📌 মিয়ানমারের বিরল রত্ন জেড ও সোনার খনি নিয়ন্ত্রণ করে সেনাবাহিনী ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী। এই সম্পদ বিশ্ববাজারকে প্রভাবিত করে, বিশেষ করে টিনের দামে। আইসিজির অনুসন্ধানে দেখা যায়, খনির নিয়ন্ত্রণ বদলানোর ফলে চীনের টিন আমদানি ৩৭% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে
মিয়ানমারের বিরল রত্ন ‘স্বর্গের পাথর’ ও সোনার খনি বিশ্ববাজারকে প্রভাবিত করছে। এই খনিগুলো নিয়ন্ত্রণ করে সেনাবাহিনী বা বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা খনিজ সম্পদ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের জন্য অপরিহার্য। আইসিজির বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় উত্তোলিত টিন, সোনা ও জেডের বাণিজ্য কীভাবে বিশ্বের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিয়ানমারের ‘স্বর্গের পাথর’ ও সোনার খনি নিয়ন্ত্রণ করে সেনাবাহিনী বা জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী, যা বিশ্ববাজারকে প্রভাবিত করে
- 📌 মিয়ানমার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম টিন উৎপাদক, যেখানে চীনের ৯০% টিন আমদানি আসতো
- 📌 ২০২৩ সালে মান মাও খনিতে উৎপাদন বন্ধের ফলে টিনের দাম ১০% বৃদ্ধি পায়
- 📌 ২০২৬ সালের জুনে মিয়ানমার আবার চীনের সবচেয়ে বড় টিন সরবরাহকারীতে ফিরে আসে
- 📌 খনির নিয়ন্ত্রণ বদলানোর ফলে চীনের টিন আমদানি ৩৭% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়
- 📌 মিয়ানমারের খনিগুলোতে পানি জমে থাকায় ৫০০ কেজি আকরিক উত্তোলন করা সম্ভব হয় না
📰 বিস্তারিত
মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ‘মান মাও’ খনি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ টিনের উৎস। এই এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি (ইউডব্লিউএসএ)। ২০ হাজারেরও বেশি সদস্যের এই গোষ্ঠী কার্যত স্বশাসিত অঞ্চল পরিচালনা করে। ১৯৮৯ সাল থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের যুদ্ধবিরতি রয়েছে। ২০১০-এর দশকে মিয়ানমার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম টিন উৎপাদক দেশে পরিণত হয়। চীন ও ইন্দোনেশিয়ার পরেই ছিল দেশটির অবস্থান। মিয়ানমারের টিনের বড় অংশ আসতো মান মাও থেকে। সর্বোচ্চ উৎপাদনের বছরগুলোতে চীনের আমদানি করা টিন আকরিকের ৯০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করতো মিয়ানমার।
২০১০-এর দশকে মান মাওয়ে খনির দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটে। আগে বনাঞ্চল ছিল সেখানে, কিন্তু সড়ক, আকরিক রাখার জায়গা, খনির বর্জ্যের স্তূপ এবং শ্রমিকদের আবাসন গড়ে উঠে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে মিয়ানমার থেকে চীনে টিনের ঘন আকরিক রপ্তানির মূল্য বছরে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে ২০২৩ সালের এপ্রিলে সম্পদ নিরীক্ষার কথা বলে মান মাওয়ে খনন বন্ধের ঘোষণা দেয় ওয়া কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে টিনের দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, খনি বন্ধের পেছনে শুধু সম্পদ নিরীক্ষা ছিল না। মান মাওয়ের খনি পরিচালনাকারী সাতটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ, ওয়া নেতৃত্বে প্রজন্মের পরিবর্তন এবং খনির রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের ভূমিকা ছিল। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন খনি খননের অনুমতির আবেদন নেওয়া শুরু হয়। প্রথম অনুমতি দেওয়া হয় জুলাইয়ে। এরপর চীনে আকরিক পাঠানো আবার শুরু হয়। চলতি বছরের জুনে চীনের আমদানি করা টিন আকরিকের ৩৭ শতাংশ আসে মিয়ানমার থেকে। দেশটি আবার চীনের সবচেয়ে বড় একক সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে। যদিও উৎপাদন এখনো আগের পর্যায়ে ফেরেনি।
মিয়ানমারের খনিগুলোতে গভীর ও উন্নত মানের খনিজ থাকা খনিগুলোতে পানি জমে আছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১১টি খনিপথ থেকে পানি সরানোর খরচ ভাগাভাগির নিয়ম করে ওয়া কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, মিয়ানমারের খনিগুলোতে পানি জমে থাকায় ৫০০ কেজি আকরিক উত্তোলন করা সম্ভব হয় না।
"মিয়ানমারের সংঘাত মূলত ক্ষমতা, রাজনৈতিক পরিচয় ও জাতিগত স্বায়ত্তশাসনের লড়াই। তবে মূল্যবান খনিজ সম্পদের খনি ও বাণিজ্যপথের নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনী এবং তার বিরোধীদের অর্থ, অস্ত্র কেনার সামর্থ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সক্ষমতা দিচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিয়ানমার (উত্তর-পূর্বাঞ্চল, মান মাও)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি (ইউডব্লিউএসএ) নেতৃত্ব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ হাজার (ইউডব্লিউএসএ সদস্য), ৯০% (চীনের টিন আমদানি), ১০০ কোটি ডলার (বছরে টিন রপ্তানি), ৩৭% (চীনের টিন আমদানি), ১১টি (খনিপথ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!