📌 গাজা যুদ্ধের তিন বছর পর নিজের দ্রাক্ষাক্ষেতে ফিরেছেন খালেদ আবু মাদিন। যুদ্ধে প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ক্ষেত পুনরুদ্ধারে ব্যয় করেছেন ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। এবার ফলন হয়েছে যুদ্ধপূর্ব অবস্থার ৪০ শতাংশ
গাজা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত শেখ ইজলিন এলাকায় ভোর চারটার সময়ও অন্ধকার ও নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। স্থানীয় দ্রাক্ষাকৃষক খালেদ আবু মাদিন এখনও তাঁর পুরোনো রুটিন মেনে চলেন। যুদ্ধের প্রায় তিন বছর পর আবারও তিনি তাঁর দ্রাক্ষাক্ষেতে ফিরেছেন। খালেদ তাঁর কর্মীদের সঙ্গে ক্ষেতের মধ্য দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন, টিকে থাকা দ্রাক্ষালতাগুলো পরীক্ষা করছেন এবং ফসল কাটছেন। ভোরের শীতল বাতাসে ধীরে ধীরে আলো ফুটতে শুরু করেছে। খালেদের কাছে এবারের ফসল শুধু ফলন নয়, হারানো জীবনের প্রত্যাবর্তন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজা যুদ্ধের তিন বছর পর নিজের দ্রাক্ষাক্ষেতে ফিরেছেন খালেদ আবু মাদিন (৫০)
- 📌 যুদ্ধে তাঁর ৬০ শতাংশ দ্রাক্ষালতা ধ্বংস হয়ে যায়, যার পুনরুদ্ধারে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন ডলার
- 📌 যুদ্ধের সময় ইতালিতে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকলেও নিজের ক্ষেত ছেড়ে যেতে রাজি হননি খালেদ
- 📌 এবারের ফলন যুদ্ধপূর্ব অবস্থার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে
- 📌 ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৭৩ হাজারের বেশি
📰 বিস্তারিত
খালেদ আবু মাদিনের পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে শেখ ইজলিন এলাকায় দ্রাক্ষা ও ডুমুর চাষ করে আসছেন। তাঁর বাবা ও দাদার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই জমিতেই তিনি পুরোপুরি কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেন। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাঁর জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। ইতালিতে তাঁর স্ত্রীর নাগরিকত্ব থাকায় পরিবারের অন্য সদস্যরা সেখানে নিরাপদে চলে যান। কিন্তু খালেদ নিজের ক্ষেত ছেড়ে যেতে রাজি হননি। যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাস তিনি গাজা শহরেই থেকে যান। পরবর্তীতে ইসরায়েলি হামলা আরও তীব্র হলে তাঁকে তাঁর বৃদ্ধ মাকে নিয়ে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় পালিয়ে যেতে হয়।
যুদ্ধের সময় তাঁর ক্ষেতের অবস্থা জানতে তিনি কয়েকবার চেষ্টা করেন। একবার দুই কর্মীকে নিয়ে ক্ষেত পরিদর্শনে গেলে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে একজন কর্মী আহত হন। রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় উদ্ধারের জন্য। তবুও খালেদ তাঁর ক্ষেত ছেড়ে যেতে রাজি হননি। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে। ইসরায়েলের বিধিনিষেধের কারণে কৃষি উপকরণ সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। তবুও খালেদ তাঁর ক্ষেত পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
“আমি মনে করি আমি আমার আত্মাকে ফিরে পেয়েছি।”
এবারের ফলন যুদ্ধপূর্ব অবস্থার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। খালেদ জানান, পুরোপুরি পুনরুদ্ধারের জন্য আরও সময় ও অর্থের প্রয়োজন। যুদ্ধে তাঁর ক্ষেতের প্রায় ৬০ শতাংশ দ্রাক্ষালতা ধ্বংস হয়ে যায়। পুরোনো দ্রাক্ষালতাগুলোও মাটিতে মিশে গেছে। তবুও তিনি হার না মানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন অঙ্কুর বের হতে শুরু করেছে, ফসল ফিরে আসছে। খালেদ বলেন, “পুরোনো মূল থেকে নতুন ডাল বের হওয়া দেখে আমার খুব আবেগাপ্লুত লাগছিল। দীর্ঘ দুঃখের পর আনন্দ ও আশার অনুভূতি মিশে ছিল।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেখ ইজলিন, গাজা শহর, ফিলিস্তিন
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: খালেদ আবু মাদিন (৫০)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৭৩ হাজারের বেশি, ক্ষেত পুনরুদ্ধারে ব্যয় ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যুদ্ধপূর্ব ফলনের ৪০ শতাংশ ফলন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!