📅 ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

নেপালের বন্যায় হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে খুঁজতে দুই হাজার টাকা ধার করে শত শত কিলোমিটার হেঁটে চলেছেন বাবা

নেপালের বন্যায় হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে খুঁজতে দুই হাজার টাকা ধার করে শত শত কিলোমিটার হেঁটে চলেছেন বাবা

📷 ছবি: আল জাজিরা

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 Al Jazeera ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 নেপালের বিধ্বংসী বন্যায় হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে খুঁজতে দুই হাজার টাকা ধার করে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছেন এক হতভাগ্য বাবা। তাঁর অভিযোগ, জাতিগত বৈষম্যের কারণে সরকারি ত্রাণ ও তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা।

কাঠমান্ডু/নুয়াকোট, নেপাল — তালকা সদার নামের এক হতাশাগ্রস্ত বাবার চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। কয়েক দিন ধরে নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে হেঁটে হেঁটে তাঁর পায়ের গোড়ালি ব্যথায় ফুলে উঠেছে। ক্ষুধায় ও রাগে তাঁর মন বিষিয়ে উঠলেও তাঁর একমাত্র লক্ষ্য তাঁর হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে খুঁজে পাওয়া। সদার যখন পঞ্চাশের কাছাকাছি, তখন তাঁর ছেলে ১৯ বছর বয়সী বিনোদকে সর্বশেষ কথা বলেছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিধ্বংসী বন্যায় উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 তালকা সদারের ছেলে বিনোদ উত্তর নেপালের রসুয়া জেলায় একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন
  • 📌 ২৬ আগস্টের বিধ্বংসী বন্যায় বিনোদসহ চারজন শ্রমিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন
  • 📌 সদার দুই হাজার নেপালি রুপি ধার করে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ছেলেকে খুঁজছেন
  • 📌 সদারের অভিযোগ, জাতিগত বৈষম্যের কারণে সরকারি ত্রাণ ও তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা

📰 বিস্তারিত

তালকা সদারের পরিবার নেপালের সপ্তরী জেলার বাসিন্দা। তাঁদের মতো মধেশি সম্প্রদায়ের মানুষেরা মূলত নেপালের তরাই অঞ্চলে বসবাস করেন। সদারের স্ত্রী এখনও তাঁর ছেলের জন্য কাঁদছেন বলে জানান সদার। তিনি বলেন, “আমি আপনাকে বলতে পারব না আমার স্ত্রী কতটা কাঁদছে। আমিও প্রচণ্ড ব্যথায় ভুগছি, আর জানি না কী করব।” সদার তাঁর ছেলেকে সর্বশেষ কথা বলেছিলেন ২৫ আগস্ট, যখন বিনোদ তাঁকে জানিয়েছিলেন তিনি রসুয়া জেলায় কাজ করছেন।

বিধ্বংসী বন্যায় উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। বন্যায় ঘরবাড়ি, স্কুল, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। সদারের ছেলে বিনোদসহ চারজন শ্রমিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। সদার তাঁর ছেলেকে খুঁজতে দুই হাজার নেপালি রুপি ধার করেন। তিনি বলেন, “আমি সপ্তরী থেকে এখানে আসতে টাকা ধার করেছি। প্রতি একশো রুপির বিপরীতে আমাকে বিশ রুপি সুদ দিতে হবে।”

সদার ও তাঁর ভাই সপ্তরী থেকে জাতীয় রাজধানী কাঠমান্ডু পর্যন্ত প্রায় ২৯২ কিলোমিটার পথ বাসে যান। পাহাড়ি অঞ্চলের কারণে এই যাত্রায় নয় ঘণ্টা সময় লাগে। কাঠমান্ডুতে তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলেকে খুঁজতে যান। অনেক বন্যার্তকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসা হয়েছিল। সদার বলেন, “মর্গের সামনে রাখা ছবিগুলো প্রায়ই চিনতে কষ্ট হয়। বেশিরভাগ মৃতদেহই পচে গেছে বা বিকৃত হয়ে গেছে।” তাঁর ছেলের কোনো চিহ্নই পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালে কোনো সন্ধান না পেয়ে সদার ও তাঁর ভাই কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে নুয়াকোটের দিকে হাঁটা শুরু করেন। তাঁরা ট্রিশুলিতে পৌঁছান, যেখানে এখনও ধ্বংসস্তূপ ও কাদা জমে রয়েছে। সদার বলেন, “গত রাতে এখানে পৌঁছে এক লজে আমাদের রাত কাটাতে এক হাজার পাঁচশো নেপালি রুপি দিতে হয়েছে। তাঁরা আমাদের এক ছোট্ট ভাতের ব্যবস্থা করেছিলেন, যা আমাদের ক্ষুধাও মেটাতে পারেনি।” সদার আরও বলেন, “যদি আমাদের আরেক রাত এখানে থাকতে হয়, তাহলে আমাদের শেষ টাকাটাও শেষ হয়ে যাবে।”

“আমি আপনাকে বলতে পারব না আমার স্ত্রী কতটা কাঁদছে। আমিও প্রচণ্ড ব্যথায় ভুগছি, আর জানি না কী করব।”
“আমি সপ্তরী থেকে এখানে আসতে টাকা ধার করেছি। প্রতি একশো রুপির বিপরীতে আমাকে বিশ রুপি সুদ দিতে হবে।”
“গত রাতে এখানে পৌঁছে এক লজে আমাদের রাত কাটাতে এক হাজার পাঁচশো নেপালি রুপি দিতে হয়েছে। তাঁরা আমাদের এক ছোট্ট ভাতের ব্যবস্থা করেছিলেন, যা আমাদের ক্ষুধাও মেটাতে পারেনি।”

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: কাঠমান্ডু ও নুয়াকোট, নেপাল
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তালকা সদার
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই হাজার নেপালি রুপি, বিশ রুপি, একশো রুপি, নয় ঘণ্টা, ২৯২ কিলোমিটার

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖