📌 যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের সূচক ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের কারণে বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন দুর্বল হয়েছে। তবে বাংলাদেশসহ কিছু দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রগতির লক্ষণ দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূতকরণ এবং ব্যক্তিগত প্রতিশোধের পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে আইনের শাসনকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র ও নির্বাচন সহায়তা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া প্রকাশিত ‘গ্লোবাল স্টেট অব ডেমোক্রেসি’ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিচার পাওয়ার সুযোগ অন্তত গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের সূচক ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে
- 📌 ২০২৫ সালে টানা ১১তম বছর গণতান্ত্রিক অবনতির চেয়ে অগ্রগতির সংখ্যা বেশি
- 📌 ট্রাম্প প্রশাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আইনের শাসন দুর্বল হয়েছে
- 📌 বাংলাদেশসহ নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় গণবিক্ষোভের ফলে ক্ষমতাচ্যুত হয় নেতা
- 📌 ১৭৪টি দেশের মধ্যে ৭১টি (৪১%) দেশে আইনের শাসন নিম্নমানের অবস্থানে
- 📌 ২৯টি দেশে আইনের শাসনের সূচকে অবনতি হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের ১৭৪টি দেশের গণতান্ত্রিক অবস্থান মূল্যায়ন করে ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের অবনতির মাত্রা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে এটি বিশ্বজুড়ে চলমান একটি বড় প্রবণতার অংশ। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ২০২৫ সাল ছিল টানা ১১তম বছর, যখন গণতান্ত্রিক অগ্রগতির চেয়ে অবনতির সংখ্যা বেশি ছিল। এটি প্রতিষ্ঠানটির রেকর্ড শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী গণতান্ত্রিক অবনতির ধারা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত নির্বাহী শাখায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছেন এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণ ও শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সেই ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন দুর্বল হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়ার মহাসচিব কেভিন কাসাস-জামোরা সতর্ক করেছেন, গণতন্ত্রের অবনতি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে। তিনি বলেছেন, “গণতন্ত্রের মানের অবনতি এবং সংঘাত বৃদ্ধির মধ্যে সম্পর্ককে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না।”
বিশ্বজুড়ে আইনের শাসনকে ২০২৫ সালের সবচেয়ে দুর্বল ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূল্যায়ন করা দেশগুলোর মধ্যে ৭১টি (৪১%) দেশে আইনের শাসনের ক্ষেত্রে নিম্নমানের অবস্থানে ছিল। একই সঙ্গে এই ক্ষেত্রের অবনতির গতি ছিল দ্রুত। মোট ২৯টি দেশে আইনের শাসনের সূচকে অবনতি হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশসহ নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় তরুণদের নেতৃত্বে গণবিক্ষোভের ফলে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা নেতাদের ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক সংস্কার করা কঠিন প্রমাণিত হয়েছে”।
"আমাদের গবেষণার মূল বার্তা হলো, যেকোনো দেশের নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে গণতন্ত্রে বিনিয়োগ থাকা উচিত। গণতন্ত্রের মানের অবনতি এবং সংঘাত বৃদ্ধির মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, তা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, কেভিন কাসাস-জামোরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর, ৩০ বছর, ১৭৪টি দেশ, ১১তম বছর, ৭১টি দেশ, ৪১ শতাংশ, ২৯টি দেশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!