📌 ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু ১৮ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও জেনোসাইড ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় কাটিয়ে ওঠার জন্য নিজেকে শিকার হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি নির্বাচনের আগে 'গভীর রাষ্ট্র' ও বিদেশি হস্তক্ষেপের দায়ে নিজেকে মুক্তি চাইছেন
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু ১৮ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও গাজায় জেনোসাইড ও দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় কাটিয়ে ওঠার জন্য নিজেকে শিকার হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি ১৩তম সাংসদীয় নির্বাচনের আগে 'গভীর রাষ্ট্র' ও বিদেশি হস্তক্ষেপের দায়ে নিজেকে মুক্তি চাইছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেতানিয়াহু ১৮ বছর ধরে তিনবার প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও গাজায় জেনোসাইড ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় কাটিয়ে ওঠার জন্য নিজেকে শিকার হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
- 📌 তিনি হামাসের ২০২৩ সালের আক্রমণের পূর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাকে সতর্কবার্তা দিয়েছিল, কিন্তু এই দাবিকে তিনি 'বিদেশি হস্তক্ষেপ' বলে প্রত্যাখ্যান করছেন।
- 📌 নেতানিয়াহু একটি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে নিজেকে 'বুলি' শিশু হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যেখানে তার বিরোধীরা তাকে 'বিবি' (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) ছাড়া নির্বাচন করতে চায়।
- 📌 তিনি 'গভীর রাষ্ট্র' ও 'প্রাচীন এলিট'কে দায়ী করে নিজেকে তাদের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যা তার ভোটারদের মধ্যে শিকার মনোভাব জাগিয়ে তুলছে।
- 📌 নেতানিয়াহু ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের মধ্যে 'ইরগুন' মিলিটিয়া গ্রুপের 'দমন' নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বক্তৃতা চলছে, যেখানে তারা নিজেদেরকে ঐ গ্রুপের উত্তরসূরি হিসেবে দাবি করছেন।
- 📌 নেতানিয়াহু হামাসের ২০২৩ সালের আক্রমণে নিজের দায় কাটিয়ে ওঠার জন্য দাবি করেছেন যে 'রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তারা' তাকে জাগিয়ে দিতে চায়নি, যা তিনি নিজের সাফল্যের দাবি হিসেবে ব্যবহার করছেন।
📰 বিস্তারিত
বেনজামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সর্বাধিক নির্বাচনী সফল এবং দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গাজায় জেনোসাইড ও দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় কাটিয়ে ওঠার জন্য নিজেকে শিকার হিসেবে উপস্থাপন করছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ১৩তম সাংসদীয় নির্বাচনের আগে 'গভীর রাষ্ট্র' ও বিদেশি হস্তক্ষেপের দায়ে নিজেকে মুক্তি চাইছেন।
শুধু গাজা নয়, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতাও কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। তিনি নিজেকে 'প্রতিবাদী' হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যিনি 'প্রাচীন এলিট' ও 'গভীর রাষ্ট্র'ের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। ইসরায়েলের রাজনৈতিক মনোবিজ্ঞানী নেটা ওরেন জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আল জাজিরার সাথে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, নিজেকে শিকার হিসেবে উপস্থাপন করা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
"বছর ধরে তিনি নিজেকে 'লোকদের প্রতিনিধি' হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যিনি 'এলিট'র বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। কিন্তু যখন তুমি ইসরায়েলের ইতিহাসে সর্বদীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী হয়ে পড়ো, তখন কী হয়?" তিনি বলেন। "নেতানিয়াহুর সমাধান হচ্ছে তার ব্যর্থতাগুলো অন্য শক্তির দায়ে দিতে এবং নিজেকে তাদের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করা। তার ভোটারদের মধ্যে শিকার মনোভাব এবং তাদের 'প্রাচীন এলিট'র প্রতি ঘৃণা এতই শক্তিশালী যে এই ফ্রেমিং এখনও তার সমর্থন বজায় রাখার কার্যকর রাজনৈতিক সরঞ্জাম হতে পারে।"
অতীতের দাবি ও বিতর্কের দিকে ফিরে দেখলে দেখা যায়, নেতানিয়াহু ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের মধ্যে 'ইরগুন' মিলিটিয়া গ্রুপের 'দমন' নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বক্তৃতা চলছে। এই গ্রুপটি ১৯৪৯ সালে ইসরায়েলের প্রথম সরকারের অধীনে দমন করা হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন ডেভিড বেন-গুরিয়ন। ইরগুন গ্রুপটি প্যালেস্টাইন ম্যান্ডেটের সময় শত শত প্যালেস্টাইনীয় নাগরিক ও ব্রিটিশ সৈন্য হত্যা করেছিল। এই প্রতিযোগিতামূলক বক্তৃতায় তারা নিজেদেরকে ঐ গ্রুপের উত্তরসূরি হিসেবে দাবি করছেন।
নেতানিয়াহু হামাসের ২০২৩ সালের আক্রমণে নিজের দায় কাটিয়ে ওঠার জন্য দাবি করেছেন যে 'রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তারা' তাকে জাগিয়ে দিতে চায়নি। তিনি বলেছেন, যদি তারা তাকে জাগিয়ে দিত, তাহলে তিনি আক্রমণটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু প্র-রাজনৈতিক চ্যানেল ১৪-এ বলেছেন যে, বিরোধী দলের নেতা ও প্রাক্তন জেনারেল ইয়াইর গোলানের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয় তিনি আক্রমণে জড়িত ছিলেন।
"গভীর রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ" এবং "বিদেশি হস্তক্ষেপ" — এই দাবিগুলো নেতানিয়াহু নিজের সমালোচনার মুখে দাঁড়াতে ব্যবহার করছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল, গাজা, ইসরায়েলের সংসদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনজামিন নেতানিয়াহু, ইতামার বেন-গভির, নেটা ওরেন, সারা নেতানিয়াহু, ইয়াইর গোলান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ বছর (প্রধানমন্ত্রী হিসেবে), ১৩তম নির্বাচন, ২০২৩ সালের হামাস আক্রমণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!