📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করছিল পাকিস্তান। এবার কাতারের প্রধানমন্ত্রীর তেহরান সফরের মধ্য দিয়ে নতুন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যোগ দিয়েছে দেশটি। ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি তেহরানের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করছিল পাকিস্তান। তবে এবার সেই ভূমিকায় যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারও। বৃহস্পতিবার তেহরান সফরে গিয়েছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে নতুন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যোগ দিয়েছে কাতার
- 📌 তেহরান সফরে গিয়েছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা করার ইচ্ছা নেই ওয়াশিংটনের
- 📌 ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
- 📌 ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করে আসছিল পাকিস্তান। তবে এবার সেই ভূমিকায় যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ কাতার। বৃহস্পতিবার তেহরান সফরে গিয়েছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি। তার এই সফরের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধে নতুন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কাতার।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর ঘোষণা দেন। একই দিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা করার ইচ্ছা নেই ওয়াশিংটনের। তিনি বলেন, “আমরা তাদের (ইরান) সঙ্গে আর কথা বলতে চাই না। (ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে) বৈঠক কিংবা এ জাতীয় কোনো কিছুর পরিকল্পনাও আমাদের নেই।”
তবে ট্রাম্প জানান, ইরান যদি ফলপ্রসূ আলোচনার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমরা চাই, ইরান একটি ফলপ্রসূ আলোচনার সিদ্ধান্ত নিক। যতদিন তা না হচ্ছে, ততদিন আমাদের এই অর্থনৈতিক অভিযান চলবে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। সেই অভিযান শুরুর পর প্রায় ছয় মাস পার হয়েছে যুদ্ধের। এতদিন মার্কিন ও ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী পরস্পরকে লক্ষ্য করে অভিযান-পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় দুটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিও হয়েছিল, তবে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে আবারও অভিযান পরিচালনা করেছে উভয় দেশ।
তেহরানে পৌঁছে ইরানের শীর্ষ আলোচক ও ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্র সরকারের অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে ইরানকে ফের কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আলোচনার সম্ভাবনা সম্পর্কে ঘালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তেহরান ফের আলোচনায় আসতে পারে।
এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নির্বাহী প্রধান মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়ি। তিনি জানান, ইরান শিগগিরই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে কঠোর হামলা পরিচালনা করা হবে।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজগুলো থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের বিরোধিতা করেছিল।
তেহরান সফর শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা বার্তায় আল থানি জানান, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ-নৌযানের মুক্ত চলাচলের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটি অস্থায়ী যৌথ ইরান-ওমানি নৌ-পরিবহন করিডোর স্থাপন এবং মাইন অপসারণের একটি যৌথ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করেছেন।
“আমরা অপারেশন এপিক ফিউরির মাধ্যমে তাদের সামরিক শক্তিকে ধ্বংস করেছি। এখন আমরা অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট শুরু করেছি। এ অভিযান চলমান থাকবে। বর্তমানে কোনো আলোচনা তাদের সঙ্গে হচ্ছে না এবং প্রেসিডেন্ট যতদিন পর্যন্ত উপযুক্ত সময় নির্ধারণ না করছেন, ততদিন পর্যন্ত কোনো কূটনৈতিক সংলাপ হবে না।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তেহরান, ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি, ডোনাল্ড ট্রাম্প, মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!