📌 সের্বিয়ার দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ভুচিচ (৬৬) ছাত্র-নেতৃত্বাধীন 'স্টুডেন্ট লিস্ট' আন্দোলনের কাছে পরাজিত হন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রেন স্টেশনে দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুর পর শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনটি নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে আসে এবং ভোটার অংশগ্রহণের রেকর্ড ৩০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছায়। ভুচিচ নিজে পরাজয় স্বীকার করেন।
সের্বিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী আলেক্সান্ডার ভুচিচ (৬৬) ছাত্র-নেতৃত্বাধীন 'স্টুডেন্ট লিস্ট' আন্দোলনের কাছে নির্বাচনে পরাজিত হন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত স্ন্যাপ প্যারলামেন্টারি নির্বাচনে ভোটার অংশগ্রহণের হার ৩০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছায়। ভুচিচের নেতৃত্বাধীন সের্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (SNS) নির্বাচনে ১০৫টি আসন পেলে, অন্যদিকে ছাত্রদের তালিকা 'স্টুডেন্ট লিস্ট' ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন জিততে সক্ষম হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সের্বিয়ার দীর্ঘদিনের নেতা ভুচিচ পরাজয় স্বীকার করেন**: "আমরা এই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে, এটা স্পষ্ট" — ভুচিচের উক্তি।
- 📌 **ছাত্র আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক তালিকা**: ২০২৪ সালের নভেম্বরে নভি সাদে ট্রেন স্টেশনের ক্যানপি ভেঙে পড়ায় ১৬ জনের মৃত্যুর পর ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনটি 'স্টুডেন্ট লিস্ট'-এ রূপ নেয়।
- 📌 **আন্দোলনের মূল দাবি**: কর্পোরেশন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক দখল থেকে মুক্তি, নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং ভ্রষ্টাচার বিরোধী নীতি।
- 📌 **ভুচিচের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা**: তিনি আন্দোলনকারীদের "ব্লকেডার" বলে সমালোচনা করেন এবং দেশের স্থিতিশীলতা বিপন্ন করার অভিযোগ করেন।
- 📌 **ভুচিচের রাজনৈতিক ইতিহাস**: ১৯৯০-এর দশকে সের্বীয় রেডিক্যাল পার্টির নেতা ভয়িস্লাভ সেসেলের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৫ সালে সার্বিয়ায় সংসদে তিনি বলেছিলেন, "একজন সার্বকে হত্যা করলে আমরা ১০০ মুসলিমকে হত্যা করব"।
- 📌 **ভোটার অংশগ্রহণের রেকর্ড**: এই নির্বাচনে ভোটার অংশগ্রহণের হার ৩০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছায়।
📰 বিস্তারিত
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে নভি সাদে ট্রেন স্টেশনের ক্যানপি ভেঙে পড়ায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনা ছাত্রদের মধ্যে রাগ-বিরাগের জ্বালা জাগিয়ে তোলে। পরবর্তীতে এই আন্দোলনটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং 'স্টুডেন্ট লিস্ট' নামে একটি রাজনৈতিক তালিকা গঠন করে। এই তালিকাটি কর্পোরেশন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক দখল থেকে মুক্তি, নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং ভ্রষ্টাচার বিরোধী নীতি নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়। নির্বাচন প্রচারণায় এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ইলিয়া সর্দানভিচ, নভি সাদের মেডিকেল ফ্যাকাল্টির একজন অধ্যাপক।
আলেক্সান্ডার ভুচিচ ১৯৭০ সালে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৩ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ভয়িস্লাভ সেসেলের নেতৃত্বাধীন সের্বীয় রেডিক্যাল পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৯০-এর দশকে তার রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয়তাবাদী ভাষণগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে সার্বিয়ায় সংসদে তিনি বলেছিলেন, "একজন সার্বকে হত্যা করলে আমরা ১০০ মুসলিমকে হত্যা করব"। এই ভাষণটি তার রাজনৈতিক ইতিহাসের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে রয়ে গেছে।
ভুচিচের রাজনৈতিক মেন্টর ভয়িস্লাভ সেসেল ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অ্যাপিল চেম্বার কর্তৃক ১০ বছর কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। সেসেলের পুত্র আলেক্সান্ডার সেসেল এই নির্বাচনে ভুচিচের নির্বাচনী তালিকায় ছিলেন। ২০০৮ সালে ভুচিচ এবং টমিস্লাভ নিকোলিচ সের্বীয় রেডিক্যাল পার্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সের্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (SNS) গঠন করেন।
সের্বিয়ার জার্নালিস্ট সাফেতা বিসেভাচের মতে, ভুচিচের জনপ্রিয়তা তার সহ-নেতা টমিস্লাভ নিকোলিচের তুলনায় কম ছিল। তিনি বলেন, "ভুচিচের জনপ্রিয়তা অনেক কম ছিল এবং তিনি মূলত নতুন গঠিত পার্টির সংগঠক ছিলেন।" ২০১২ সালে SNS ক্ষমতায় আসে এবং কর্পোরেশন, অপরাধ এবং পূর্ব সরকারের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তবে সাফেতা বিসেভাচের মতে, কর্পোরেশন বিরোধী প্রচেষ্টার ফলাফল মডারেট ছিল এবং কর্তৃপক্ষ সরকারি প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া এবং রাজনৈতিক জীবনের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে দেয়।
"আমরা এই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে, এটা স্পষ্ট"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সের্বিয়া (নভি সাদ, বেলগ্রেড)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আলেক্সান্ডার ভুচিচ, ইলিয়া সর্দানভিচ, ভয়িস্লাভ সেসেল, টমিস্লাভ নিকোলিচ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ জন (মৃত্যু), ১০৫ আসন (ভুচিচের পার্টি), ১৩৫-১৪০ আসন (স্টুডেন্ট লিস্ট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!