📌 হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে অন্তত ৭৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারে ব্যস্ত। মৃতদেহ শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা, ৩১ আগস্ট ২০২৬: হিমালয়ের পাদদেশে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল ও তিব্বতে মৃতদেহ দাফনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত বুধবার হিমবাহ ধসে সৃষ্ট প্রবল পানির স্রোতে গ্রাম ও শহর ভেসে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৭৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭৯৭ জনের
- 📌 এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন
- 📌 নিখোঁজদের মধ্যে তিব্বতের কৈলাস পর্বতগামী তীর্থযাত্রী ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ শ্রমিক রয়েছেন
- 📌 নেপালি সেনাবাহিনী ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে এই দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গত বুধবার হিমালয়ের পর্বতগাত্র থেকে হিমবাহ ধসে প্রবল পানির স্রোত নেমে আসে। এই স্রোতের তোড়ে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের অসংখ্য গ্রাম ও শহর ভেসে যায়। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা মৃতদেহ উদ্ধারে ব্যস্ত থাকলেও এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকরা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন। প্রকল্প এলাকায় প্রবল পানির স্রোতে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রমিক সুরেন্দ্র দৌলুরি জানান, ‘আমরা প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পাই। এরপর দেখি টারবাইন ফ্লোর কাদা ও পানিতে ডুবে গেছে। সেখানে ছয়জন শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের মধ্যে পাঁচজনকে উদ্ধার করতে পেরেছিলাম। তবে একজনের মৃত্যু হয়েছে।’
নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রোববার রাতভর ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। খনন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় কাজ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। পরে পরিস্থিতির উন্নতি হলে উদ্ধারকাজ পুনরায় শুরু করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে সৃষ্ট প্রবল স্রোতের কারণে বিশাল কয়েকটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এসব হ্রদ উদ্ধারকাজে নতুন কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা।
‘আমরা খুব জোরে একটি শব্দ শুনতে পাই। এরপর দেখি টারবাইন ফ্লোর কাদা ও পানিতে ডুবে গেছে। সেখানে ছয়জন শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন।’ — সুরেন্দ্র দৌলুরি, উদ্ধার হওয়া শ্রমিক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চল
- 👥 মৃত্যু: ৭৯৭ জন
- 👥 নিখোঁজ: তিন হাজার ৪৮ জন
- 🔢 জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকা শ্রমিক: ৯৩৩ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!