📌 হিমালয়ের হিমবাহ ধসজনিত ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও চীনে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজার চারশ’র বেশি মানুষ। উদ্ধারকর্মীরা এখনও বিচ্ছিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন
হিমালয়ের হিমবাহ ধসজনিত ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও চীনে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজার চারশ’র বেশি মানুষ। উদ্ধারকর্মীরা বিচ্ছিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালে মৃত্যু হয়েছে ৯৮৭ জনের, নিখোঁজ ৩ হাজার ৯১৬ জন
- 📌 চীনে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের, নিখোঁজ ৫৪৬ জন
- 📌 উদ্ধারকর্মীরা বিচ্ছিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন
- 📌 নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘হাজার হাজার নাগরিক তাদের ঘরবাড়ি, পরিবার ও প্রিয়জন হারিয়েছেন’
- 📌 নেপালের পুলিশ কর্মকর্তা বিপিন রেগমি বলেছেন, ‘আমরা নতুন এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি এবং মৃতদেহ উদ্ধার করছি’
📰 বিস্তারিত
২৬ আগস্ট হিমালয়ের হিমবাহ ধসজনিত ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত ঘটে। হিমবাহের তলদেশের শিলাস্তরের ব্যর্থতার কারণে এই বিপর্যয় ঘটে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। ভূমিধস ও হিমবাহ গলনের ফলে সৃষ্ট প্লাবনে দুই দেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৯৮৭ জনের। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন, যার মধ্যে বিদেশি নাগরিক রয়েছেন ৫৮৩ জন। চীনেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন, যার মধ্যে বিদেশি নাগরিক রয়েছেন ২৬১ জন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, ‘হাজার হাজার নাগরিক তাদের ঘরবাড়ি, পরিবার, প্রিয়জন ও সম্পত্তি হারিয়েছেন। সরকার তাদের অসীম যন্ত্রণা বুঝতে পারছে। সামনের পথ হলো তাদের এই দুঃখের সময়ে সহায়তা করা এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সাহায্য করা।’
উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে নুয়াকোট জেলার মতো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রাস্তাঘাট পুনর্নির্মাণ করেছেন, যার ফলে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা সহজ হয়েছে। এছাড়া ভারত ও চীন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছে। তারা দূরবর্তী এলাকায় পৌঁছানোর জন্য বেইলি সেতু নির্মাণ করছে।
নেপাল পুলিশের কর্মকর্তা বিপিন রেগমি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘আমরা নতুন এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি এবং মৃতদেহ উদ্ধার করছি।’ তিনি আরও জানান, নুয়াকোট জেলার বেত্রাবতী গ্রামের একটি বাড়ি থেকে ২৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এই বিপর্যয়ের পর নেপালে ত্রাণ হিসেবে চার কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য এসেছে বলে প্রধানমন্ত্রী শাহ জানিয়েছেন। সরকার আশা করছে, এই সাহায্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।
"হাজার হাজার নাগরিক তাদের ঘরবাড়ি, পরিবার, প্রিয়জন ও সম্পত্তি হারিয়েছেন। সরকার তাদের অসীম যন্ত্রণা বুঝতে পারছে। সামনের পথ হলো তাদের এই দুঃখের সময়ে সহায়তা করা এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সাহায্য করা।"
"আমরা নতুন এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি এবং মৃতদেহ উদ্ধার করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল ও চীন
- 👥 প্রধান ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ, পুলিশ কর্মকর্তা বিপিন রেগমি
- 🔢 মৃত্যু: ৯৮৭ জন (নেপাল), ১৬ জন (চীন)
- 🔢 নিখোঁজ: ৩ হাজার ৯১৬ জন (নেপাল), ৫৪৬ জন (চীন)
- 🔢 ত্রাণ সহায়তা: চার কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!