📌 নেপালের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ধসে শতাধিক মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন মৃতদেহ সংরক্ষণ ও শনাক্তকরণে হিমশিম খাচ্ছে। হিমায়িতকরণ ব্যবস্থার সংকটে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে
নেপালের মধ্যাঞ্চলে ত্রিশূলী, মারস্যাংদী ও নারায়ণী নদীর অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন মৃতদেহ সংরক্ষণ, শনাক্তকরণ ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরে ব্যর্থ হচ্ছে। হাসপাতালগুলোর লাশঘর পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় কমিউনিটি সেন্টার ও পুলিশ কম্পাউন্ডগুলোকে অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালের চিতওয়ান জেলায় ২৩৩টি ও পূর্ব নওয়ালপরাসী জেলায় ১৫৪টি মৃতদেহ উদ্ধার
- 📌 হিমায়িতকরণ ব্যবস্থার তীব্র সংকটে মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে
- 📌 পোখরা একাডেমি অব হেলথ সায়েন্সেসের মর্গে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ১০২টি মৃতদেহ সংরক্ষিত
- 📌 মৃতদেহ শনাক্তকরণে উল্কি, গয়না, পোশাক ও ডিএনএ পরীক্ষার ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি
- 📌 প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণসমাধির আগে প্রতিটি মৃতদেহের স্থায়ী আইডেন্টিফিকেশন নম্বর সংরক্ষণ
📰 বিস্তারিত
নেপালের মধ্যাঞ্চলের ত্রিশূলী, মারস্যাংদী ও নারায়ণী নদীর অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলো সংরক্ষণ ও শনাক্তকরণে স্থানীয় প্রশাসন চরম হিমশিম খাচ্ছে। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত চিতওয়ান জেলায় ২৩৩টি ও পূর্ব নওয়ালপরাসী জেলায় ১৫৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গোর্খা, ধাদিং, নুওয়াকোট, তানাহুন, পশ্চিম নওয়ালপরাসী ও রাসুয়া জেলায় আরও বহু মৃতদেহ ছড়িয়ে রয়েছে।
চিতওয়ানের ভরতপুরে বিদ্যুৎ অফিস রোডের অস্থায়ী লাশ কেন্দ্রের বাইরে শতাধিক স্বজন মৃতদেহ খুঁজতে ভিড় জমিয়েছেন। বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া মৃতদেহগুলো কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। বহু মৃতদেহ কাদা ও পাথরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় মুখ দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উল্কি, গয়না, পোশাক, আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ পরীক্ষার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পূর্ব নওয়ালপরাসীর মধ্যবিন্দু পৌর হাসপাতালে এক স্বজন সুমন গোলার মৃতদেহ তাঁর মামা উমেশ স্যাংবো শুধুমাত্র বুকের উল্কি দেখে শনাক্ত করেন।
চিতওয়ানের প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল জানিয়েছেন, শুষ্ক বরফ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে মৃতদেহ রাখা হলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। ভরতপুর কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবী সুবাস সুনার বলেন, ‘লাশঘরের বাইরের দুর্গন্ধ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের জন্য অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপালের মধ্যাঞ্চল, চিতওয়ান, পূর্ব নওয়ালপরাসী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুমন গোলা, উমেশ স্যাংবো, গণেশ আরিয়াল, সুবাস সুনার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩৩, ১৫৪, ৪৮ ঘণ্টা, ১০২, ৮৮, ২-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১০-১৪ দিন
"লাশঘরের বাইরের দুর্গন্ধ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের জন্য পাশে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চরম জনস্বাস্থ্য সংকট দেখা দেবে।" — স্বেচ্ছাসেবী সুবাস সুনার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!