📌 চীন-নেপাল সীমান্তে বিধ্বংসী বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮২ জনে। উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত কর্মীরা জানিয়েছেন, ভারী কাদা ও দুর্গম ভূমির কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। নিখোঁজ রয়েছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ
চীন ও নেপালের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে বিধ্বংসী বন্যায় মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭৫ জনে। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তিব্বত অঞ্চলে সাত জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করায় দুই দেশ মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮২ জনে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত বুধবার হিমালয় পাদদেশের কয়েকটি গ্রাম বিধ্বস্ত হয় পাহাড়ি ঢল ও সুনামির মতো ধেয়ে আসা কাদা-পানির তোড়ে
- 📌 দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন
- 📌 উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত কর্মীরা জানিয়েছেন, ভারী কাদার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে
- 📌 মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, হিমবাহ ধসের কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে
- 📌 নেপালের নুয়াকোট জেলায় সেনা ক্যাম্পে উদ্ধারকৃতদের তালিকায় স্বজনদের নাম খুঁজছেন শত শত মানুষ
📰 বিস্তারিত
গত বুধবার চীন-নেপাল সীমান্ত অঞ্চলে বিধ্বংসী বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএসি) জানিয়েছে, হিমবাহ ধসের কারণে পর্বতের নিচের দিকে প্রবল গতিতে বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত নেমে আসে, যা এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দুই দেশের উদ্ধার কর্মীরা চতুর্থ দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
নেপাল স্কাউট ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের কর্মী কাওয়ান কৈরালা জানান, উদ্ধার কাজে নিয়োজিত দলগুলো হাঁটু সমান ভারী কাদার কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। টানা ১৮ ঘণ্টা কাজ করার পর ক্লান্ত কৈরালা বলেন, ‘মানুষ স্বজনদের মরদেহ হলেও ফেরত চায়, কিন্তু কাদার কারণে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। আমি আগে নেপালে বন্যা দেখেছি, কিন্তু এমন বীভৎস পরিস্থিতি কখনো দেখিনি।’
নেপালের নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা বুদ্ধি রাম ডাঙ্গোল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘নদীর পাশের সব ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’ নুয়াকোটের বির্দুর এলাকায় অবস্থিত সেনা ক্যাম্পে টাঙানো উদ্ধারকৃতদের তালিকায় স্বজনদের নাম খুঁজছেন শত শত মানুষ। নিজ ১৮ বছর বয়সী ছেলের খোঁজে আসা কালকা সারদা আশাহীন কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্টে কাজ করত। এখানে উদ্ধার তালিকায় তাঁর নাম নেই। বেঁচে থাকলে এতক্ষণে সে নিশ্চিত যোগাযোগ করত, তাই এখন আর কোনো আশা দেখছি না।’
‘মানুষ স্বজনদের মরদেহ হলেও ফেরত চায়, কিন্তু কাদার কারণে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না।’ — কাওয়ান কৈরালা, নেপাল স্কাউট ডিজাস্টার রেসপন্স টিম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীন-নেপাল সীমান্ত অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাওয়ান কৈরালা, বুদ্ধি রাম ডাঙ্গোল, কালকা সারদা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মৃত্যু ৬৮২ জন, নিখোঁজ ৩,০০০ জন, উদ্ধারকৃত মরদেহ ৬৮২টির বেশি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!