📌 ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি পদত্যাগ করেন বা সরকার পরিবর্তন হয়, তবুও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল হবে না। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাঝাত শামিম খান জানিয়েছেন, পরোয়ানাটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। নেতানিয়াহু পদত্যাগ করলে তিনি ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারাবেন এবং আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন
ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের ফলস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অস্থির হয়ে পড়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর জোটের মাধ্যমে যদি তাঁকে সরকার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবুও আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপগুলো তাঁর বিরুদ্ধে টিকে থাকবে। নেতানিয়াহু পদত্যাগ করলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল হবে না এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আনা গণহত্যা মামলাও থেমে যাবে না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পদত্যাগের পর তিনি ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারাবেন, যা কিছু দেশ তাঁকে গ্রেপ্তার না করার বাহানা হিসেবে ব্যবহার করেছে। ফলে তিনি আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং বিদেশি আদালতগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেতানিয়াহু পদত্যাগ করলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল হবে না।
- 📌 গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
- 📌 তুরস্কের আদালতেও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অনুপস্থিতিতে বিচার ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
- 📌 রোম সংবিধির ধারা ৫৮(৪) অনুসারে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর থাকবে, যতক্ষণ না আদালত অন্য নির্দেশ দেয়।
- 📌 আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাঝাত শামিম খান জানিয়েছেন, পরোয়ানা প্রত্যাহারের জন্য আদালত কোনো পদক্ষেপ নেননি।
- 📌 নেতানিয়াহু পদত্যাগ করলে তিনি ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারাবেন এবং আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন।
- 📌 রোম সংবিধির ধারা ২৭ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সরকারি পদমর্যাদা বিচারে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বর্তমানে অনিশ্চিত। যদি বিরোধী দলগুলোর জোটের মাধ্যমে তাঁকে সরকার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবুও আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপগুলো তাঁর বিরুদ্ধে টিকে থাকবে। নেতানিয়াহু পদত্যাগ করলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল হবে না। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাঝাত শামিম খান জানিয়েছেন, পরোয়ানাটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ব্যক্তিগত অপরাধমূলক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি পদে বহাল থাকছেন কি না, তার ওপর এই অপরাধের বিচারকাজ নির্ভর করছে না। তবে বিচারকাজ কেবল তখনই শুরু হতে পারে, যদি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হস্তান্তর করা হয়।
গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। গত বছর গাজাগামী একটি ত্রাণ বহরে ইসরায়েলের বাধা দেওয়ার ঘটনার জেরে নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তুরস্কের আদালতেও নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতিতে বিচার ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
রোম সংবিধির ধারা ৫৮(৪) অনুসারে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর থাকবে, যতক্ষণ না আদালত অন্য নির্দেশ দেয়। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাঝাত শামিম খান সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিলেন, পরোয়ানা প্রত্যাহারের জন্য আদালত কোনো পদক্ষেপ নেননি। তবে ইসরায়েল এখনো আদালতের এখতিয়ার নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছে, যার মূল ভিত্তি হলো তারা আদালতের প্রতিষ্ঠাতা চুক্তি ‘রোম সংবিধি’–এর সদস্য নয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে আইসিসির আপিল চেম্বার প্রাক্–বিচার চেম্বারকে ইসরায়েলের এ চ্যালেঞ্জটি পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দেন। তবে বিচারকেরা বিচারপ্রক্রিয়ার সময় পরোয়ানা স্থগিত রাখতে রাজি হননি।
নেতানিয়াহু পদত্যাগ করলে তিনি ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারাবেন। আইসিসির ক্ষেত্রে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকা নেতানিয়াহুকে কোনো দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। রোম সংবিধির ধারা ২৭–এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারি পদমর্যাদা বিচারে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। আদালতের অবস্থান হলো, পদের সঙ্গে থাকা দায়মুক্তি বা ‘ইমিউনিটি’ কোনো আসামিকে তাঁর বিচারিক এখতিয়ার থেকে রক্ষা করে না।
"রোম সংবিধির ধারা ২৭–এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারি পদমর্যাদা বিচারে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। আদালতের অবস্থান হলো, পদের সঙ্গে থাকা দায়মুক্তি বা ‘ইমিউনিটি’ কোনো আসামিকে তাঁর বিচারিক এখতিয়ার থেকে রক্ষা করে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল, রোম, তুরস্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নাঝাত শামিম খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ধারা ৫৮(৪), ধারা ২৭
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!