📌 কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। সাত বছর বয়সী কন্যা মহিমা এখনো বুঝতে পারছে না মৃত্যুর নির্মমতা। স্বজনদের কাছে বারবার জানতে চায় হারানো প্রিয়জনদের কথা
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন ও তাঁদের শিশুপুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত। ঘটনায় মহিমা নামের তাঁদের সাত বছর বয়সী কন্যা এখনো মৃত্যু ও হারানোর বেদনার অর্থ বুঝতে পারছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখায় অগ্নিকাণ্ডে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু
- 📌 নিহত: সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শিশুপুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত
- 📌 মহিমা নামের সাত বছর বয়সী কন্যা এখনো হারানোর বেদনা বুঝতে পারছে না
- 📌 গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় চারজনের মরদেহ কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার ভাড়া বাসায় পৌঁছায়
- 📌 দেবাশীষ দত্ত ও স্বর্ণশীষকে মহাশ্মশানে, আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনকে কবরস্থানে দাফন করা হয়
📰 বিস্তারিত
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন ও তাঁদের ছয় বছরের শিশুপুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত। ঘটনায় তাঁদের সাত বছর বয়সী কন্যা মহিমা এখনো মৃত্যু ও হারানোর বেদনার অর্থ বুঝতে পারছে না।
গত বুধবার দুপুরের দিকে স্বজনদের কাছ থেকে মহিমা মৃত্যুর খবর জানতে পারে। গত শনিবার সন্ধ্যায় চারজনের মরদেহ কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার ভাড়া বাসায় পৌঁছালে সেখানে স্বজনদের ভিড় জমে যায়। লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি থেকে যখন ছোট ভাই স্বর্ণশীষের কফিন নামানো হয়, তখন কিছুটা বুঝতে পারে মহিমা। চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে অবুঝ শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরে তাঁকে দেখানো হয় বাবা ও মায়ের মরদেহও।
স্বজনদের কাছে বারবার মহিমা তার মা-বাবা ও ভাইকে দেখার আবদার করতে থাকে। শেষকৃত্য ও দাফনের আগ পর্যন্ত স্বজনেরা তাঁর সেই আবদার পূরণে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মহিমা যখন আবারও তার প্রিয়জনদের কাছে যেতে চায়, তখন স্বজনদের কী জবাব দেওয়া হবে? কীভাবে তাঁকে বোঝানো হবে যে তাঁর বাবা আর কোনোদিন তাঁকে কোলে নেবেন না, মা আর আদর করে ডাকবেন না, ছোট ভাইটি আর তাঁর সঙ্গে খেলবে না?
মহিমা কুষ্টিয়া শহরের এডুকেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেজি শ্রেণির ছাত্রী। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পৃথক ধর্মীয় রীতিতে রাতেই শেষকৃত্য ও দাফন সম্পন্ন হয়। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর শিশুসন্তান স্বর্ণশীষের মরদেহ কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সনাতন ধর্মীয় রীতিতে শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সৎকার করা হয়। পরে তাঁদের পাশাপাশি সমাধি দেওয়া হয়। অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনকে রাত ৩টার দিকে কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে মুসলিম ধর্মীয় রীতিতে দাফন করা হয়।
‘আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, নিহতদের পরিবারগুলোকে দ্রুত ক্ষতিপূরণসহ সরকারি সহায়তা দেওয়া হোক।’ — আল মামুন সাগর, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি
‘ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দেবাশীষের উপার্জনেই আমাদের পরিবার চলত। এখন আমরা একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছি।’ — দিলীপ দত্ত, দেবাশীষের বাবা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, ভারত
- 👥 ব্যক্তি: মহিমা দত্ত, দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শারমীন, স্বর্ণশীষ দত্ত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ জন নিহত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!