📌 বিশ্বের ৫৯ জন রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান অলিগার্ক — অর্থ ও রাজনৈতিক ক্ষমতা একীভূত করে বিশ্বের অর্থনীতির ৫৪% নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের মধ্যে ৯৩% উত্তরাধিকার বা রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করেছেন
বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অলিগার্কদের প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুটিকয়েক ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তির হাতে অর্থ ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত হওয়ার এই ঘটনা শুধু রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ নয় — এখন এটি বিশ্বব্যাপী একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বের ৫৯ জন রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান অলিগার্ক — তাদের মধ্যে ২০টি বৃহত্তম অর্থনীতির নেতা রয়েছেন।
- 📌 এই অলিগার্কদের নেতৃত্বাধীন দেশের সম্মিলিত অর্থনীতি বিশ্বের মোট ক্রয়ক্ষমতা-সমন্বিত মোট দেশজ উৎপাদনের ৫৪ শতাংশ।
- 📌 অলিগার্কদের মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ নিজের চেষ্টায় সম্পদশালী হয়েছেন — বাকি ৯৩ শতাংশ উত্তরাধিকার বা রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করেছেন।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের চার্লস কোচ ও রুপার্ট মারডক থেকে শুরু করে চীনের সি চিনপিং, রাশিয়ার পুতিন, সৌদি আরবের মোহাম্মদ বিন সালমান — তারা সবাই অর্থ ও ক্ষমতা একীভূত করেছেন।
- 📌 অলিগার্কদের প্রভাব বিস্তারের জন্য রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার প্রয়োজন নেই — তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আলোচনার বিষয় নির্ধারণ এবং জনমত প্রভাবিত করার ক্ষমতা ব্যবহার করেন।
📰 বিস্তারিত
অলিগার্ক বলতে বোঝায় এমন ব্যক্তিদের যারা অর্থের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষমতাও অর্জন করেন। অর্থাৎ সম্পদ ও ক্ষমতা একীভূত হয়ে তাদের হাতে চলে আসে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, অন্তত দুই কোটি ডলারের নিট সম্পদ থাকলে এবং অর্থ ও ক্ষমতার একীভূত হওয়ার প্রমাণ থাকলে একজন ব্যক্তিকে অলিগার্ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিশ্বের ৫৯ জন রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান অলিগার্কের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, সৌদি আরবের মোহাম্মদ বিন সালমান, চীনের সি চিনপিং, ইন্দোনেশিয়ার প্রাবোও সুবিয়ান্তো, তুরস্কের রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং নাইজেরিয়ার বোলা আহমেদ তিনুবু। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত দেশের সম্মিলিত অর্থনীতি বিশ্বের মোট ক্রয়ক্ষমতা-সমন্বিত মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৫৪ শতাংশ।
অলিগার্কদের মধ্যে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ শুরুতেই সম্পদের মালিক ছিলেন। দুই-পঞ্চমাংশ প্রথমে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করেছেন। বাকিরা সম্পদ ও ক্ষমতা একসঙ্গেই গড়ে তুলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশের উদাহরণ দেওয়া যায়। তারা রাজনৈতিক যোগাযোগ বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে সম্পদ ও ক্ষমতা একীভূত করেছেন।
অলিগার্কদের প্রভাব বিস্তারের জন্য রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা তিন ধরনের ক্ষমতা ব্যবহার করেন — সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, আলোচনার বিষয় নির্ধারণের ক্ষমতা এবং জনমত প্রভাবিত করার ক্ষমতা। যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো অলিগার্কদের মধ্যে রয়েছেন চার্লস কোচ ও রুপার্ট মারডক। কোচের সম্পদ দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান পার্টিকে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে মারডক তাঁর সংবাদমাধ্যমের সাম্রাজ্য ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করেছেন।
"অলিগার্করা ইতিমধ্যেই বিশ্বে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। আগামী কয়েক দশকেও এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী (বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, নাইজেরিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ৫৯ জন রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান অলিগার্ক (সি চিনপিং, ভ্লাদিমির পুতিন, মোহাম্মদ বিন সালমান, ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রাবোও সুবিয়ান্তো, রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, বোলা আহমেদ তিনুবু)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৯ জন অলিগার্ক নেতা, ২০টি বৃহত্তম অর্থনীতির নেতা, ৫৪% বিশ্ব অর্থনীতি, ৭% নিজের চেষ্টায় সম্পদশালী, ৯৩% উত্তরাধিকার/রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!