📌 দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তিন কাশ্মীরি নেতা বৈঠক করেন। বৈঠকে ইরান, ফিলিস্তিন ও ভারতের মুসলমানদের নিপীড়ন নিয়ে আলোচনা হয়। কাশ্মীরের সাবেক চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ উমর ফারুক ইরানের পক্ষকে সঠিক পথের অনুসারী বলে উল্লেখ করেন
দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কাশ্মীরের তিন নেতা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ইরান, ফিলিস্তিন ও লেবাননে চলমান নিপীড়ন বিষয়টি প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠক কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক মুসলিম সম্প্রদায়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেছেন কাশ্মীরের তিন নেতা: মীরওয়াইজ উমর ফারুক (হুরিয়াত কনফারেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান), আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আল সাফাভি ও ইমরান রেজা আনসারি।
- 📌 বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে চলা নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে কাশ্মীরি নেতারা সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং ইরানের পক্ষকে সঠিক পথের অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- 📌 মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেছেন, ‘সব ধর্মই সত্য ও ন্যায়কে সমর্থন করে। এই মুহূর্তে ইরান সঠিক পক্ষে রয়েছে’। তিনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে অন্যায় বলে উল্লেখ করেছেন।
- 📌 ইরানি দূতাবাসের অনুষ্ঠানে কাশ্মীরি নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের মিনাবে নিহত শিশুদের স্মরণে প্রদর্শনীতে অংশ নেন।
- 📌 বৈঠকটি ভারত-ইরান সম্পর্কের গুরুত্ব ও কাশ্মীর ইস্যুতে তেহরানের অবস্থানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
বৈঠকের পর ভারতের সংবাদ সংস্থাকে মীরওয়াইজ উমর ফারুক জানান, কাশ্মীর থেকে একটি প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই অবিচার বন্ধ হওয়া উচিত’। বৈঠকের মূল বার্তা হিসেবে তিনি ইরানকে সঠিক পথের অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং ইরানের পক্ষকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য যুদ্ধের মুখোমুখি হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
ইরানের দূতাবাসের অনুষ্ঠানে কাশ্মীরি নেতারা ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহালির আমন্ত্রণে অংশ নেন। এই প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের মিনাবে নিহত শিশুদের স্মরণে আলোকচিত্র প্রদর্শিত হয়েছিল। বৈঠক ও প্রদর্শনী উভয়ই কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির সাথে আন্তর্জাতিক মুসলিম সম্প্রদায়ের সংযোগকে তুলে ধরেছে।
২০১৯ সালে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার পর থেকে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে সংবেদনশীলতা বাড়ে। তৎকালীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কাশ্মীরের মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এসব মতপার্থক্যের মধ্যেও ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের সাক্ষাৎও এই সম্পর্কের গুরুত্বকে আরো স্পষ্ট করেছে।
"এই অবিচার বন্ধ হওয়া উচিত। ইরানের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও লেবাননে যা ঘটছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে অন্যায় বলে মন্তব্য করছি। সব ধর্মই সত্য ও ন্যায়কে সমর্থন করে। এই মুহূর্তে ইরান সঠিক পক্ষে রয়েছে; তারা নিজেদের রক্ষা করছে এবং তাদের ওপর একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি (ভারত), ইরানের দূতাবাস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাসুদ পেজেশকিয়ান (ইরানের প্রেসিডেন্ট), মীরওয়াইজ উমর ফারুক, আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আল সাফাভি, ইমরান রেজা আনসারি, মহম্মদ ফাতহালি (ইরানের রাষ্ট্রদূত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ জন কাশ্মীরি নেতা, ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!