📌 লিবিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ‘৪+৪ কমিটি’ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দুই বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্সিয়াল ও আইনসভা নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বিভক্তি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথ কতটা মসৃণ হবে তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন
ত্রিপোলিতে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সম্মেলনে লিবিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো জাতিসংঘের সমর্থনে ‘৪+৪ কমিটি’ নামে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্সিয়াল ও আইনসভা নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। জাতিসংঘের লিবিয়া বিষয়ক সহায়তা মিশন (ইউএনএসএমআইএল)-এর মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভক্তি ও সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় লিবিয়ার ‘৪+৪ কমিটি’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে
- 📌 দুই বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্সিয়াল ও আইনসভা নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা
- 📌 লিবিয়ার রাজনৈতিক বিভক্তি শুরু হয় ২০১১ সালের বিদ্রোহের পর থেকে
- 📌 পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের মধ্যে বিভক্তি গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে
- 📌 জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকারের প্রধান আবদুল হামিদ দিবেইবাহ
- 📌 পূর্বাঞ্চলে স্বঘোষিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির নেতৃত্বে খলিফা হাফতারের প্রভাব
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ‘৪+৪ কমিটি’ চুক্তির মাধ্যমে লিবিয়ার রাজনৈতিক দলগুলো দুই বছরের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। এই চুক্তি দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভক্তি ও সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বিভক্তি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে।
লিবিয়ার রাজনৈতিক বিভক্তি শুরু হয় ২০১১ সালের বিদ্রোহের পর থেকে, যখন দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মর গাদ্দাফির পতন ঘটে। বিদ্রোহের পর দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা শুরু হলেও পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের মধ্যে বিভক্তি গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে। ২০১২ সালের আগস্টে জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্বাচিত সাধারণ জাতীয় কংগ্রেসকে, যা ছিল দেশটির প্রথম ও একমাত্র শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘটনা। তবে এই গণতান্ত্রিক অগ্রগতি দ্রুতই সশস্ত্র সংঘাতে পরিণত হয়।
২০১৪ সালের মে মাসে বিদ্রোহী সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। একই বছরে অনুষ্ঠিত বিভক্ত নির্বাচনের পর কিছু সংসদ সদস্য পূর্বাঞ্চলের তব্রুক শহরে স্থানান্তরিত হন এবং হাফতারের সামরিক সুরক্ষায় হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস গঠন করেন। রাজনৈতিক বিভক্তি খোলা যুদ্ধে পরিণত হয় ২০১৯ সালের এপ্রিলে, যখন হাফতার রাজধানী ত্রিপোলি দখলের জন্য ১৪ মাসের ব্যর্থ অভিযান চালান।
জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকারের প্রধান আবদুল হামিদ দিবেইবাহ ত্রিপোলিতে অবস্থান করছেন। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে রয়েছে উচ্চ রাজ্য পরিষদ, যার নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ তাকালা। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নেতৃত্বে রয়েছেন স্পিকার আগিলা সালেহ, যিনি পূর্বাঞ্চলের প্রশাসনের সমর্থক। পূর্ব ও দক্ষিণ লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে স্বঘোষিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির হাতে, যার প্রধান খলিফা হাফতার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাফতারের পুত্র সাদ্দাম হাফতার পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
"আমি মনে করি এটি আলাদা হওয়ার কারণ হলো যে এই চুক্তিটি প্রথমবারের মতো সক্রিয় দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোতে, যেমন ২০২১ সালের জেনেভা চুক্তি বা ২০১৫ সালের স্কিরাত চুক্তিতে, চুক্তিটি দুই কাউন্সিলের মধ্যে বা নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ত্রিপোলি, লিবিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্পিকার আগিলা সালেহ, আবদুল হামিদ দিবেইবাহ, খলিফা হাফতার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪+৪ কমিটি, ২৪ মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!