📌 ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ২১টি সংবাদমাধ্যমের মামলায় মোদি সরকারের নতুন ডিজিটাল গোপনীয়তা আইনকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনটি সংবাদকক্ষের স্বাধীনতা ও তথ্যসূত্রের পরিচয় প্রকাশের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে
ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মোদি সরকারের নতুন ‘ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট’-এর বিরুদ্ধে ২১টি সংবাদমাধ্যমের মামলায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আইন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টি করবে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। শুনানিতে তারা দাবি করেছেন, আইনের বিতর্কিত বিধানগুলো বাতিল করা উচিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২১টি সংবাদমাধ্যমের মামলায়** ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে মোদি সরকারের নতুন গোপনীয়তা আইনকে চ্যালেঞ্জ করে।
- 📌 **মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির মালিকানাধীন** সংবাদমাধ্যমসহ দেশের শীর্ষ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো আইনটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
- 📌 **সাংবাদিকদের তথ্যসূত্র প্রকাশের ঝুঁকি বাড়বে** এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ব্যক্তির সম্মতি নিতে হবে বলে আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 **সরকারের অনুমোদন ছাড়া তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা** সাংবাদিকদের তথ্যসূত্র শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
- 📌 **২৫০ কোটি রুপি জরিমানা** এবং সংবাদ বন্ধের হুমকি সংবাদমাধ্যমের জন্য অস্তিত্বের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
📰 বিস্তারিত
ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএনপিএ) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো মোদি সরকারের ‘ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট’-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এই আইন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টি করবে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে বলে তারা দাবি করেছেন।
ডিএনপিএর আইনজীবী মাধবী গোরাদিয়া দাভান বলেছেন, ‘আইনটি সংবাদ কী, সেই ধারণাই বদলে দিচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিতে বাধ্য করা হলে সংবাদকক্ষ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং তা কার্যত আগাম সেন্সরশিপের ব্যবস্থা তৈরি করবে।’ তিনি আরও বলেছেন, আইনের আগের সংস্করণগুলোতে সাংবাদিকদের জন্য ছাড় রাখা হলেও চূড়ান্ত সংস্করণে তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করার আগে তাঁকে জানাতে হবে এবং তাঁর সম্মতি নিতে হবে। গবেষণা, আর্কাইভ সংরক্ষণ ও পরিসংখ্যানগত কাজের ক্ষেত্রে ছাড় থাকলেও সাংবাদিকতাকে এর আওতামুক্ত রাখা হয়নি। ডিএনপিএর আশঙ্কা, কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করার আগে তাঁকে জানাতে হলে তিনি প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন, সাক্ষীদের ভয় দেখাতে পারেন কিংবা প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই অনুসন্ধান বাধাগ্রস্ত করতে পারেন।
সরকারের অনুমোদন ছাড়া তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা সাংবাদিকদের তথ্যসূত্র শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে বলে প্রকাশকদের দাবি। এছাড়াও, আইনে কোনো ব্যক্তি যেকোনো সময় তাঁর সম্মতি প্রত্যাহার করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমকে তথ্য মুছে ফেলার বাধ্যবাধকতা থাকবে।
"আইনটি সংবাদ কী, সেই ধারণাই বদলে দিচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিতে বাধ্য করা হলে সংবাদকক্ষ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং তা কার্যত আগাম সেন্সরশিপের ব্যবস্থা তৈরি করবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, নিউ ডেলি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাধবী গোরাদিয়া দাভান (ডিএনপিএর আইনজীবী), মুকেশ আম্বানি, গৌতম আদানি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১টি সংবাদমাধ্যম, ২৫০ কোটি রুপি জরিমানা, ২ কোটি ৬২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!