📌 ফ্রান্সের বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলেনশনকে বামপন্থীরা ‘হিরো’ বলে সম্মান জানাচ্ছেন, যখন ডানপন্থীরা তাকে ‘রাডিক্যাল’ বলে সমালোচনা করছেন। তিনি ২০২৭ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফার-রাইট নেতা মারিন লেপেনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন। তার প্রস্তাবিত নীতি হলো ৬০ বছর বয়সে অবসর, মাসিক ১৭০০ ইউরো মজুরি নিশ্চিতকরণ, ফ্রান্সের NATO থেকে বেরিয়ে আসা এবং অর্থনীতির জাতীয়করণ
ফ্রান্সের বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলেনশনকে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে ‘রাডিক্যাল’ হিসেবে দেখছেন ডানপন্থীরা, ‘দেশত্যাগী’ বলে অভিযুক্ত করেছেন প্রাক্তন সহযোগীরা, আর ‘হিরো’ বলে সম্মানিত হচ্ছেন বিক্ষোভে নেমে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদেরা। ফ্রান্স আনবাউড (LFI) পার্টির নেতা মেলেনশন এখন বামপন্থীরা সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন এবং ২০২৭ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফার-রাইট ন্যাশনাল র্যালির নেতা মারিন লেপেনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মেলেনশনের বিতর্কিত প্রস্তাব**: ৬০ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার অধিকার, মাসিক ১৭০০ ইউরো (১৯০০ ডলার) মজুরি নিশ্চিতকরণ, ফ্রান্সের NATO থেকে বেরিয়ে আসা, অর্থনীতির জাতীয়করণ এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ফ্রান্সের ঋণ পরিশোধ বন্ধ করার দাবি।
- 📌 **বামপন্থীরা ‘হিরো’**: ছাত্র-ছাত্রীদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভে মেলেনশনকে সমর্থন জানাচ্ছেন, যারা তার নীতি ‘কষ্টের জীবনযাপন’ থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি বলে মনে করছেন।
- 📌 **ডানপন্থীরা ‘রাডিক্যাল’**: ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়েন লেকর্নু মেলেনশনের ঋণ পরিশোধ বন্ধের প্রস্তাবকে ‘চুরি’ বলে সমালোচনা করেছেন। অর্থনীতিবিদরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, তার প্রস্তাবিত ব্যাপক খরচ বাড়ানো দেশের ঋণ বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
- 📌 **বিলিয়নিয়ারদের উপর ২% কর**: মেলেনশনের অর্থনৈতিক নীতি হলো বিলিয়নিয়ারদের সম্পদের উপর ২% কর আর বড় বড় উত্তরাধিকারকে করযোগ্য করার মাধ্যমে তার খরচ বাড়ানোর পরিকল্পনা।
- 📌 **ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক**: মেলেনশন ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে, কিন্তু ইউএন-র নিয়মের বিরুদ্ধে যাওয়া ফ্রান্সের সামাজিক, পরিবেশগত বা অর্থনৈতিক নীতিকে প্রত্যাখ্যান করতে চান।
📰 বিস্তারিত
মেলেনশন ৭ নভেম্বর প্যারিসের উত্তরে লে বুরজেটে একটি র্যালিতে তার নীতিগুলো উপস্থাপন করছেন। তার প্রস্তাবিত নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ৬০ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার অধিকার, মাসিক ১৭০০ ইউরো (১৯০০ ডলার) মজুরি নিশ্চিতকরণ, ফ্রান্সের NATO থেকে বেরিয়ে আসা এবং অর্থনীতির জাতীয়করণ। তিনি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ফ্রান্সের ঋণ পরিশোধ বন্ধ করার দাবি করেছেন, যা তিনি একটি স্থায়ী বিনামূল্যে ঋণে রূপান্তর করার আশা করছেন। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো সরকারকে আরও বেশি খরচ করার সুযোগ দিতে।
ইউরোপের বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি হলো ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে, কিন্তু ইউএন-এর নিয়মের বিরুদ্ধে যাওয়া ফ্রান্সের সামাজিক, পরিবেশগত বা অর্থনৈতিক নীতিকে প্রত্যাখ্যান করা। এই অবস্থান ইউরোপীয় কমিশনের সাথে সম্ভাব্য সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
মেলেনশনের পার্টি ফ্রান্স আনবাউড (LFI) বামপন্থীরা সর্বাধিক সমর্থন পাচ্ছেন। মিড-সেপ্টেম্বর থেকে ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভে বিভিন্ন গোষ্ঠী যুক্ত হয়েছে, যারা সরকারি পরিষেবার অবনতি, জীবনযাপনের খরচ বাড়ার কারণে অসন্তুষ্ট। মেলেনশনকে বিক্ষোভের দাবির সাথে সিঁড়ি মিলিয়ে বলা হয়, “তাঁর শক্তি হলো বিক্ষোভের দাবিকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করা: বেশি মজুরি, শিক্ষায় বিনিয়োগ, সামাজিক সুবিধা বাড়ানো এবং খরচ কাটা বন্ধ করা, যা জীবনযাপনের খরচে ক্লান্ত মানুষদের আশ্বাস দেয়।”
অর্থনীতিবিদ জাক রেলাঁ মেলেনশনকে বিক্ষোভকারীদের ভোটের প্রতিনিধি হিসেবে দেখছেন। তবে কিছু অর্থনীতিবিদ মেলেনশনের নীতিগুলোকে ‘রাডিক্যাল’ এবং বাস্তবায়নের জন্য অসম্ভব বলে মনে করছেন। ফ্রান্সের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা এবং উচ্চ ঋণ বোঝা এই নীতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। অর্থনীতিবিদরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, মেলেনশনের ব্যাপক খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব ফ্রান্সের সরকারি বন্ডের মূল্য কমিয়ে দিতে পারে, যা দেশের ঋণ বাজারে প্রভাব ফেলবে।
"বরখাস্ত করা ঋণ পরিশোধ করা — এটাকে চুরি বলে ডাকা হয়।"
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়েন লেকর্নু সেপ্টেম্বর মাসে এই ধরনের প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন। মেলেনশনের অর্থনৈতিক নীতির মূল স্তম্ভ হলো ধনী ব্যক্তি ও কর্পোরেশনের উপর উচ্চ কর আরোপ করা। তিনি বিলিয়নিয়ারদের সম্পদের উপর ২% কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন, ফ্রান্সের সম্পদ কর পুনরুদ্ধার এবং বড় বড় উত্তরাধিকারকে করযোগ্য করার মাধ্যমে তার খরচ বাড়ানোর পরিকল্পনা।
মেলেনশনের নীতিগুলো কেয়নসীয় অর্থনীতির ঐতিহ্য অনুসরণ করে, যা দাবি করে সরকার অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে সামাজিক বৈষম্য কমাতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বেলিগ নাবলি মেলেনশনের নীতিকে ‘রাডিক্যাল’ বলে মনে করলেও তা ঐতিহাসিক সামাজিক গণতন্ত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে তেমন রাডিক্যাল নয়। কারণ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এই ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপের ঐতিহ্য ত্যাগ করেছে।
জঁ-লুক মেলেনশন ৭৫ বছর বয়সী। তিনি মরক্কোতে ফরাসি মাতা-পিতার সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং শৈশবে ফ্রান্সে চলে আসেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লে বুরজেট (প্যারিসের উত্তরে), ফ্রান্স
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: জঁ-লুক মেলেনশন, মারিন লেপেন, সেবাস্টিয়েন লেকর্নু, জাক রেলাঁ, বেলিগ নাবলি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ বছর (অবসর বয়স), ১৭০০ ইউরো (মাসিক মজুরি), ২% (বিলিয়নিয়ারদের কর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!