📌 ৬০ বছর ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে অস্পষ্টতা ও গোপনীয়তার আড়ালে ছিল। কিন্তু বর্তমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই গোপনীয়তা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়, তাহলে সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোও পারমাণবিক প্রতিযোগিতায় নামতে পারে
৬০ বছর ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় গোপনীয়তা হিসেবে রয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটে এই অস্পষ্টতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে মার্কিন হেলিকপ্টার থেকে নেগেভ মরুভূমিতে একটি নির্মাণাধীন কাঠামো চোখে পড়লে ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা অ্যাডি কোহেন ‘টেক্সটাইল কারখানা’ বলে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। পরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উন্মোচন করে যে, সেখানে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রাগার দিমোনা কেন্দ্র।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৬০-এর দশকে মার্কিন ইউরেনিয়াম প্ল্যান্ট থেকে চুরি করা ইউরেনিয়াম ইসরায়েলে পাচার করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়
- 📌 ১৯৮৬ সালে ইসরায়েলের সাবেক টেকনিশিয়ান মরদেচাই ভানুনু লন্ডনের দ্য সানডে টাইমস-এ ছবিসহ তথ্য ফাঁস করে দিলে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত হয়
- 📌 মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব জানতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে না
- 📌 বর্তমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ইরানের ১০০০ পাউন্ড উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কারণে আগামী ৩ বছরে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হোয়াকিন ক্যাস্ট্রো সতর্ক করেছেন, ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রের ‘রেড লাইন’ না জানা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক
- 📌 প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইসরায়েলকে দেওয়া ৪ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক সহায়তা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বন্ধ হতে পারে
📰 বিস্তারিত
১৯৬০-এর দশকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নেগেভ মরুভূমিতে নির্মাণাধীন একটি কাঠামো সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে। ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা অ্যাডি কোহেন মার্কিন কর্মকর্তাকে ‘টেক্সটাইল কারখানা’ বলে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। পরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উন্মোচন করে যে, সেখানে ছিল ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কেন্দ্র দিমোনা। ১৯৬৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ারের মধ্যে একটি গোপন সমঝোতা হয়। এই সমঝোতায় ইসরায়েল প্রকাশ্যে কোনো পারমাণবিক পরীক্ষা চালাবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রও এই বিষয়ে স্বীকার বা অস্বীকার করবে না। তবে ১৯৮৬ সালে ইসরায়েলের সাবেক টেকনিশিয়ান মরদেচাই ভানুনু লন্ডনের দ্য সানডে টাইমস-এ ছবিসহ সমস্ত তথ্য ফাঁস করে দিলে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত হয়। পরে মোসাদ ভানুনুকে ইতালি থেকে অপহরণ করে ইসরায়েলে ফিরিয়ে এনে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে এই অস্পষ্টতা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হোয়াকিন ক্যাস্ট্রো সিএনএনের একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে অস্পষ্টতার নীতিটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনারা যখন মধ্যপ্রাচ্যে, তখন ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ‘রেড লাইন’ কী, তা না জানা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের লক্ষ্যে যুদ্ধ চলছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইরানের প্রায় ১০০০ পাউন্ড উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও আগামী ৩ বছরে তেহরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ। এমন প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে তারাও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতায় নামবে।
"বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই মনে করছে, ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র আছে। কিন্তু তারা কখনো তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। আর আমাদের পররাষ্ট্রনীতির একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিভিন্ন কারণে আমরাও এটি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করি না।"
— মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, কংগ্রেসের শুনানিতে
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেগেভ মরুভূমি (ইসরায়েল), ওয়াশিংটন (যুক্তরাষ্ট্র), লন্ডন (ইংল্যান্ড), ইতালি, ইরান, সৌদি আরব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যাডি কোহেন, গোল্ডা মেয়ার, রিচার্ড নিক্সন, হেনরি কিসিঞ্জার, মরদেচাই ভানুনু, হোয়াকিন ক্যাস্ট্রো, মার্কো রুবিও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ বছর (গোপনীয়তা), ১৮ বছর (ভানুনুর কারাদণ্ড), ৪ বিলিয়ন ডলার (ইসরায়েলের সহায়তা), ৩.৮ বিলিয়ন ডলার (বার্ষিক সহায়তা), ১০০০ পাউন্ড (ইরানের ইউরেনিয়াম), ৫০ শতাংশ (ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির সম্ভাবনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!