📌 আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্তিতে নয়াদিল্লিতে ‘ভিক্টরি ডে’ পালিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিয়েও ভারত তালেবানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। পাকিস্তান ও চীনের প্রভাব মোকাবিলায় দিল্লির এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা ‘সুযোগসন্ধানী নীতি’ হিসেবে দেখছেন
আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে অবস্থিত আফগান দূতাবাসে আয়োজিত হয় ‘ভিক্টরি ডে’ উদ্যাপন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় কূটনীতিকদের পাশাপাশি প্রায় দুই ডজন বিদেশি কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। ২০২১ সালের ১৭ আগস্ট তালেবান কাবুল দখলের পর ভারত দ্রুত দূতাবাস খালি করে দেয়। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও নয়াদিল্লি প্রকাশ্যে তালেবানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্তিতে নয়াদিল্লিতে ‘ভিক্টরি ডে’ পালিত হয়েছে
- 📌 ভারত আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও তালেবানের সঙ্গে প্রকাশ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে
- 📌 ২০০১ সালে তালেবান সরকারের পতনের পর ভারত আফগানিস্তানে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলারের উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছিল
- 📌 পাকিস্তান ও চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারত তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে
- 📌 তালেবানের ভারপ্রাপ্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মুফতি নূর আহমদ নূর ভারতের বিভিন্ন কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন
📰 বিস্তারিত
২০২১ সালের ১৭ আগস্ট তালেবান কাবুল দখলের পর ভারত দ্রুত দূতাবাস খালি করে দেয়। এরপর থেকে নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিয়েও তালেবানের সঙ্গে সীমিত সম্পর্ক বজায় রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের ‘সতর্ক সম্পৃক্ততা’ হলেও অনেকেই একে ‘বাস্তববাদী নীতি’ হিসেবে দেখছেন। ২০০১ সালে তালেবান সরকারের পতনের পর ভারত আফগানিস্তানে সড়ক, বাঁধ, সংসদ ভবন, হাসপাতাল ও শিক্ষা খাতে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলারের উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসে। এরপর ভারতের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল—তালেবানকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা অথবা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিয়েই সম্পর্ক বজায় রাখা। নয়াদিল্লি শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় পথ বেছে নিয়েছে, যাতে তাদের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও প্রভাব পুরোপুরি হারিয়ে না যায়। এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ পাকিস্তানও। একসময় তালেবানের প্রধান মিত্র হিসেবে পরিচিত ইসলামাবাদের সঙ্গে এখন আফগান শাসকদের সম্পর্ক তিক্ত। সীমান্তে একাধিক সংঘর্ষের পর দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস বেড়েছে। ভারত এই পরিস্থিতিকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে।
আরেকটি কারণ চীন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সরে যাওয়ার পর বেইজিং আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে সক্রিয় হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়াও তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। ফলে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়তে ভারতও সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি উচ্চপর্যায়ের সফরে নয়াদিল্লি যান। এরপর থেকেই দিল্লিতে আফগান দূতাবাস কার্যত তালেবান-নিযুক্ত কূটনীতিকদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
বর্তমানে তালেবানের ভারপ্রাপ্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মুফতি নূর আহমদ নূর ভারতের স্বাধীনতা দিবস, রাষ্ট্রপতি ভবনের সংবর্ধনা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। যদিও ভারত এখনো তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, তবু দিল্লি, মুম্বাই ও হায়দরাবাদের আফগান মিশনগুলো তালেবান-মনোনীত কর্মকর্তারাই পরিচালনা করছেন।
"গত পাঁচ বছরে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আফগানিস্তানে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার হয়েছে। আফগানিস্তানের ভূখণ্ড কোনো নেতিবাচক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়; বরং এটি আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য ও যৌথ সমৃদ্ধির সেতু হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নয়াদিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুফতি নূর আহমদ নূর, আমির খান মুত্তাকি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার, ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!