📌 ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের মায়ুন দ্বীপ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি দখল করে নিলে বিশ্বের জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনে বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে। গত সপ্তাহে মোখা বন্দর দখলের পর তারা আফ্রিকার উপকূল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানায়, ইয়েমেন থেকে ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজারাধিক মানুষ জিবুতিতে আশ্রয় নিচ্ছেন
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন (পেরিম) দ্বীপ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি দখল করে নিলে বিশ্বের জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিরাপত্তায় বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে। গত সপ্তাহে তারা বন্দরনগর মোখা দখল করে নেওয়ার পর এখন আফ্রিকার উপকূল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এই অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বাড়তি ঝুঁকিতে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের লোহিত সাগরের পুরো উপকূল, মায়ুন দ্বীপ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি দখল করে নিলে বিশ্বের ১২ শতাংশ বাণিজ্য ও ১১ শতাংশ তেল পরিবহন ঝুঁকিতে পড়েছে।
- 📌 ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজারাধিক ইয়েমেনি আফ্রিকার জিবুতিতে আশ্রয় নিচ্ছেন, যেখানে তাদের খাবার ও পানি দেওয়া হচ্ছে।
- 📌 বাব আল-মানদেব প্রণালি হরমুজ প্রণালির চেয়ে সরু, ফলে হুতিদের জন্য জাহাজ নিশানা করা সহজ হয়েছে।
- 📌 ২০২৩-২০২৫ সালের মধ্যে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ৫০-৫৫ শতাংশ কমেছে এবং বড় জাহাজগুলো কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যাচ্ছে, যার ফলে খরচ বেড়েছে এবং যাত্রা সময় ২০ দিনের বেশি বাড়ছে।
- 📌 ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নৌবাহিনীর জাহাজের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে, যার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুতা পুনরুত্থিত হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীরা তাদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করে চলেছে। তারা গত সপ্তাহে মোখা বন্দর দখল করে নেওয়ার পর এখন আফ্রিকার উপকূল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এই অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে বাব আল-মানদেব প্রণালি, যা বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এবং তেলের ১১ শতাংশ পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাদের হাতে চলে গেছে।
হুতি বিদ্রোহীরা তাদের রাজনৈতিক শাখার সদস্য হাজেম আল-আসাদ বলেছেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ ও পরিবহন করা পণ্যের পরিমাণ ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ কমেছে।
নৌবহরের বিশেষজ্ঞ ও সাবেক নৌ কর্মকর্তা আলেক্সান্দ্রু ক্রিস্তিয়ান হুদিস্তেয়ানু বলেছেন, বাব আল-মানদেব প্রণালি হরমুজ প্রণালির চেয়ে সরু। হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তাদের সামগ্রিক সক্ষমতায় মৌলিক পরিবর্তন আনেনি, তবে জাহাজ নিশানা করা তাদের জন্য সহজ হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, হুতিরা উপকূলে কামান বসিয়ে ইয়েমেনের উপকূলের কাছের জলসীমায় থাকা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে বাব আল-মানদেব ও হরমুজ প্রণালির দিকে বেশি পাঠানো হয়েছিল। এর ফলে হর্ন অব আফ্রিকার উপকূলের কাছে নিরাপত্তার কিছু ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে সংগঠিত সামুদ্রিক অপরাধী চক্রগুলো। হুদিস্তেয়ানু সতর্ক করে বলেছেন, সোমালিয়ার উপকূলজুড়ে জলদস্যুতার পুনরুত্থান ঘটেছে।
"বাব আল-মানদেব প্রণালি হরমুজ প্রণালির চেয়ে সরু। হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তাদের সামগ্রিক সক্ষমতায় মৌলিক কোনো পরিবর্তন আনেনি। তবে এর ফলে আগের তুলনায় জাহাজ নিশানা করা তাদের জন্য সহজ হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লোহিত সাগর, মায়ুন (পেরিম) দ্বীপ, বাব আল-মানদেব প্রণালি, জিবুতি, সোমালিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাজেম আল-আসাদ (হুতি রাজনৈতিক শাখার সদস্য), আলেক্সান্দ্রু ক্রিস্তিয়ান হুদিস্তেয়ানু (নৌবহর বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ কিলোমিটার, ২ হাজারাধিক মানুষ, ১২ শতাংশ বাণিজ্য, ১১ শতাংশ তেল, ৮ শতাংশ এলএনজি, ৫০-৫৫ শতাংশ কমেছে জাহাজ চলাচল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!