📌 নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির সামার রাইটিং প্রোগ্রামে অর্হ অপরাজিতা রাসয়াতের লেখা ‘দ্য হার্টস অব হোম’ পুরস্কার পেয়েছে। লেখাটি তার নিউইয়র্কে অভিযোগের অভিজ্ঞতা নিয়ে, যেখানে তিনি অনুভব করেছিলেন যে শহরটি তার বাড়ি নয়
নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিশু অর্হ অপরাজিতা রাসয়াতের লেখা ‘দ্য হার্টস অব হোম’-এ তিনি তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন যেখানে তিনি অনুভব করেছিলেন যে, শহরটি তার বাড়ি নয়। এই লেখাটি নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির সামার রাইটিং প্রোগ্রামে নন-ফিকশন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অর্হ অপরাজিতা রাসয়াত নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির সামার রাইটিং প্রোগ্রামে ‘দ্য হার্টস অব হোম অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন।
- 📌 লেখাটি তার নিউইয়র্কে অভিযোগের অভিজ্ঞতা নিয়ে, যেখানে তিনি অনুভব করেছিলেন যে শহরটি তার বাড়ি নয়।
- 📌 লেখাটি ইংরেজিতে লেখা হয়েছে, বাংলা অনুবাদও প্রকাশিত হয়েছে।
- 📌 লেখায় তিনি শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি শামসুর রাহমানের ‘ট্রেনের বাড়ি কই?’ কবিতার মাধ্যমে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর কল্পনা করতেন।
- 📌 নিউইয়র্কে অভিযোগের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখাটিতে তিনি বর্ণনা করেছেন, কীভাবে তিনি নিজেকে অচেনা মনে করতেন এবং কীভাবে তার পরিচয় নিয়ে অন্যরা তাকে দেখতেন।
📰 বিস্তারিত
অর্হ অপরাজিতা রাসয়াতের লেখা ‘দ্য হার্টস অব হোম’ নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির সামার রাইটিং প্রোগ্রামে নন-ফিকশন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। এই পুরস্কারটি ‘দ্য হার্টস অব হোম অ্যাওয়ার্ড’ নামে পরিচিত। লেখাটি নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। লেখাটি ইংরেজিতে লেখা হয়েছে, তবে বাংলা অনুবাদও প্রকাশিত হয়েছে কিশোর আলোর পাঠকদের জন্য।
লেখাটিতে অর্হ তার শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, শামসুর রাহমানের ‘ট্রেনের বাড়ি কই?’ কবিতাটি তার খুব প্রিয় ছিল। কবিতাটি শুনলেই তিনি কল্পনা করতেন যে, তিনি ট্রেনে চড়ে মাঠ পেরিয়ে বনের ভেতর দিয়ে ছুটে যাচ্ছেন। তিনি মনে করতেন যে, ট্রেনটি তাকে দেশ-বিদেশ ঘুরিয়ে দেবে এবং তার ঘোরার কোনো শেষ নেই।
তিনি বলেছেন, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় একদিন তিনি ক্লাসের সবার সামনে দাঁড়িয়ে সেই কবিতাটি আবৃত্তি করেছিলেন। সেদিন ছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তার মা এবং বন্ধু জোয়ারের মা মিলে এই আয়োজন করেছিলেন। তারা ঠিক করেছিলেন যে, নিউইয়র্কের স্কুলে তারা নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং গল্পগুলো সবাইকে বলবেন। তিনি এবং তার মা লাল-সবুজ শাড়ি পরেছিলেন এবং সন্দেশ নিয়ে গিয়েছিলেন।
নিউইয়র্কে অভিযোগের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি লেখায় বলেছেন, তিনি মনে করতেন যে, নিউইয়র্কে থাকার অভিজ্ঞতা খুবই দারুণ হবে। কিন্তু এখানে এসে তিনি বুঝতে পারলেন যে, শহরটি যতই দারুণ হোক, এটি তার বাড়ি নয়। তিনি বলেছেন, মাঝেমধ্যে মনে হতো যে, তার সেই দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো ট্রেনটি হঠাৎ থেমে গেছে। তিনি অনুভব করেছিলেন যে, এখানে সবকিছুই তার কাছে অচেনা।
তিনি বর্ণনা করেছেন, নিউইয়র্কে তার পরিচয় নিয়ে অন্যরা তাকে দেখতেন। একদিন ক্লাসে একজন অতিথি এলে তিনি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তুমি কি চীনা?’ তার কথা শুনে পুরো ক্লাস হেসে উঠল। পরে তার মায়ের কাছে অভিযোগ গেল যে তিনি কারও জাতিগত পরিচয় নিয়ে মজা করছিলেন। তিনি বলেছেন, তিনি শুধু কৌতূহলী ছিলেন, কিন্তু নিউইয়র্কে কারও পরিচয় নিয়ে কথা বলা অন্যায় হতে পারে।
লেখায় তিনি বলেছেন, নিউইয়র্কে সারা পৃথিবীর মানুষ একসঙ্গে থাকে। প্রত্যেকের চেহারা, ভাষা, পোশাক, খাবার এবং সংস্কৃতি আলাদা। তিনি বলেছেন, তিনি কৌতূহল থেকে জানতে চাইতেন যে, কে পৃথিবীর কোন জায়গা থেকে এসেছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে চারপাশের বেশিরভাগ মানুষকে দেখতে মোটামুটি একই রকম মনে হতো। কিন্তু নিউইয়র্কে এত রকমের মানুষ দেখে তাদের সম্পর্কে জানতে চাওয়া তার কাছে স্বাভাবিক ছিল।
"আমি ভেবেছিলাম, নিউইয়র্কে থাকার অভিজ্ঞতা খুবই দারুণ হবে। কিন্তু এখানে এসেই বুঝলাম, শহরটি যতই দারুণ হোক, এটি আমার বাড়ি নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি, নিউইয়র্কের স্কুল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্হ অপরাজিতা রাসয়াত, শামসুর রাহমান, তার মা, বন্ধু জোয়ারের মা
- 📌 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৩ (নিউইয়র্কে আসার বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!