📌 জাপানের হিরোসাকি দুর্গের ৩৬০ টন ওজনের ক্যাসল কিপকে মূল অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে দুই দিনে প্রায় ১৮০০ মানুষ অংশ নিয়েছেন। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভবনটিকে স্থানান্তরের জন্য প্রাচীন জাপানি 'হিকিয়া' পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়
জাপানের উত্তরাঞ্চলের ঐতিহাসিক হিরোসাকি দুর্গের ৩৬০ টন ওজনের ক্যাসল কিপকে মূল অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় ভাষায় 'সো-রে, সো-রে' স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা ৩০ মিটার দীর্ঘ দড়ি টেনে ভবনটিকে দুই মিটারের বেশি সরান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাপানের হিরোসাকি দুর্গের ৩৬০ টন ওজনের ক্যাসল কিপকে দুই দিনে দুই মিটারের বেশি সরানো হয়েছে
- 📌 প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ অংশ নিয়েছেন দুর্গ সরানোর কর্মসূচিতে
- 📌 ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভবনটিকে সাময়িকভাবে সরিয়ে মেরামত করা হয়েছিল
- 📌 প্রাচীন জাপানি 'হিকিয়া' পদ্ধতিতে ভবনটিকে রোলারের ওপর বসিয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে
- 📌 কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রায় ৮ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল, যা নির্ধারিত সংখ্যার চার গুণ বেশি
📰 বিস্তারিত
হিরোসাকি দুর্গের ক্যাসল কিপকে মূল অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে গত শনিবার ও রোববার দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি পরিচালিত হয়। শনিবার ৮০ জনের কয়েকটি দল পালা করে দড়ি টেনে ভবনটিকে ১ দশমিক ১৩ মিটার সরিয়ে নেন। পরদিন আরও ১ দশমিক ০৯ মিটার সরানো হয়। হিরোসাকি সিটির পার্ক ও সবুজ এলাকা বিভাগের প্রধান কেনসুকে হায়াসাকা জানান, এতে মোট দুই মিটারের বেশি স্থানান্তর সম্ভব হয়েছে।
ভূমিকম্পে দুর্গের একটি দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা মেরামতের জন্য ক্যাসল কিপটিকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। মেরামত শেষে এখন তাকে আবার মূল অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ক্যাসল কিপটিকে বিশেষ রেলপথের ওপর বসানো হয়।
হায়াসাকা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রায় ৮ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল, যা নির্ধারিত সংখ্যার প্রায় চার গুণ বেশি। শুধু হিরোসাকি শহর নয়, জাপানের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকেও মানুষ অংশ নিতে চেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশের মানুষও ছিলেন।
"কিপটি জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পদ হওয়ায় ভেঙে ফেলা হয়নি। প্রাচীনকাল থেকে জাপানে ব্যবহৃত ভবন স্থানান্তরের পদ্ধতি 'হিকিয়া' ব্যবহার করা হচ্ছে।"
হায়াসাকা জানান, ২০১৫ সালে হিরোসাকি শহর কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এই কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। এর ফলে জাপানে প্রথমবারের মতো নাগরিকদের নেতৃত্বে 'হিকিয়া' পদ্ধতিতে কোনো ভবন সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো দুর্গ সরাতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দেয়ালটির পুনর্নির্মাণ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়। দেয়ালটির মোট ২ হাজার ১৮৫টি পাথর আবার তাদের মূল অবস্থানে বসানো হয়েছে। দেয়ালের কাজ শেষ হওয়ার পর চলতি বছর কর্তৃপক্ষ আবারও সাধারণ মানুষের সহায়তা চায়, যাতে ক্যাসল কিপটিকে তার পুরোনো জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া যায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হিরোসাকি দুর্গ, আওমোরি প্রিফেকচার, জাপান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কেনসুকে হায়াসাকা (হিরোসাকি সিটির পার্ক ও সবুজ এলাকা বিভাগ প্রধান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬০ টন (ক্যাসল কিপের ওজন), ১ হাজার ৮০০ (অংশগ্রহণকারী মানুষ), ২ দিন (কর্মসূচির সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!