📌 কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচিকে যুদ্ধাপরাধে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে কসোভো ও আলবেনিয়ায় বিক্ষোভ, সার্বিয়া স্বাগত জানায়
কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচিকে যুদ্ধাপরাধ, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের দায়ে ২৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত ‘কসোভো স্পেশালিস্ট চেম্বার্স’। ১৯৯৮-৯৯ সালের রক্তক্ষয়ী সংঘাতকালে কসোভো লিবারেশন আর্মির (কেএলএ) শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বেসামরিক নাগরিকদের নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৮ বছর বয়সী হাশিম থাচিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তিনি আদালতে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলেও সব অভিযোগ অস্বীকার করছিলেন
- 📌 কেএলএ-এর শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে থাচিকে ৯৬ জনের হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে
- 📌 কেএলএ-এর আরও তিন শীর্ষ নেতাকে ২৫, ১৮ ও ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে
- 📌 মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় থাচিকে খালাস দেওয়া হয়েছে
- 📌 কসোভোর সংখ্যাগরিষ্ঠ আলবেনীয় জনগোষ্ঠী রায় প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ করেছে
- 📌 সার্বিয়া রায়কে স্বাগত জানিয়েছে, বলেছে কেএলএ ছিল অপরাধী সংগঠন
- 📌 হাশিম থাচি ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন
📰 বিস্তারিত
নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত ‘কসোভো স্পেশালিস্ট চেম্বার্স’ (কেএসসি) বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রায় ঘোষণা করে। বিচারক চার্লস স্মিথ রায়টি পড়ার সময় ৫৮ বছর বয়সী হাশিমকে আদালতে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে তিনি শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৯৮-৯৯ সালের সংঘাতকালে কেএলএ-এর শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কমান্ডার হিসেবে থাচি নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সার্বীয় বাহিনীর সহযোগীদের ওপর নির্যাতন, বেআইনি আটক ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
কেএলএ বাহিনীর হাতে অন্তত ৯৬ জন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর দায়ে থাচিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই মামলায় থাচির পাশাপাশি কেএলএ-এর আরও তিন শীর্ষ নেতাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কেএলএ-এর সাবেক অধিনায়ক ইয়াকুপ ক্রাসনিকিকে ২৫ বছর, কাদ্রি ভেসেলিকে ১৮ বছর এবং রেঝেপ সেলিমিকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে বিচারকেরা উল্লেখ করেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য ছয়টি অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করতে না পারায় থাচিকে সেসব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ পাবেন। এই রায়কে কেন্দ্র করে কসোভো এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কসোভোর সংখ্যাগরিষ্ঠ আলবেনীয় জনগোষ্ঠী থাচি ও কেএলএ-কে স্বাধীনতার অন্যতম বীর হিসেবে গণ্য করে। রায়ের পর রাজধানী প্রিস্টিনায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে রায় প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ করেছে। কসোভোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্লাউক কোনজুফকা এই রায়কে ‘ভয়াবহ এবং কসোভোর জন্য চরম ক্ষতিকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেগের একটি ছবির পাশে আলবেনীয় শব্দ ‘মারে’ (লজ্জা) লিখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিপরীতে সার্বিয়া এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। সার্বিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইভিকা দাচিচ বলেন, ‘এই রায় প্রমাণ করে যে কেএলএ একটি অপরাধী সংগঠন ছিল। নিহত সার্বিয়ানদের গণকবরের ওপর কোনো দেশ গড়ে উঠতে পারে না।’ উল্লেখ্য, হাশিম থাচি কসোভোর স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক আদালত তাঁকে অভিযুক্ত করার পরপরই তিনি পদত্যাগ করে হেগে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।
"এই রায় প্রমাণ করে যে কেএলএ একটি অপরাধী সংগঠন ছিল। নিহত সার্বিয়ানদের গণকবরের ওপর কোনো দেশ গড়ে উঠতে পারে না।"
"এই রায় ভয়াবহ এবং কসোভোর জন্য চরম ক্ষতিকর।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেদারল্যান্ডসের হেগ, কসোভোর প্রিস্টিনা, আলবেনিয়ার রাজধানী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাশিম থাচি, বিচারক চার্লস স্মিথ, কসোভোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্লাউক কোনজুফকা, আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা, সার্বিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইভিকা দাচিচ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ বছর (কারাদণ্ড), ৫৮ বছর (বয়স), ৯৬ জন (হতাহত), ২৫ বছর (ইয়াকুপ ক্রাসনিকির কারাদণ্ড), ১৮ বছর (কাদ্রি ভেসেলির কারাদণ্ড), ১৩ বছর (রেঝেপ সেলিমির কারাদণ্ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!