📌 নেপালের ত্রিশূলী নদীর ওপর নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজারের বেশি মানুষ। সেনাবাহিনী ও বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বেঁচে ফেরা শ্রমিকরা জানিয়েছেন, প্রবল বাতাস আর পানির ধাক্কায় তাঁরা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়েছিলেন
নেপালের ত্রিশূলী নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের মুখে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। গত সপ্তাহের এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া চার হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত রয়েছেন নেপালের সেনাবাহিনী, চীন-ভারতের বিশেষজ্ঞ দল এবং প্রকৌশলীরা। তাঁরা খননযন্ত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গ থেকে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালের ত্রিশূলী নদীর ওপর নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে
- 📌 নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজারের বেশি মানুষ, যাঁদের মধ্যে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিক রয়েছেন বলে আশঙ্কা
- 📌 সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ১১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে
- 📌 নেপালের বিদ্যুতের ৯৯ শতাংশই আসে জলবিদ্যুৎ থেকে, যার বেশিরভাগই উৎপাদিত হয় ত্রিশূলী নদীর ওপর নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো থেকে
- 📌 বেঁচে ফেরা শ্রমিক পেমবা দুনদু তামাং জানিয়েছেন, প্রবল বাতাস আর পানির ধাক্কায় তিনি প্রাণ বাঁচাতে দৌড়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
ত্রিশূলী নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘আপার ত্রিশূলী ৩বি’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কাজ করছিলেন প্রায় ৩০ জন শ্রমিক। হঠাৎ প্রবল বাতাসের ঝাপটা আর পাহাড়ি ঢলের পানির ধাক্কায় তাঁরা বিপদে পড়েন। পেমবা দুনদু তামাং নামে এক শ্রমিক বিবিসিকে জানান, তিনি সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। পেছন থেকে ধেয়ে আসা পানির ধাক্কা থেকে প্রাণ বাঁচাতে তিনি প্রায় বিশ মিনিট দৌড়েছিলেন। পরে তিনি পাহাড়ের দিকে উঠে যান এবং প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন।
তামাংয়ের পরিবারের ছয় সদস্য এই দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তাঁর মা, বড় ভাই, ভাবি ও তাঁদের তিন সন্তান রয়েছেন। তামাংয়ের স্ত্রী, ছেলে ও এক ভাতিজা অবশ্য বেঁচে গেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন আমার কাছে জীবন অর্থহীন মনে হয়। বেঁচে থাকাটাই কষ্টের।’
এদিকে তামাংয়ের সহকর্মী ইথা ঘালেও বেঁচে ফিরেছেন। তিনি জানান, দৌড়ানোর সময় প্রবল বাতাস তাঁদের প্রায় উড়িয়ে নিচ্ছিল। ঘালেও তাঁর পরিবারের আট সদস্য হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তাঁর মা ও বড় মেয়ে রয়েছেন। যদিও তাঁর স্ত্রী ও তিন ছেলে বেঁচে গেছেন।
নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত এএফপিকে জানান, তাঁরা সুড়ঙ্গগুলোয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে মনোযোগ দিচ্ছেন। সেনারা মরদেহ উদ্ধার ও রোগের বিস্তার ঠেকাতে কাজ করছে। এছাড়া প্রকৌশলীরা সুড়ঙ্গে বাতাস সরবরাহের কাজ করছেন যাতে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানো যায়।
‘আমাদের সুড়ঙ্গগুলোয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে মনোযোগ দিচ্ছি। কাজ চলছে। সেনারা মরদেহ উদ্ধার ও রোগের বিস্তার ঠেকাতে কাজ করছে।’ — রাজা রাম বাসনেত, সেনাবাহিনীর মুখপাত্র
উল্লেখ্য, নেপালে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৯৯ শতাংশই আসে জলবিদ্যুৎ থেকে। ত্রিশূলী নদীর ওপর নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো আগামী বছর চালু হওয়ার কথা ছিল। এই প্রকল্পগুলো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে বলে পরিকল্পনা ছিল। তবে দুর্যোগের পর প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে গেলে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ত্রিশূলী নদী, নেপাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পেমবা দুনদু তামাং, ইথা ঘালে, রাজা রাম বাসনেত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ জন শ্রমিক, ১ হাজার মৃত্যু, ৪ হাজার নিখোঁজ, ১১৯ জন উদ্ধার, ৯৯ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!