📌 ইরানে যুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ সরকারপন্থী সমাবেশে অংশ নেন লাখো মানুষ। ‘জানফাদায়ে ইরান’ কর্মসূচিতে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ নিবন্ধিত হয়েছে। ইরান সরকার সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন সমাবেশে অংশগ্রহণকারীজন
ইরানে যুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ সরকারপন্থী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার তেহরানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ‘জানফাদায়ে ইরান’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবীরা সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই ইরানের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ সরকারপন্থী সমাবেশ। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা দেশ রক্ষায় অস্ত্র হাতে নেওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পায়ে মাড়ান এবং ‘আমেরিকার মৃত্যু চাই’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু চাই’ স্লোগান দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানে যুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ সরকারপন্থী সমাবেশে অংশ নেন ৩ লাখেরও বেশি মানুষ।
- 📌 ‘জানফাদায়ে ইরান’ কর্মসূচিতে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ নিবন্ধিত হয়েছে, প্রশিক্ষণে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
- 📌 স্বেচ্ছাসেবীরা রেভল্যুশনারি গার্ড এবং বাসিজের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার জন্য কাজ করবেন।
- 📌 সমাবেশে ইরান সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করে, যার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- 📌 ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে।
- 📌 ২৪ বছর বয়সী মারজিয়ে আফাগি বলেন, ইরানিরা ট্রাম্পের হুমকিতে ভয় পায় না।
📰 বিস্তারিত
ইরানের সরকারপন্থী সমাবেশে অংশ নেওয়া লাখো মানুষের মধ্যে অনেকেই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। ‘জানফাদায়ে ইরান’ কর্মসূচির অধীনে এই স্বেচ্ছাসেবীরা সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ জানান, ৬ লাখেরও বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে নিবন্ধিত হয়েছে। প্রশিক্ষণে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ৩ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা সামরিক পোশাক পরিধান করে মিছিল করেন এবং জাতীয় পতাকা বহন করেন। পথের পাশে থাকা মানুষ তাদের দেখে উল্লাস করেন। বাসিজের নতুন প্রধান হোসেইন তাইয়েব বলেন, স্বেচ্ছাসেবীরা ‘পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষার’ জন্য প্রস্তুত থাকবেন। তিনি আরও জানান, শিগগিরই ইরানের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তাইয়েব বলেন, নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা ইরানের শত্রুদের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে।
ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসউদ পেজেশকিয়ান, সামরিক কমান্ডার এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সমাবেশ দেখছিলেন। সমাবেশে ইরান সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করে, যার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইরানের ড্রোনগুলো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। যুদ্ধের পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে, যা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
"আমি ট্রাম্পকে বলতে এসেছি—আমাদের মাতৃভূমির বিরুদ্ধে তাঁর হুমকিতে আমরা ইরানিরা ভয় পাই না। ইতিহাসে কেউই ইরান আক্রমণ করে সেখানে থেকে যেতে পারেনি।"
— ২৪ বছর বয়সী মারজিয়ে আফাগি, সমাবেশে অংশগ্রহণকারী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তেহরান, ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ, হোসেইন তাইয়েব, মারজিয়ে আফাগি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ লাখেরও বেশি (নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী), ১০ লাখেরও বেশি (প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী), ৩ লাখেরও বেশি (সমাবেশে অংশগ্রহণকারী), ৯ কোটি (ইরানের জনসংখ্যা), ৩ কোটিরও বেশি (স্বেচ্ছাসেবী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!