📌 আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে আদালতের স্বাধীনতার প্রতি ‘স্পষ্ট আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, আইসিসি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের কারণে আদালতটি ‘দূষিত ও রাজনৈতিকভাবে কলুষিত’
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞাকে আদালতের স্বাধীনতার প্রতি একটি ‘স্পষ্ট আক্রমণ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের প্রধান বিচারপতি তোমোকো আকানে এবং সিনিয়র ট্রায়াল আইনজীবী আব্দুলায়ে সেয়েকে নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, আইসিসি একটি ‘দূষিত ও রাজনৈতিকভাবে কলুষিত প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে কাজ করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইসিসি প্রধান বিচারপতি তোমোকো আকানে ও সিনিয়র আইনজীবী আব্দুলায়ে সেয়েকে নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র
- 📌 মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, আইসিসি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের কারণে ‘দূষিত ও রাজনৈতিকভাবে কলুষিত’
- 📌 আইসিসির বিবৃতি: নিষেধাজ্ঞা বিচারকদের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ণ করছে
- 📌 জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইসিসির পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অভিযোগ: নিষিদ্ধ ব্যক্তিরা সরকারের সম্মতি ছাড়াই তদন্তে জড়িত ছিলেন
📰 বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে আদালতের স্বাধীনতার প্রতি একটি ‘স্পষ্ট আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের প্রধান বিচারপতি তোমোকো আকানে এবং সিনিয়র ট্রায়াল আইনজীবী আব্দুলায়ে সেয়েকে নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, আইসিসি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের কারণে আদালতটি ‘দূষিত ও রাজনৈতিকভাবে কলুষিত’ হিসেবে কাজ করছে।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই নিষেধাজ্ঞাগুলো একটি নিরপেক্ষ বিচারিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার প্রতি স্পষ্ট আক্রমণ। বিচারক, প্রসিকিউটর ও কর্মীদের লক্ষ্য করে এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ণ করে।” যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পূর্বে এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন যে নিষিদ্ধ ব্যক্তিরা সরকারের সম্মতি ছাড়াই তদন্তে জড়িত ছিলেন, যদিও তিনি কোনো উদাহরণ উল্লেখ করেননি।
জাপান সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তোশিহিরো কিতামুরা এক বিবৃতিতে বলেন, “জাপান সর্বদা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে সমর্থন করে আসছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের গুরুতর অপরাধের বিচারের জন্য আইসিসির প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করি।” জাপান আইসিসির বৃহত্তম অর্থদাতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও আইসিসির পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান আন্তোনিও কোস্টা সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলেন, তারা আইসিসির প্রধান কর্মকর্তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মতে, বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার রয়েছে এবং কোনো বহিরাগত চাপের মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়।
“যখন বিচারিক কর্মকর্তাদের আইন প্রয়োগের জন্য হুমকি দেওয়া হয়, তখন আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থাই ঝুঁকির মুখে পড়ে।”
আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২০০২ সালে। এটি সর্বাধিক গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে থাকে। যখন কোনো দেশ নিজস্ব বিচার ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন আইসিসি শেষ অবলম্বন হিসেবে কাজ করে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা। এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় লেনদেন নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির বিরুদ্ধে একটি বড় কূটনৈতিক অভিযান শুরু করে। তারা আইসিসিকে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করে এবং অংশীদার দেশগুলিকে আদালত থেকে সরে আসার আহ্বান জানায়। ইতিমধ্যে চাদ ও ভেনেজুয়েলা এই পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। আইসিসি এ ধরনের পদক্ষেপকে ন্যায়বিচারের সামগ্রিক প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্র রোম সংবিধির স্বাক্ষরকারী হলেও কখনো তা অনুমোদন করেনি। ইসরায়েল ও রাশিয়াও আইসিসির সদস্য নয়। গত সপ্তাহে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ চারটি সংস্থা নিউইয়র্কের একটি আদালতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, আইসিসির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধাপরাধের শিকারদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
২০২৩ সালে আইসিসি ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর প্রতিক্রিয়ায় মস্কো আদালতের সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, যার মধ্যে বিচারপতি তোমোকো আকানেও রয়েছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারপতি তোমোকো আকানে, আব্দুলায়ে সেয়ে, মার্কো রুবিও
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!