রোন, ১৬ তলা ও ১৯ তলা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!