📌 ১৬৩১ সালের জুন মাসে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহলের মৃত্যু ঘটে প্রসব পরবর্তী জটিলতায়। তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন কন্যা জাহানারা। মুঘল ইতিহাসে তাঁদের ভালোবাসা অমর হয়ে আছে তাজমহলের নির্মাণের মধ্য দিয়ে
১৬৩১ সালের ১৭ জুন। দক্ষিণ ভারতের মুঘল কেন্দ্র বুরহানপুরে তীব্র গ্রীষ্মকাল। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের প্রিয় সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহল তাঁর চতুর্দশ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা প্রসববেদনার পর তাঁর একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু প্রসব পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। ইতিহাসবিদ সুপ্রিয়া গান্ধীর বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি সম্ভবত পোস্টপার্টাম হেমোরেজ নামক জটিলতার শিকার হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুঘল সম্রাট শাহজাহানের প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহলের মৃত্যু ঘটে ১৬৩১ সালের ১৭ জুন প্রসব পরবর্তী জটিলতায়
- 📌 তাঁর মৃত্যুকালে উপস্থিত ছিলেন তাঁর কন্যা জাহানারা, যিনি তখন ১৭ বছর বয়সী ছিলেন
- 📌 মমতাজ মহল ও শাহজাহানের দাম্পত্য জীবন ছিল ভালোবাসা ও পারস্পরিক অনুরাগে পরিপূর্ণ
- 📌 মুঘল ইতিহাসবিদদের মতে, মমতাজ মহলের মৃত্যু পরবর্তী শাহজাহানের শোক তাঁকে তাজমহল নির্মাণে অনুপ্রাণিত করে
- 📌 মমতাজ মহল মুঘল সম্রাটের স্ত্রীদের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক ভাতা পেতেন — ১০ লাখ রুপি
📰 বিস্তারিত
মুঘল সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজ মহলের প্রেমকাহিনী মুঘল ইতিহাসের অন্যতম ব্যথিত ও আলোচিত অধ্যায়। ১৬১২ সালে বিবাহিত এই দম্পতির দাম্পত্য জীবন ছিল ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় পরিপূর্ণ। শাহজাহান তাঁর স্ত্রীকে 'মমতাজ মহল' উপাধি প্রদান করেন, যার অর্থ 'প্রাসাদের সবচেয়ে পছন্দের নারী'। মুঘল ইতিহাসবিদদের মতে, তাঁদের দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেওয়া ১৩টি সন্তানের মধ্যে সাতজন শৈশবেই মৃত্যুবরণ করেন। জীবিত ছয় সন্তানের মধ্যে জাহানারা ছিলেন সবচেয়ে বড়, যিনি মায়ের মৃত্যুকালে তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন।
মমতাজ মহলের মৃত্যুকালে তাঁর শরীরে মুঘল চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসারে চার ধরনের তরলের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টার প্রসববেদনার পর তাঁর একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু প্রসব পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ তাঁর মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করে। ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি পোস্টপার্টাম হেমোরেজ নামক জটিলতার শিকার হন। মৃত্যুকালে মমতাজ মহল শাহজাহানকে তাঁর সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে যান।
"তবে অন্য কোনো সম্রাজ্ঞীর প্রাসাদ 'খাস মহলে'র মতো জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না। এ প্রাসাদে মমতাজ মহল শাহজাহানের সঙ্গে থাকতেন। খাঁটি সোনা ও মূল্যবান পাথরে সজ্জিত এ প্রাসাদে গোলাপজলের ফোয়ারা ছিল।"
"মুঘল সম্রাটের প্রত্যেক স্ত্রী মাসিক ভাতা পেতেন। সবচেয়ে বড় অঙ্ক ছিল বার্ষিক ১০ লাখ রুপি, যা শাহজাহান মমতাজ মহলকে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তাকে খুবই লাভজনক বহু জমি-জমাও দেওয়া হয়েছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বুরহানপুর, দক্ষিণ ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মমতাজ মহল, শাহজাহান, জাহানারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৩১ সাল, ১৭ জুন, ৩০ ঘণ্টা, ১০ লাখ রুপি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!