📌 ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেব প্রণালি দখল করে নৌপথে হুমকি সৃষ্টি করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে বিশ্ববাণিজ্য, বিশেষত তেল পরিবহনে বিপর্যয় ঘটছে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠেছে এবং বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে
বাব আল-মানদেব প্রণালি হুতিদের দখলে যাওয়ার কারণে বিশ্ববাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। এছাড়াও সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধের কারণে তেল পরিবহনে নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাব আল-মানদেব প্রণালি হুতি বিদ্রোহীদের দখলে চলে গেছে; তারা ইয়েমেনের মোখা বন্দর ও পেরিম দ্বীপ নিয়ন্ত্রণ করছে।
- 📌 তেল পরিবহনে বিপর্যয়: হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর বাব আল-মানদেব ছিল বিকল্প পথ, কিন্তু এখনও তা হুমকির মুখে। আগস্টে সৌদি তেল পরিবহন ৪ লাখ ব্যারেল/দিন থেকে কমে এসেছে।
- 📌 তেল দামে নতুন ঝটিকা: ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার পর্যন্ত উঠে ১০৪ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও বেড়েছে।
- 📌 বিশ্ববাণিজ্যের প্রভাব: জাহাজগুলো সুয়েজ খাল পেরিয়ে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল ধরে ঘুরপথে যেতে বাধ্য; যাত্রা সময় এক মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
- 📌 বাজার বিশ্লেষকদের সতর্কতা: রিচার্ড ব্রোঞ্জ (এনার্জি অ্যাসপেক্টস) বলেন, বাব আল-মানদেব হারানোর আশঙ্কা থেকে বোঝা যাচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি কতটা অস্থিতিশীল।
📰 বিস্তারিত
বাব আল-মানদেব প্রণালি ইয়েমেন ও জিবুতির মাঝখানে অবস্থিত। এই সরু জলপথে হুতি বিদ্রোহীরা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা জানান, হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং পেরিম দ্বীপও তাদের দখলে। এই দ্বীপ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী এই হুমকির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট খুলতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সপ্তম মাসে চলমান এই যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে বাব আল-মানদেব প্রণালির গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখনও হুতিরা এই পথে জাহাজ চলাচলের হুমকি দিচ্ছে।
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্কতা নেয়। ইরাকি কর্তৃপক্ষকে আরও সময় দিতে তারা আপাতত সংযত আছে। আগস্টে বাব আল-মানদেব দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন প্রতিদিন ৪ লাখ ব্যারেল থেকে কমে এসেছে। এখন তা আরও কমেছে বলে জানান বিশ্লেষকরা।
বাব আল-মানদেব প্রণালি হারানোর কারণে জাহাজগুলোকে সুয়েজ খাল পেরিয়ে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল ধরে ঘুরপথে যেতে হবে। এই পথে যাত্রা সময় এক মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়াও জাহাজভাড়া বাড়ছে। এনার্জি অ্যাসপেক্টসের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রোঞ্জ সিএনএনকে বলেন, ‘বাব আল-মানদেব এত দিন বাণিজ্যের প্রাণের মতো কাজ করেছে। এই পথ হারানোর আশঙ্কা থেকে বোঝা যাচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতি কতটা অস্থিতিশীল।’
"বাব আল-মানদেব এত দিন বাণিজ্যের প্রাণের মতো কাজ করেছে। এই পথ হারানোর আশঙ্কা থেকে বোঝা যাচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতি কতটা অস্থিতিশীল।"
রিচার্ড ব্রোঞ্জ (এনার্জি অ্যাসপেক্টসের সহপ্রতিষ্ঠাতা)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাব আল-মানদেব প্রণালি (ইয়েমেন-জিবুতি), মোখা বন্দর, পেরিম দ্বীপ, সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিচার্ড ব্রোঞ্জ (এনার্জি অ্যাসপেক্টস), হুতি বিদ্রোহীরা, ইয়েমেনের কর্মকর্তারা, জোহানেস রাউবাল (কেপলার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ কোটি ব্যারেল (হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহন), ৪৫ লাখ ব্যারেল (ইয়ানবু বন্দর দিয়ে দৈনিক রপ্তানি), ৩০ লাখ ব্যারেল (বাব আল-মানদেব দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহন), ৪ লাখ ব্যারেল (আগস্টে বাব আল-মানদেব দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহন), ১০৭ ডলার (ব্রেন্ট ক্রুডের সর্বোচ্চ দাম), ১০৪ ডলার (ব্রেন্ট ক্রুডের বর্তমান দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!