📌 তিন বছরের গবেষণায় প্রকাশ পায় যে, ইসরায়েলের সম্ভাব্য পৃষ্ঠপোষকতায় ৩০টি দেশে ১১ কোটি ডলারের বাজেটে ইসলামোফোবিক ও কুপ্রচারমূলক বিজ্ঞাপন প্রচার চালানো হয়েছে। ইউটিউব, টিকটক ও ফেসবুকে ৫৩৩ মিলিয়ন বার প্রদর্শিত এই বিজ্ঞাপনগুলো ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে চালানো হয়েছিল।
তিন বছরের গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, ইসরায়েলের সম্ভাব্য পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামোফোবিক, নৃশংস ও কুপ্রচারমূলক বিজ্ঞাপন প্রচার চালানো হয়েছে। এই প্রচারাভিযানটি "ম্যানুফ্যাকচারিং দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট" শিরোনামে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে "বিশ্বের সর্ববৃহৎ ডিজিটাল প্রভাব ও মিথ্যা তথ্য প্রচার অভিযান" হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এই প্রচারাভিযানটি ৩০টি দেশে, যার মধ্যে ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন অন্তর্ভুক্ত, ১১ কোটি ডলারের বাজেটে পরিচালিত হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫৩৩ মিলিয়ন বার** ইউটিউব, টিকটক ও ফেসবুকে ইসলামোফোবিক, নৃশংস ও কুপ্রচারমূলক বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে (অক্টোবর ২০২৩ থেকে অক্টোবর ২০২৬)।
- 📌 **ফ্রান্সে ৩৩% বিজ্ঞাপন** ছিল সর্বাধিক, যেখানে **যুক্তরাজ্যে ১৫৪ মিলিয়ন বার** এবং **মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ মিলিয়ন বার** বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছিল।
- 📌 **ইসরায়েলের সম্ভাব্য পৃষ্ঠপোষকতায়** এই প্রচারাভিযান পরিচালিত হয়েছে, যেখানে কাতারকে "ইসলামীকরণ" করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।
- 📌 **টিকটক বিজ্ঞাপন** ইরানে সরকার পরিবর্তন করার আহ্বান জানিয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের চার দিন আগে (২৪ ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়েছিল।
- 📌 **গবেষকরা** মেটাডেটা বিশ্লেষণ করে বলেছেন, বিজ্ঞাপনগুলো ইসরায়েলের সময়মত এবং হিব্রু ড্রাইভে তৈরি করা হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ডোহা ক্যাম্পাসের অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোন্স এবং স্বাধীন গবেষক সোহান ডসৌজা এই গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, এই প্রচারাভিযানটি "গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট" কুপ্রচারমূলক তত্ত্বকে ব্যবহার করে, যেখানে শ্বেতাঙ্গদের অভিবাসী ও মুসলিমদের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, কাতারকে এই কুপ্রচারমূলক তত্ত্বে জর্জ সোরোসের মতো ভূমিকায় রাখা হয়েছে, যিনি "ইসলামীকরণ" করার জন্য মুসলিম অভিবাসন পরিচালনা করার জন্য দায়ী করা হয়েছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বিজ্ঞাপনগুলো নির্বাচনী সময়সূচীকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, ফ্রান্সে ২০২৪ সালের জুনে ইউরোপীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছিল, এবং যুক্তরাজ্যে ১৭ মে ২০২৪-এ সাধারণ নির্বাচনের আগে বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করা হয়েছিল। গবেষকরা বলেছেন, এই প্রচারাভিযানটি "মুসলিম ও অভিবাসী-বিরোধী বক্তব্য প্রচার করে নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে, যা আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারকালের বাইরে।"
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই প্রচারাভিযানটি এখনও ২০২৭ সালে ফ্রান্স ও ইতালির মতো দেশে নির্বাচনের আগে সক্রিয় রয়েছে। গবেষকরা মনে করেন, এই প্রচারাভিযানের লক্ষ্য ছিল কাতারকে "ইসলামীকরণ" করার জন্য দায়ী করা এবং ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করা।
"এই প্রচারাভিযানটি 'গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট' কুপ্রচারমূলক তত্ত্বকে ব্যবহার করে, যেখানে শ্বেতাঙ্গদের অভিবাসী ও মুসলিমদের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউরোপ (ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, লেবানন, ইরান, ইসরায়েল
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মার্ক ওয়েন জোন্স (নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি), সোহান ডসৌজা (স্বাধীন গবেষক), জর্জ সোরোস (জewish billionaire)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ কোটি ডলার বাজেট, ৩০টি দেশে প্রচার, ৫৩৩ মিলিয়ন বার বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত, ফ্রান্সে ৩৩% বিজ্ঞাপন, যুক্তরাজ্যে ১৫৪ মিলিয়ন বার প্রদর্শিত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!