📌 পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের আইনসভা সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলার বিচার গোপনে করার বিধান রেখে নতুন আইন পাস করেছে। বিরোধী দলের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে পাস হওয়া আইনে বিচারক, সাক্ষী ও আসামিপক্ষের পরিচয় গোপন রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের আইনসভা ‘অ্যান্টি-টেররিজম (পাঞ্জাব অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ নামে একটি বিতর্কিত আইন পাস করেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আইনের আওতায় সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলার বিচার প্রায় সম্পূর্ণ গোপনে পরিচালনা করা যাবে। আইনে বিচারক, সরকারি কৌঁসুলি, পুলিশ কর্মকর্তা, সাক্ষী এমনকি আসামিপক্ষের আইনজীবীর পরিচয় গোপন রাখার বিধান রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাঞ্জাব প্রদেশের আইনসভা ৩১ আগস্ট ‘অ্যান্টি-টেররিজম (পাঞ্জাব অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ পাস করে
- 📌 বিচারক, কৌঁসুলি, পুলিশ কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের পরিচয় গোপন রাখার বিধান রয়েছে নতুন আইনে
- 📌 সরকার একজন জ্যেষ্ঠ আমলাকে ‘ডেজিগনেটেড অথোরিটি’ হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে
- 📌 কোনো মামলাকে ‘বিশেষ নিরাপত্তা মামলা’ হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষেত্রে আইনে সুস্পষ্ট সীমারেখা নেই
- 📌 বিরোধী দলের সদস্যরা বিলটির প্রতিবাদে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন
📰 বিস্তারিত
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের আইনসভা বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আলোচিত একটি আইন পাস করেছে। ‘অ্যান্টি-টেররিজম (পাঞ্জাব অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ নামে পরিচিত এই আইনের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলার বিচার গোপনে পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, সরকার একজন জ্যেষ্ঠ আমলাকে ‘ডেজিগনেটেড অথোরিটি’ হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে। এই কর্মকর্তা কোনো সন্ত্রাসবাদী মামলাকে ‘বিশেষ নিরাপত্তা মামলা’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবেন।
এই ধরনের মামলায় বিচারক, সরকারি কৌঁসুলি, পুলিশ কর্মকর্তা, সাক্ষী এমনকি আসামিপক্ষের আইনজীবীর পরিচয় গোপন রাখা হবে। আদালতের আদেশেও নামের পরিবর্তে পদবি ব্যবহার করা হবে। সাক্ষীদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে কোড নম্বরের মাধ্যমে। প্রয়োজনে কারাগার থেকেও ভিডিও লিংকের মাধ্যমে শুনানি করা যাবে। এমনকি অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে তাঁদের পরিচয় গোপন রাখার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই আইনকে ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। তাঁদের মতে, বিচারক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় গোপন থাকলে আসামির পক্ষে বিচারকের পক্ষপাত বা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না। বিরোধী দলের সদস্যরা বিলটির প্রতিবাদে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।
"সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিচারক, কৌঁসুলি, তদন্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের ওপরও হুমকি বাড়ছে। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন যথেষ্ট নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খালিদ মাহমুদ রাঞ্জা (আইনপ্রণেতা), রিদা হোসাইন (সাংবিধানিক আইনজীবী), আহমার রশিদ ভাট্টি (বিরোধী আইনপ্রণেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!