📌 ইসরায়েলের রাষ্ট্রপতি ইসাক হার্জগ ২০১৬ সালে আহত ফিলিস্তিনি হত্যার দায়ে দোষী সাবেক সৈনিক এলোর আজারিয়ার অপরাধ রেকর্ড মুছে দিয়েছেন। সামরিক প্রধানদের বিরোধিতার মুখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যারা আজারিয়াকে দায়িত্বশীলতা প্রকাশের অভাবের জন্য সমালোচনা করেছেন
ইসরায়েলের রাষ্ট্রপতি ইসাক হার্জগ সাবেক সৈনিক এলোর আজারিয়ার অপরাধ রেকর্ড মুছে দিয়েছেন, যিনি ২০১৬ সালে হেব্রনে আহত ফিলিস্তিনি হত্যার দায়ে দোষী সাবিত হন। শনিবার রাষ্ট্রপতির ঘোষণায় জানানো হয়, তিনি আজারিয়ার অপরাধ রেকর্ডের মেয়াদ সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছেন, যা সামরিক প্রধানদের বিরোধিতার মুখে নেওয়া হয়েছে। সামরিক প্রধান জেনারেল আইয়াল জামিরের নেতৃত্বে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আজারিয়াকে দোষী সাবিত হওয়ার দশ বছর পরও দায়িত্বশীলতা প্রকাশের অভাবের জন্য সমালোচনা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২০১৬ সালের ঘটনা**: হেব্রনে আহত ফিলিস্তিনি আবদেল ফাত্তাহ আল-শরিফের হত্যার দায়ে দোষী সাবেক সৈনিক এলোর আজারিয়ার অপরাধ রেকর্ড মুছে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি হার্জগ।
- 📌 **সামরিক প্রধানদের বিরোধিতা**: সামরিক প্রধান জেনারেল আইয়াল জামিরের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা আজারিয়াকে দশ বছর পরও দায়িত্বশীলতা প্রকাশের অভাবের জন্য সমালোচনা করেছেন।
- 📌 **রাষ্ট্রপতির যুক্তি**: হার্জগের দাবি, আজারিয়া "জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারেন" এবং এই পদক্ষেপ "ইয়োম কিপুরের আত্মশুদ্ধির আত্মায়" নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **আজারিয়ার বিচার**: ২০১৭ সালে সামরিক আদালত তাকে হত্যার দায়ে ১৮ মাস কারাদণ্ড দিয়েছিল, পরে ১৪ মাসে কমিয়ে আনা হয়। তিনি ২০১৮ সালের মে মাসে মুক্তি পান।
- 📌 **রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া**: ফার-রাইট ন্যাশনাল সিকিউরিটি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই পদক্ষেপকে "গভীরভাবে অনুপ্রাণিতকর" বলে অভিহিত করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেটানিয়াহুরও similar পardon চেয়েছেন।
- 📌 **আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া**: ফিলিস্তিনি বিদেশ মন্ত্রণালয় এই হত্যা কে "অদালতের বাইরে হত্যা" এবং "যুদ্ধাপরাধ" হিসেবে নিন্দা করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস এই দণ্ডকে "অত্যন্ত সহনশীল" বলে সমালোচনা করেছে।
- 📌 **বাইডেন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা**: ২০২৪ সালে মার্কিন প্রশাসন আজারিয়া ও তার পরিবারকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
📰 বিস্তারিত
২০১৬ সালের মার্চ মাসে হেব্রনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আজারিয়া, তৎকালীন সামরিক চিকিৎসক, আবদেল ফাত্তাহ আল-শরিফের মাথায় গুলি করে হত্যা করেন। আল-শরিফ আগে ইতিমধ্যে ইসরায়েলি সৈনিকদের গুলিতে আহত হয়ে মাটিতে পড়েছিলেন এবং মাটিতে শুয়ে থাকা অবস্থায় ১১ মিনিট পর আজারিয়া তাকে হত্যা করেন। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
রাষ্ট্রপতি হার্জগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজের অনুরোধে এবং "সময়গত অগ্রগতি, দণ্ডের সম্পূর্ণতা এবং আজারিয়া প্রকাশিত দায়িত্বশীলতার কারণে"। তবে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সামরিক প্রধান জেনারেল জামিরের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, আজারিয়া "দোষী সাবিত হওয়ার দশ বছর পরও দায়িত্বশীলতা প্রকাশের অভাব" দেখিয়েছেন।
ফিলিস্তিনি বিদেশ মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে "অদালতের বাইরে হত্যা" এবং "যুদ্ধাপরাধ" হিসেবে নিন্দা করেছে। তারা বলেছেন, এই ঘটনার ভিডিও প্রমাণ "শাসকদের নৈতিকতা সম্পর্কে প্রচারিত স্লোগানগুলিকে ধ্বংস করেছে"। আল-শরিফের পরিবার এই বিচারকে "আন্তর্জাতিক চিত্র উন্নত করার জন্য একটি ফার্স" বলে সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস এই দণ্ডকে "অত্যন্ত সহনশীল" বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, এটি "অপরাধবোধহীনতা সংস্কৃতির সমর্থন" করে।
"আজারিয়া দোষী সাবিত হওয়ার দশ বছর পরও দায়িত্বশীলতা প্রকাশের অভাব দেখিয়েছেন"
২০১৮ সালের মে মাসে আজারিয়া কারাদণ্ডের ৯ মাস পর মুক্তি পান। এই ঘটনার পর থেকে তিনি "জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে" পারেন, এমন আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি হার্জগ। তবে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সামরিক প্রধানদের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হেব্রন, ইসরায়েল
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: রাষ্ট্রপতি ইসাক হার্জগ, সৈনিক এলোর আজারিয়া, জেনারেল আইয়াল জামির, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ, ফিলিস্তিনি বিদেশ মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেটানিয়াহু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ মিনিট (আহত অবস্থায়), ১৮ মাস (প্রারম্ভিক দণ্ড), ১৪ মাস (কমিয়ে আনা দণ্ড), ২০১৬ (ঘটনার বছর), ২০১৮ (মুক্তি পাওয়ার বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!