📌 মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিজেরাই প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ তৈরি করছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা ছাড়াই তারা সময় হলেই নিজ দেশে ফিরে যাবেন বলে দাবি করেছেন
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর গণহত্যার মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিজেদের প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ নিজেরাই তৈরি করছে। জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনএইচসিআর, ডব্লিউএফপি ও আইওএমসহ আন্তর্জাতিক মহলের কোনো সহায়তা ছাড়াই তারা সময় হলেই রাখাইনে ফিরে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ৯ বছর আগে ২৫ আগস্ট গণহত্যার শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এবার নিজেদের অধিকার আদায়ে নতুন দাবি তুলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রোহিঙ্গারা নিজেরাই প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ তৈরি করছে এবং সময় হলেই ফিরে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
- 📌 জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কোনো সহায়তা ছাড়াই নিজ দেশে ফিরবেন বলে দাবি করেছেন রোহিঙ্গা নেতারা।
- 📌 উখিয়ার লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরে দেড় লাখ রোহিঙ্গার বিশাল সমাবেশে এসব দাবি উঠে আসে।
- 📌 রোহিঙ্গা নেতারা গণহত্যার বিচার দাবির পাশাপাশি নিজ দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।
- 📌 বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি, যার মধ্যে ৮ লাখই এসেছেন ২০১৭ সালের আগস্টের পর।
- 📌 গত দেড় বছরে নতুন করে ১ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।
- 📌 রোহিঙ্গা নেতারা জানান, আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা পাওয়া যায়নি।
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পালিত হয়েছে গণহত্যা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা নিজেদের অধিকার আদায়ে নতুন দাবি তুলে ধরেন। ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)-এর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মহল থেকে আমরা শুধুই আশ্বাস পেয়ে আসছি। কিন্তু প্রত্যাবাসনের জন্য কোনো রোডম্যাপ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাখাইনে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা আমাদেরই করতে হবে।’
সমাবেশে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা নেতা ছৈয়দ উল্লাহ জানান, তারা এবার আর কারও আশ্বাসের অপেক্ষায় থাকবেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরাই রাখাইনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করব। সময় হলে আমরা রোডম্যাপ প্রকাশ করব।’ সমাবেশে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা তরুণীরাও নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, এবারও রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।
‘৯ বছর ধরে আমরা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহলের শুধুই আশ্বাস পেয়ে আসছি। এখন বলা হচ্ছে রাখাইনের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল, নিরাপদ প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। মিয়ানমার সরকার এবং রাখাইনের দখলদার সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) চায় না রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরে যাক।’ — ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উখিয়া, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহাঙ্গীর আলম, ছৈয়দ উল্লাহ, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ বছর, ১৪ লাখ, ১ লাখ ৫৪ হাজার, ৩৩টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!