📌 যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপে ইরানের তেল রপ্তানি কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানি তেলের রপ্তানি ৯১% কমে গেছে, মুদ্রা পতন ৭০% এর ওপরে উঠেছে। ইরান সরকার স্বীকার করেছে দেশটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু অর্থনৈতিক পতনের পূর্বাভাস প্রত্যাখ্যান করছে
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপে ইরানের সামনে দুটি বিপরীত পথের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে অর্থনৈতিক যুদ্ধে ইরানকে পরাজিত করার জন্য ওয়াশিংটন নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এর ফলশ্রুতিতে ইরানের তেল রপ্তানি কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং মুদ্রা পতন ৭০% এর ওপরে উঠেছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সরকার এখনো অর্থনৈতিক পতনের পূর্বাভাস প্রত্যাখ্যান করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধে ইরানের তেল রপ্তানি ৯১% কমে গেছে; প্রতিবেশীরা ইরানকে বাদ দিয়ে তেল রপ্তানি করছে
- 📌 সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৮ দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক ১ কোটি ৬৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে, যা ইরানকে বাদ দিলে যুদ্ধপূর্ব গড়ের সমান
- 📌 ইরানি রিয়ালের মূল্য ৩ অক্টোবর ১ ডলার কিনতে ২৬ লাখ ৮৮ হাজার রিয়াল লাগছে; গত এক বছরে রিয়ালের মূল্য ৫০% এর বেশি হারিয়েছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নিষেধাজ্ঞায় ইরানের গাড়ি, রেল, উৎপাদন ও ইস্পাত খাতের বিদেশি সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে
- 📌 ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসেন রেজাই স্বীকার করেছেন, দেশটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে
- 📌 লন্ডনভিত্তিক চ্যাথাম হাউসের মতে, হরমুজের প্রভাব কমলে ইরান সংঘাত বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংঘাতে ইরানের সামনে পথ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। ইরানকে সামরিকভাবে পরাজিত করা সম্ভব নয় বলে বুঝে ওয়াশিংটন তার রণকৌশল পরিবর্তন করেছে। এখন ইরানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক চাপ আরোপ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ব্রাসেলসভিত্তিক কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৮ দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক ১ কোটি ৬৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। ইরানকে বাদ দিলে এই পরিমাণ তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব গড়ের সমান, কিন্তু ইরানকে ধরলে তা প্রায় ৯১% কমে গেছে। ইরানের তেল রপ্তানি কার্যকরভাবে শূন্য হয়ে গেছে।
ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের সবচেয়ে স্পষ্ট চিহ্ন মুদ্রাবাজারে দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর ১ ডলার কিনতে প্রায় ২৬ লাখ ৮৮ হাজার ইরানি রিয়াল লাগছিল। গত এক বছরে ইরানের রিয়ালের মূল্য অর্ধেকের বেশি হারিয়েছে। মূল্যস্ফীতি ৭০ শতাংশের ওপরে উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বোচ্চ ২০০ কোটি ডলার বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু মুদ্রা পতন ঠেকাতে তা যথেষ্ট নয়। অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বিক্ষোভের আশঙ্কা এখনো রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র শুধু তেলের পথ বন্ধ রাখছে না। ১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ ইরানের গাড়ি, রেল, উৎপাদন ও ইস্পাত খাতে বিদেশি সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বিদেশি ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও ঝুঁকি বেড়েছে। ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিষিদ্ধ লেনদেনে জড়ালে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ইরান এত দিন যে বিকল্প পথে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছিল, তা কঠিন হয়ে পড়েছে।
"দেশ তার সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে"
— ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসেন রেজাই, ৩ অক্টোবর
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাসেলস, লন্ডন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মহসেন রেজাই (ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব), সানাম ভাকিল ওয়াল (চ্যাথাম হাউসের পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯১% (তেল রপ্তানি কমে গেছে), ২৬ লাখ ৮৮ হাজার (১ ডলার কিনতে রিয়ালের পরিমাণ), ৭০% (মূল্যস্ফীতি), ২০০ কোটি ডলার (কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিক্রি উদ্যোগ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!