📌 নেপালের ত্রিশূলি উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যার সময় প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্তে ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। স্কুল ভবন নদীতে ভেসে গেলেও তাঁর নেতৃত্বে সবাই নিরাপদে উদ্ধার হন
নেপালের ত্রিশূলি উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সময় প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্তে ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। গত ২৬ আগস্ট দেশটির উত্তর-মধ্যাঞ্চলের ওই এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ভূমিধসে স্কুল ভবন নদীতে ভেসে গেলেও তাঁর সাহসী পদক্ষেপে সবাই নিরাপদে উদ্ধার হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালের ত্রিশূলি উপত্যকায় ২৬ আগস্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে
- 📌 ত্রিভুবন ত্রিশূলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি (৪৭) দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর প্রাণ রক্ষা করেন
- 📌 ঘটনার সময় স্কুলে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, আরও ৭০০ শিক্ষার্থী আসছিল
- 📌 প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে সব বাস ফিরিয়ে নেওয়া হয়, শেষ মুহূর্তে স্কুল চত্বরে পানি প্রবেশ শুরু করে
- 📌 স্কুলের শিক্ষক সান্তোস পারিয়া (৩২) বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 নেপাল ও তিব্বতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৭৫০ ছাড়িয়ে গেছে, নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ
📰 বিস্তারিত
নেপালের উত্তর-মধ্যাঞ্চলের ত্রিশূলি উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সময় প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্তে ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। ঘটনার দিন সকালে এক বন্ধুর ফোনে তিনি জানতে পারেন, স্কুল থেকে প্রায় পাঁচ মাইল উজানে একটি গ্রাম নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে। তখন স্কুলে ইতিমধ্যে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, আরও প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী আসছিল।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক প্রধান শিক্ষককে সতর্ক করেন যে নদীর পানি দ্রুত স্কুলের দিকে এগিয়ে আসছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দাওয়াদি দ্রুত স্কুলমুখী বাসগুলোর চালকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। একটি ছাড়া প্রায় সব বাসের চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি তাদের ফিরে যেতে নির্দেশ দেন। এর মধ্যেই স্কুলের চত্বরে হঠাৎ পানির তীব্র স্রোত প্রবেশ করতে শুরু করে।
শেষ বাসটিকে তিনি ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। দাওয়াদি জানান, বাসটি সেতুর অপর প্রান্তে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেতুটি ভেঙে পড়ে। এরপর স্কুলের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। আতঙ্কে এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে নিরাপদ স্থানে পাঠানো হয়। অন্য শিক্ষার্থীদের যত দ্রুত সম্ভব পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠে যেতে বলেন তিনি।
ভয়ে কাঁপতে থাকা শিক্ষার্থীরা পাহাড়ের ওপরে উঠে একটি বোধিবৃক্ষের নিচে আশ্রয় নেয়। প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসী পদক্ষেপে মোট ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা পায়। তবে স্কুলের একজন শিক্ষককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ৩২ বছর বয়সী সমাজ ও ইতিহাসের শিক্ষক সান্তোস পারিয়া সেদিন অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার জন্য সকালে স্কুলে এসেছিলেন। বন্যার পানিতে তিনি ভেসে যান।
"বাসটি সেতুর অপর প্রান্তে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেতুটি ভেঙে পড়ে। এরপর স্কুলের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে তাদের দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ত্রিশূলি উপত্যকা, নেপাল
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: রাজেন্দ্র দাওয়াদি (প্রধান শিক্ষক, ৪৭ বছর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ৬৪৩ শিশু, ৭৫০ মৃত্যু, ৫ হাজার নিখোঁজ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!