📌 ইসরায়েলের সৈন্যরা হেব্রনে দু’জন প্যালেস্টাইনির বাড়ি ধ্বংস করেছে যারা সপ্তাহ আগে সৈন্যদের আক্রমণে নিহত করেছিল। আক্রমণে ৫ হাজার প্যালেস্টাইনির বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘সাম্প্রদায়িক শাস্তি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
হেব্রন শহরে দু’জন প্যালেস্টাইনির বাড়ি ধ্বংস করে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী তাদেরকে নিহত সৈন্যদের দায়ে দায়ী করেছে। এই ধ্বংসাবশেষ ঘটেছে গত সপ্তাহে সৈন্যদের আক্রমণে নিহত হওয়ার পর। হেব্রন শহরকে ঘিরে আট দিনের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই বাড়িগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েলি সৈন্যরা শুক্রবার দু’ভাই আহমদ ও হাম্মুদা আল-জাবেহের বাড়ি ধ্বংস করেছে, যারা গত ২৩ অক্টোবর ফারশ আল-হাওয়া চেকপয়েন্টে সৈন্যদের আক্রমণে দুইজন ইসরায়েলি সৈন্য নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হেব্রনে দু’জন প্যালেস্টাইনির বাড়ি ধ্বংস**: ইসরায়েলি সৈন্যরা আক্রমণে নিহত সৈন্যদের দায়ে আহমদ ও হাম্মুদা আল-জাবেহের বাড়ি ধ্বংস করেছে।
- 📌 **সামরিক অভিযানের অংশ**: এই ধ্বংসাবশেষ ঘটেছে আট দিনের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে, যেখানে হেব্রন শহরকে ঘিরে রাখা হয়েছে।
- 📌 **১২ জন প্যালেস্টাইনির গ্রেফতার**: বাড়ি ধ্বংসের সময় ১২ জন প্যালেস্টাইনিকে গ্রেফতার করা হয়, তাদের মধ্যে কেউ এখনও গ্রেফতার অবস্থায় রয়েছে।
- 📌 **বাস্তুচ্যুত ৫ হাজার প্যালেস্টাইনি**: হেব্রন মিউনিসিপ্যালিটি জানায়, ৭৮০ পরিবারের ৪,৯৬৯ প্যালেস্টাইনির বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
- 📌 **সাম্প্রদায়িক শাস্তি হিসেবে অভিযান**: প্যালেস্টাইন বিষয়ক একাডেমিক রায়েদ নায়রাত বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য প্যালেস্টাইনিদের মনোবল ভাঙ্গা এবং তাদেরকে অপারেশনটির দায়ে দায়ী করা।
- 📌 **ব্যবসা ও বাড়ি ধ্বংস**: আক্রমণস্থল নিকটবর্তী ১৩টি ব্যবসা ধ্বংস করা হয়েছে এবং কিছু বাড়ি সামরিক ক্যাম্পে রূপান্তরিত হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
আল জাজীরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি সৈন্যরা বাড়ি ধ্বংসের আগে অন্তত নয় ঘণ্টা ধরে বাড়িতে বোমা স্থাপন করেছিল। বাড়ি ধ্বংসের পর যখন স্থানীয়রা নিকটবর্তী এলাকায় যেতে চেয়েছিল, তখন বড় সংখ্যক সৈন্য ড্রোন সহ সহায়তা করে ১২ জন প্যালেস্টাইনিকে গ্রেফতার করেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এই প্যালেস্টাইনিদের মধ্যে কেউ এখনও গ্রেফতার অবস্থায় রয়েছে এবং আমরা সরাসরি সম্প্রচার করে তাদের ইসরায়েলি আক্রমণকারী বাহিনীর হাতে নির্যাতনের ঘটনাগুলো দেখেছি।”
এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী হেব্রনের ইন দেয়ার বাহা এলাকার সবাইকে বাস্তুচ্যুত করেছে। কিছু বাড়ি সামরিক ক্যাম্পে রূপান্তরিত হয়েছে এবং কমান্ড সেন্টারে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি, জালদা এলাকার শত শত পরিবার তাদের বাড়িতে আটকে পড়েছে।
হামাস এই বাস্তুচ্যুতকরণ ও ধ্বংসাবশেষকে প্যালেস্টাইনিদের উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে একটি পরিকল্পিত প্রচার হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
"এই প্যালেস্টাইনিদের মধ্যে কেউ এখনও গ্রেফতার অবস্থায় রয়েছে এবং আমরা সরাসরি সম্প্রচার করে তাদের ইসরায়েলি আক্রমণকারী বাহিনীর হাতে নির্যাতনের ঘটনাগুলো দেখেছি।"
প্যালেস্টাইন বিষয়ক একাডেমিক ও ইসরায়েল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রায়েদ নায়রাত বলেন, “এই অভিযানের বার্তা ছিল ‘দিন থেকে দিন’। এটি প্রকৃতপক্ষে সাম্প্রদায়িক শাস্তি, যার লক্ষ্য প্যালেস্টাইনিদের মনোবল ভাঙ্গা এবং তাদেরকে একটি ঘটনার দায়ে দায়ী করা যাতে তারা তা সহ্য করতে না পারে, এমনকি যদি তারা সেই ঘটনায় জড়িত না হয় বা তা তাদের মেনে নিতে না পারে।”
তিনি আরও বলেন, “এই অভিযানটি নিরাপত্তার পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত হয়েছে। এটি এমনকি প্যালেস্টাইন সমাজকে ২০ বা ৪০ বছর আগের মতো ভাঙ্গে ফেলেছে এবং পুরো পশ্চিম তীরকে সামরিক অঞ্চলে পরিণত করেছে, যেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হেব্রন, পশ্চিম তীর (প্যালেস্টাইন)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আহমদ ও হাম্মুদা আল-জাবেহ, রায়েদ নায়রাত, আল জাজীরার মোহাম্মদ আল-আত্রাশ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫,০০০ জন বাস্তুচ্যুত, ১২ জন গ্রেফতার, ১৩টি ব্যবসা ধ্বংস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!