📌 কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর একাধিক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েছেন। স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আবাসন সংকটে পড়েছেন শত শত বাংলাদেশি
কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর একাধিক হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। আগুনের ঘটনায় নয়জন নিহত হওয়ার পর এলাকাটিতে নেমে এসেছে এক ধরনের নীরবতা। একসময় যেখানে পর্যটকদের ভিড় থাকত, সেখানে এখন হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত, যার মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ছিলেন
- 📌 আগুনের পর এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ২০০টি হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে
- 📌 কলকাতার কেন্দ্রীয় এলাকায় প্রায় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার হোটেল কক্ষ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে
- 📌 স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিক্রি কমে যাওয়ায় রেস্টুরেন্ট ও হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
- 📌 বাংলাদেশ থেকে আসা পর্যটক ও রোগীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে
📰 বিস্তারিত
কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় গত সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২০০টি হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। মনোরঞ্জন রায় নামে শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপক জানান, মধ্য কলকাতার কয়েকটি এলাকায় আরও কয়েকটি হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার হোটেল কক্ষ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন শুধু জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনেই বাংলাদেশ থেকে মানুষ আসছেন। ঢাকা থেকে আসা বাসগুলো অর্ধেক খালি থাকছে।’
সুদ্দার স্ট্রিটের জনপ্রিয় ব্লু স্কাই ক্যাফেতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। মঙ্গলবার ক্যাফেটি প্রায় খালি ছিল। সেখানকার এক কর্মী জানান, মহামারির পর পশ্চিমা পর্যটকরা কমে যাওয়ার পর এখন বাংলাদেশিরাও আসছেন না। ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের প্রিন্স রেস্টুরেন্টেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশি খাবারের জন্য পরিচিত এই রেস্টুরেন্টে বিক্রি ৩০ শতাংশ কমে গেছে বলে জানান ব্যবস্থাপক চয়ন সাহা। তিনি বলেন, ‘পুরো এলাকাটির অর্থনীতি বাংলাদেশিদের ওপর নির্ভরশীল। তারা যদি আসা বন্ধ করে দেন, তাহলে পুরো এলাকার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
গত ছয় দিনে কলকাতার কেন্দ্রীয় এলাকার আরও কয়েকটি লজ, গেস্টহাউস ও হোটেল নিজেরাই কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন এবং দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে হঠাৎ করে বন্ধের নোটিশ আসতে পারে, এমন আশঙ্কায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। যে ভবনের ফ্লোরেন্স ম্যানশনে আগুন লেগে নয়জন অতিথির মৃত্যু হয়েছিল, সেটিও এখনো সিলগালা অবস্থায় রয়েছে।
‘আমাদের বিক্রি ৩০ শতাংশ কমে গেছে। তবে আমরা পরিস্থিতি সামলে নেব। এই সমস্যার মধ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আমাদের খুব খারাপ লাগছে।’ — চয়ন সাহা, ব্যবস্থাপক, প্রিন্স রেস্টুরেন্ট
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনোরঞ্জন রায়, চয়ন সাহা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ (বাংলাদেশি নিহত), ২০০ (হোটেল বন্ধ), ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার (ব্যবহার অযোগ্য কক্ষ), ৩০ শতাংশ (বিক্রি কমে যাওয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!