📌 উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির প্রেক্ষিতে আইসল্যান্ড প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা নীতি গ্রহণ করেছে। দেশটির চার লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে ন্যাটো সদস্য হলেও নিজস্ব সেনাবাহিনী নেই আইসল্যান্ডের। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নর্দার্ন ভাইকিং মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও বেলজিয়ামের যুদ্ধজাহাজ ও বিমান অংশ নিয়েছে
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র আইসল্যান্ডের চারপাশে গর্জন তুলে উড়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পি-৮এ পোসেইডন’ সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধবিমান। একই সঙ্গে কানাডার যুদ্ধজাহাজ এইচএমসিএস ‘ভিল দ্য কেবেক’ সমুদ্রে টহল দিচ্ছে। তবে এই সামরিক মহড়ায় আইসল্যান্ডের কোনো সেনাসদস্য অংশ নিচ্ছেন না। প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার দেশটির নিজস্ব স্থায়ী সামরিক বাহিনী না থাকলেও ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তারা ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হুমকির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইসল্যান্ডের নিজস্ব সেনাবাহিনী না থাকলেও ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তারা সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ‘নর্দার্ন ভাইকিং’ মহড়ায় অংশ নিয়েছে বেলজিয়ামের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ও কানাডার যুদ্ধজাহাজ
- 📌 আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থরগেরদুর ক্যাট্রিন গুনারসদোত্তির জানান, রাশিয়া ও চীন উত্তর আটলান্টিকে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে
- 📌 দেশটির চারটি ট্রান্স-আটলান্টিক কেবল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাশকতার ঝুঁকিতে রয়েছে
- 📌 আইসল্যান্ড প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা নীতি গ্রহণ করেছে, যেখানে ন্যাটো সদস্যপদ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ও চীনের কৌশলগত আগ্রহের কারণে আইসল্যান্ড নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে বাধ্য হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী থরগেরদুর ক্যাট্রিন গুনারসদোত্তির সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানান, রাশিয়া উত্তর আটলান্টিকে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। একই সঙ্গে চীনও উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত আগ্রহ দেখাচ্ছে।
আইসল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব নতুন নয়। দেশটি গ্রিনল্যান্ড-আইসল্যান্ড-যুক্তরাজ্য বা ‘জিআইইউকে গ্যাপ’ নামে পরিচিত সামুদ্রিক করিডরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এই পথ দিয়েই উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চল থেকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার জলসীমায় যাতায়াত করা যায়। রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় নৌবহরের জন্য এটি উত্তর আটলান্টিকে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নর্দার্ন ভাইকিং সামরিক মহড়ায় ন্যাটো মিত্ররা আইসল্যান্ডের চারপাশের সমুদ্রপথ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার অনুশীলন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধ এবং সমুদ্রের মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ন্যাটোর ইউরোপীয় বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল অ্যালেক্সাস জি গ্রিনকেভিচ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উত্তর আটলান্টিকের নতুন হুমকির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
"রাশিয়া ও চীনের তথাকথিত গবেষণা জাহাজগুলো এখন যৌথভাবে এই অঞ্চলে টহল দিচ্ছে। এসব জাহাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আইসল্যান্ডকে অবশ্যই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।"
আইসল্যান্ডের জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ সমুদ্রের তলদেশ। দেশটির সঙ্গে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার যোগাযোগ রক্ষাকারী চারটি ট্রান্স-আটলান্টিক কেবল রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নাশকতা ও ‘হাইব্রিড হামলা’র আশঙ্কা বাড়ায় এসব কেবলও নিরাপত্তা ঝুঁকির অংশ হয়ে উঠেছে।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় গত ফেব্রুয়ারিতে আইসল্যান্ড প্রথমবারের মতো একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তানীতি গ্রহণ করেছে। এতে ন্যাটো সদস্যপদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিকেই দেশের নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আইসল্যান্ড, উত্তর আটলান্টিক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: থরগেরদুর ক্যাট্রিন গুনারসদোত্তির (আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী), জেনারেল অ্যালেক্সাস জি গ্রিনকেভিচ (ন্যাটোর ইউরোপীয় বাহিনীর সর্বাধিনায়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ লাখ (আইসল্যান্ডের জনসংখ্যা), ২৮০ (আইসল্যান্ডিক কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা সংখ্যা), ৪০ হাজার (যুদ্ধকালীন মোবিলাইজেশন ফোর্সের সদস্য সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!