📌 প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা ব্যাংক পতনের কেলেঙ্কারিতে পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করায় আইনসভা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ৭৮-০ ভোটে নিম্নকক্ষের সদস্যরা অভিশংসনের পক্ষে রায় দিয়েছে। উয়েনো ব্যাংকের পতনে ৩০ লাখেরও বেশি গ্রাহক আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে
প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা ব্যাংক পতনের কেলেঙ্কারিতে পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করায় দেশটির আইনসভা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিম্নকক্ষের সদস্যরা ৭৮-০ ভোটে অভিশংসনের পক্ষে রায় দেন। একই সঙ্গে সিনেটও অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করে শুক্রবার প্রেসিডেন্টকে হাজির হওয়ার জন্য তলব করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করায় আইনসভা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করেছে
- 📌 নিম্নকক্ষ ৭৮-০ ভোটে অভিশংসনের পক্ষে রায় দিয়েছে; সিনেটও প্রেসিডেন্টকে হাজির হওয়ার জন্য তলব করেছে
- 📌 উয়েনো ব্যাংকের পতনে ৬৫ লাখ জনসংখ্যার দেশে ৩০ লাখেরও বেশি গ্রাহক আর্থিক ক্ষতির শিকার
- 📌 কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্লোস কারভালো পদত্যাগ করেছেন; ব্যাংকটির তদারকি ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে
- 📌 প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে
📰 বিস্তারিত
প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা ব্যাংক পতনের কেলেঙ্কারিতে পদত্যাগের উদ্যোগ নিলেও কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে পদত্যাগপত্র গ্রহণের পক্ষে পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেননি। কোরোরাডো পার্টির আইনপ্রণেতারা কোরাম সংকটের কারণে অধিবেশন ত্যাগ করার পর পদত্যাগপত্র গ্রহণের পক্ষে ভোট না পাওয়ায় পেনার পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনার জন্য বিলম্বিত হয়।
পেনা বলেছেন, তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে। তবে আইনপ্রণেতারা তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। পেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ব্যাংক পতনের তথ্য ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ ছিলেন এবং স্বার্থের সংঘাতের ঘটনায় জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, উয়েনো ব্যাংক আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সলভেন্সি অনুপাত বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাংকটির হিসাব সংশোধনের পর দেখা যায়, সম্ভাব্য লোকসান সামাল দিতে ব্যাংকগুলোর যে পরিমাণ মূলধন সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক, উয়েনোর মূলধন তার অর্ধেকেরও কম। ব্যাংকটির পতনের আগে দাবি করা হয়েছিল, ৬৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে তাদের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। ব্যাংকটির কার্যক্রম ভেঙে পড়ার পর বহু গ্রাহক নিজেদের হিসাবের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন এবং পেনশনের অর্থও তুলতে পারছেন না অনেকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক উয়েনোর অবশিষ্ট তহবিল অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ব্যাংকটির কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেও সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট পেনার বিরুদ্ধেও ব্যাংকটির সঙ্গে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে। একসময় উয়েনো ব্যাংকের মূল প্রতিষ্ঠান গ্রুপো ভাসকেসে তাঁর শেয়ার ছিল। তবে পেনা দাবি করেছেন, ২০২৫ সালে তিনি ওই শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন।
"দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
প্যারাগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোরাসিও কার্তেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পেনার অভিশংসনের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকারি, বেসরকারি ও পেনশন তহবিলের অর্থ চুরির পক্ষে তাঁদের দল অবস্থান নেবে না। জনগণ এবং কোরোরাডো পার্টির মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্যারাগুয়ে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সান্তিয়াগো পেনা (প্রেসিডেন্ট), হোরাসিও কার্তেস (সাবেক প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৮-০ ভোটে অভিশংসন, ৩০ লাখ গ্রাহক, ৮৫০ মিলিয়ন ডলার তহবিল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!