📌 নেপালে প্রবল বন্যায় মৃতদেহ ভেসে যাচ্ছে শতাধিক মাইল দূরের জেলায়। মর্গে স্থান সংকট দেখা দেওয়ায় সংশ্লিষ্টরা হিমশিম খাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৪৭ থেকে ৫৭৯ জন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে
নেপালে চলমান ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতদেহ ভেসে যাচ্ছে দূরবর্তী জেলাগুলোতেও। এতে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় মর্গগুলোতে স্থান সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তরের কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালের রাসুয়া জেলা থেকে প্রায় ২৫০ মাইল দূরের লুম্বিনি প্রদেশেও মৃতদেহ উদ্ধার
- 📌 ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারেও মূল দুর্যোগ এলাকা থেকে ১০০ মাইলের বেশি দূরে তিনটি মৃতদেহ পাওয়া যায়
- 📌 চিতওয়ান জেলার একটি হাসপাতালে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০টি মৃতদেহ রাখা সম্ভব হলেও বর্তমানে প্রায় ২৫০টি মৃতদেহ রাখার জন্য অস্থায়ী মর্গ তৈরি করা হচ্ছে
- 📌 গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চিতওয়ান এলাকায় ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীর থেকে ১৩৭টি মৃতদেহ উদ্ধার
- 📌 নেপালজুড়ে উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার
- 📌 এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৪৭ থেকে ৫৭৯ জন পর্যন্ত বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ
📰 বিস্তারিত
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃতদেহ ভেসে যাচ্ছে শতাধিক মাইল দূরের জেলায়। গত বুধবার প্রবল বন্যায় রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার বহু মানুষ প্রাণ হারান। তবে পানির তীব্র স্রোতে তাদের অনেকের মৃতদেহ ভেসে চলে যায় ভাটির দিকে। পরে চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপারাসি ও অন্যান্য জেলায় মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।
একটি মৃতদেহ রাসুয়া থেকে প্রায় ২৫০ মাইল দূরের লুম্বিনি প্রদেশেও পাওয়া গেছে। নেপালের সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারেও মূল দুর্যোগ এলাকা থেকে ১০০ মাইলের বেশি দূরে তিনটি মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। মৃতদেহ উদ্ধারের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় কয়েকটি জেলার হাসপাতাল ও মর্গে দেখা দিয়েছে তীব্র স্থান সংকট।
নুয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপারাসির মর্গগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় কিছু মৃতদেহ পার্শ্ববর্তী জেলার মর্গে পাঠানো হচ্ছে। চিতওয়ানেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০টি মৃতদেহ রাখা সম্ভব। কিন্তু মৃতদেহের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ২৫০টি মৃতদেহ রাখার সক্ষমতা নিয়ে একটি অস্থায়ী মর্গ তৈরি করা হচ্ছে।
"প্রিয়জন নিখোঁজ থাকার খবর পেয়ে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখন চিতওয়ান ও আশপাশের এলাকায় ছুটে আসছেন। অনেকে হাসপাতাল ও মর্গে ঘুরে স্বজনদের খোঁজ করছেন। মৃতদেহ শনাক্ত করা এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।"
গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চিতওয়ান এলাকায় ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীর থেকে ১৩৭টি মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। এরপরও সেখানে নতুন করে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। নেপালজুড়ে নিখোঁজ ও জীবিতদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অন্তত ৫ হাজার সদস্য কাজ করছেন। হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উপায়ে দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তবে দুর্যোগের পর নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় শুক্রবার উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভূমিধস ও ধ্বংসাবশেষে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দুটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলোর পানি উপচে পড়লে আবারও পাহাড়ি ঢল নেমে নতুন বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া রাসুয়ার উঁচু এলাকায় অবস্থিত ত্রিশূলী বাজারে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল (রাসুয়া, নুয়াকোট, চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপারাসি, লুম্বিনি), ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্বজনরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০ মাইল, ১০০ মাইল, ৩০ থেকে ৫০টি, ২৫০টি, ১৩৭টি, ৫ হাজার, ৫৪৭ থেকে ৫৭৯ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!