📌 কলকাতার নেতাজি ভবনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী চেতনা ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দিনব্যাপী আয়োজনে অংশ নিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী ও গবেষকরা
কলকাতার নেতাজি ভবনে গত ২২ আগস্ট ‘নেতাজি ও নজরুল—দুই অগ্নি পুরুষ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ছায়ানট (কলকাতা) ও কৃষ্ণনগর নেতাজি ভবনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক ও প্রভাব নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ২২ আগস্ট কলকাতার নেতাজি ভবনে
- 📌 ছায়ানট (কলকাতা) ও কৃষ্ণনগর নেতাজি ভবনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়
- 📌 নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা অনুপ্রাণিত করেছিল বলে আলোচনা করেন সোমঋতা মল্লিক
- 📌 অনুষ্ঠানে নেতাজির প্রিয় নজরুলসংগীত ‘দুর্গম গিরি, কান্তার মরু’, ‘কারার ঐ লৌহ–কবাট’সহ একাধিক গান পরিবেশন করা হয়
- 📌 ২৩ আগস্ট কৃষ্ণনগরের গ্রেস কটেজে আরও একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়
- 📌 অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ৫০ জন বাচিকশিল্পী
📰 বিস্তারিত
কলকাতার নেতাজি ভবনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী চেতনা ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছায়ানট (কলকাতা) ও কৃষ্ণনগর নেতাজি ভবনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক ও প্রভাব নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছায়ানট কলকাতার সভাপতি, নজরুলসংগীতশিল্পী ও গবেষক সোমঋতা মল্লিক। তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘নজরুলকে “বিদ্রোহী” কবি বলা হয়, এটা সত্য। তাঁর অন্তরটা যে বিদ্রোহী, তা স্পষ্টই বোঝা যায়। আমরা যখন যুদ্ধে যাব, তখন সেখানে নজরুলের যুদ্ধের গান গাওয়া হবে। আমরা যখন কারাগারে যাব, তখনো তাঁর গান গাইব।’
অনুষ্ঠানে নেতাজির প্রিয় নজরুলসংগীত ‘দুর্গম গিরি, কান্তার মরু’, ‘কারার ঐ লৌহ–কবাট’, ‘এই শিকল–পরা ছল্’সহ বেশ কয়েকটি জাগরণমূলক গান পরিবেশন করা হয়। কাজী নজরুল ইসলামের লেখা কবিতা এবং তাঁকে নিবেদিত কবিতা আবৃত্তি করেন অম্বিকা বিশ্বাস, প্রীতিশ দত্ত, আফরিন সুলতানা, তৃষা ঘোষ, আরুশি বিশ্বাস। সুভাষচন্দ্রকে নিবেদিত কবিতা আবৃত্তি করেন বৈশাখী দাস, অনঙ্গমঞ্জরী বসাক, প্রিয়াংসু কৃষ্ণ রায়, বৈদুর্য দাস, শান্তনু চ্যাটার্জি।
"কবি বলা হয়, এটা সত্য। তাঁর অন্তরটা যে বিদ্রোহী, তা স্পষ্টই বোঝা যায়। আমরা যখন যুদ্ধে যাব, তখন সেখানে নজরুলের যুদ্ধের গান গাওয়া হবে। আমরা যখন কারাগারে যাব, তখনো তাঁর গান গাইব। আমি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে সর্বদাই ঘুরে বেড়াই। বিভিন্ন প্রাদেশিক ভাষার জাতীয় সংগীত শোনার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু নজরুলের ‘দুর্গম গিরি, কান্তার মরু’র মতো প্রাণমাতানো গান কোথাও শুনেছি বলে মনে হয় না। কবি নজরুল যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটা শুধু তাঁর নিজের স্বপ্ন নয়, সমগ্র বাঙালি জাতির স্বপ্ন।"
২৩ আগস্ট কৃষ্ণনগরের গ্রেস কটেজে আরও একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন কথাশিল্প আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের ৫০ জন বাচিকশিল্পী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাচিকশিল্পী পীতম ভট্টাচার্যর পরিচালনায় সমবেতভাবে উচ্চারিত হয় নজরুল রচিত শতবর্ষী কবিতা ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’।
"কাণ্ডারী হুঁশিয়ার"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক দেবনারায়ণ মোদক। তিনি কৃষ্ণনগরের সঙ্গে নজরুলের নিবিড় সম্পর্কের ব্যাপারে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, কবির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এই গ্রেস কটেজ। নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত এই গ্রেস কটেজ তাই নজরুলপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত আবেগের জায়গা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা নেতাজি ভবন ও কৃষ্ণনগর গ্রেস কটেজ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোমঋতা মল্লিক, দেবনারায়ণ মোদক, পীতম ভট্টাচার্য
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ জন, ২২ আগস্ট, ২৩ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!