📌 ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে রাহুল গান্ধীসহ ৩০০-এরও বেশি সংসদ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতারা দাবি করেছেন, মোদি সরকার নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ বুধবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিরোধীদলীয় প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্যের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে আবার আটক করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে রাহুল গান্ধী দিল্লির সামান্য দূরে অবস্থিত সাগররত্ন রেস্তোরাঁয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে বামপন্থী ও তৃণমূল কংগ্রেসসহ ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য দলের নেতারা তার সাথে খাবার খেয়েছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩০০-এরও বেশি সংসদ সদস্যের** বিক্ষোভে রাহুল গান্ধীসহ **বেশ কয়েকজন** নেতাকে আবার আটক করা হয়েছে দিল্লির যন্তর মন্তরে।
- 📌 রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, **সিইসি জ্ঞানেশ কুমার বৈধ নন** এবং তিনি **দেশদ্রোহী**।
- 📌 তিনি দাবি করেছেন, **প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি** নির্বাচন কমিশন নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং **গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা** করছেন।
- 📌 **গত মঙ্গলবার** পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে **২০০ সংসদ সদস্যের** পদযাত্রা বাধা পেয়ে **৯ ঘণ্টা** অবস্থান করে গাছের নিচে।
- 📌 রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে **৪০-এরও বেশি এফআইআর** রয়েছে, তিনি বলেছেন, **১০০-এর বেশি** এফআইআর করার লক্ষ্য রাখছেন।
- 📌 **মিত্র দলগুলোর** অভিযোগ, গান্ধী পরিবার **ইন্ডিয়া জোটের ফোকাস নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে**।
📰 বিস্তারিত
রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি গতকালও বলেছিলাম, আমাদের ৩০০ সংসদ সদস্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই আজ আমাদের পরিকল্পনা হলো যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করা।’ সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশবাসীকে জানাতে চাই, জ্ঞানেশ কুমার বৈধ সিইসি নন। এঁরা দেশদ্রোহী। তাঁকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।’
রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশন যা কিছু করছে, তার পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর মানে হলো মোদি নিজেই গণতন্ত্র ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন।’ গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে বিরোধী সংসদ সদস্যদের পদযাত্রা ও অবস্থান কর্মসূচির জেরে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সরকারি ভবনে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। তবে তিনি এই মামলাকে একেবারেই পাত্তা দেননি। নিজের নামে প্রায় চার ডজন এফআইআর আছে দাবি করে রাহুল বলেন, ‘আমার লক্ষ্য এটাকে ১০০-তে নিয়ে যাওয়া। প্রতিটি এফআইআর আমার কাছে একেকটি পদকের মতো।’
গত মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভোটার তালিকার সংশোধনীতে অনিয়ম নিয়ে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জোরদার হয়েছে। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ‘নির্বাচন সদন’ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল ইন্ডিয়া জোট। দুপুরের আগে প্রায় ২০০ সংসদ সদস্য নিয়ে পদযাত্রা শুরু হলেও পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে তা নির্বাচন কমিশনের কাছে আকাশবাণী ভবনে এক নাটকীয় অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়। ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেন রাহুল। কাছাকাছি পৌঁছাতেই সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবসহ অনেককে আটক করে পুলিশ। কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচন কমিশনের ঠিক উল্টো দিকের পেছনের গেট দিয়ে বের হওয়ার জন্য তাঁরা আকাশবাণী ভবনে ঢুকেছিলেন। কিন্তু পুলিশ সেই গেট তালাবদ্ধ করে দিলে তাঁরা অল ইন্ডিয়া রেডিওর কার্যালয়ের প্রাঙ্গণেই বসে পড়েন। পুলিশ সরিয়ে দেওয়ার আগে টানা ৯ ঘণ্টা তাঁরা একটি গাছের নিচে অবস্থান করেন। সেখানেই চা–নাশতা সারেন নেতারা। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে পুলিশ। দুই ঘণ্টা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবারের এই নাটকীয় অবস্থান কর্মসূচি ভালোভাবে নেয়নি ইন্ডিয়া জোটের কিছু শরিক দল। সূত্র বলছে, মিত্রদের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে গান্ধী পরিবার পুরো ‘ফোকাস নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে’। মিত্রদের অন্ধকারে রাখায় যে ‘অবিশ্বাসের’ সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল।
"আমি গতকালও বলেছিলাম, আমাদের ৩০০ সংসদ সদস্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই আজ আমাদের পরিকল্পনা হলো যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করা। আমরা দেশবাসীকে জানাতে চাই, জ্ঞানেশ কুমার বৈধ সিইসি নন। এঁরা দেশদ্রোহী। তাঁকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাহুল গান্ধী, জ্ঞানেশ কুমার, নরেন্দ্র মোদি, অখিলেশ যাদব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ (সংসদ সদস্য), ২০০ (পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারী), ৯ (ঘণ্টা অবস্থান), ১০০ (এফআইআর লক্ষ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!