📌 রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও সরকারি স্থাপনায় জেটচালিত গেরান-৪ ও গেরান-৫ ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ড্রোনগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুতগামী ও স্মার্ট, যা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি উন্নয়নে সফল হয়েছে এবং এখনো নতুন ড্রোন বিকাশ করছে।
রাশিয়া ইউক্রেনের আকাশে নতুন প্রজন্মের জেটচালিত ড্রোন চালিয়ে যুদ্ধের ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার গেরান-৪ ও গেরান-৫ ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। এই ড্রোনগুলো আগের প্রপেলারচালিত ড্রোনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি দ্রুতগামী ও স্মার্ট, ফলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি উন্নয়নে সফল হয়েছে এবং এখনো নতুন ড্রোন বিকাশ করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৭ আগস্ট থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে জেটচালিত ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে কিয়েভের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে।
- 📌 রাশিয়ার গেরান-৫ ড্রোন ঘণ্টায় ৬০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং ৯০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম।
- 📌 ইউক্রেনের ২ হাজার ৮০০টি ড্রোন হামলার মধ্যে কিয়েভের একটি পেট্রল স্টেশনে সরাসরি আঘাত হানে, যা প্রথমবারের মতো ঘটনা।
- 📌 রাশিয়ার সামরিক হতাহতের সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ১৪ লাখই ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে মাত্র ২ শতাংশ ভূখণ্ড দখলের জন্য ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।
- 📌 রাশিয়া ইরানের কাছে গেরান ড্রোন বিক্রি করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ব্যবহার করতে চায়।
- 📌 নতুন ড্রোনগুলোতে থার্মাল ক্যামেরা, এআই-চালিত লক্ষ্য নির্ধারণ এবং জ্যামিং প্রতিরোধী অ্যান্টেনা যুক্ত করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
রাশিয়ার নতুন জেটচালিত ড্রোন গেরান-৪ ও গেরান-৫ ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাকে চ্যালেঞ্জ করছে। গত ২৭ আগস্ট থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে এই ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কিয়েভের হলোসিভস্কি জেলায় একটি রুশ ড্রোন একটি পেট্রল স্টেশনে আঘাত হানে, যা প্রথমবারের মতো ঘটনা। পরদিন আরও দুটি ফিলিং স্টেশনে হামলায় দুজন নিহত হন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মতো’ বর্ণনা করেছেন।
রাশিয়ার এই ড্রোন অভিযান এমন সময়ে জোরদার হয়েছে, যখন ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে মস্কোকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা প্রধান স্যার রিচার্ড নাইটন বলেছেন, রাশিয়ার সামরিক হতাহতের সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৪ লাখই ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ইউক্রেনের মাত্র ২ শতাংশ ভূখণ্ড দখলের জন্য ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন ড্রোনের সাফল্য মস্কোর জন্য বিরল একটি ইতিবাচক দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গেরান ড্রোন মূলত ইরানে নকশা করা শাহেদ ড্রোনের উন্নত সংস্করণ। রাশিয়া ২০২৩ সালে প্রথম এসব ড্রোন তৈরি শুরু করে। গেরান-১ সর্বোচ্চ ২০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। অন্যদিকে, গেরান-৫ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। নতুন ড্রোনগুলোতে থার্মাল ক্যামেরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থা, জ্যামিং প্রতিরোধী অ্যান্টেনা এবং চীনে তৈরি মেশ রেডিও নেটওয়ার্ক মডেম যুক্ত করা হয়েছে।
"তারা তাদের সব প্রচেষ্টা, সম্পদ, অর্থ ও মেধা এই একটি ব্যবস্থার পেছনে দিয়েছে। তারা নিয়মিত এগুলো উন্নত করছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষা করছে, যাতে প্রযুক্তিটিকে প্রায় নিখুঁত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়।"
— কাটেরিনা বন্ডার, মার্কিন থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিয়েভ (ইউক্রেন), মস্কো (রাশিয়া), ইরান, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভলোদিমির জেলেনস্কি, স্যার রিচার্ড নাইটন, কাটেরিনা বন্ডার, সেরহি বেস্ক্রেস্তনভ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ আগস্ট (হামলা শুরু), ২ হাজার ৮০০টি ড্রোন, ১৫ লাখ সামরিক হতাহত, ৬০০ কিলোমিটার (গতি), ৯০ কেজি (বিস্ফোরক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!