📌 ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপে তাপদাহের কারণে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অর্থনীতিতে ১৭ বিলিয়ন ইউরোর ক্ষতি হয়েছে। গবেষণা জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই মৃত্যু ও ক্ষতির হার আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে
২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপ জুড়ে তাপদাহের কারণে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অর্থনীতিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ইউরোর ক্ষতি হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে দুটি পৃথক গবেষণা। গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই মৃত্যু ও ক্ষতির হার আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউরোপে গ্রীষ্মের তাপদাহে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটেছে বলে গবেষণা জানায়।
- 📌 ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ০.১৭ শতাংশ কমেছে, অর্থাৎ প্রায় ১৭ বিলিয়ন ইউরো (২ লাখ ৩৫ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা) ক্ষতি হয়েছে।
- 📌 গত এক দশকের তুলনায় এই বছরের দাবদাহের আর্থিক ক্ষতি আড়াই গুণ বেশি। ফ্রান্সের জিডিপি কমেছে ০.২ শতাংশ, জার্মানির ০.১ শতাংশ এবং স্পেনের ০.০৫ শতাংশ।
- 📌 লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৩ সালে তাপজনিত মৃত্যুর হার ছিল ৪০ শতাংশ, কিন্তু ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশে।
- 📌 ইউরোপের ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহর অন্তর্ভুক্ত গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের কারণে মৃত্যু বেড়েছে।
📰 বিস্তারিত
ইউরোপের গ্রীষ্মকালীন তাপদাহের কারণে এই বছর মৃত্যুর সংখ্যা আগের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীষ্মের উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই জলবায়ু পরিবর্তন না হলে ঘটত না। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, পশ্চিম ইউরোপে গত গ্রীষ্মে গড় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের তুলনায় প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। কোনো কোনো দিনে তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। দাবদাহের কারণে পুরো মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়িঘর পুড়ে গেছে, হাসপাতালের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়েছে, পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বিকল হয়ে পড়েছে।
ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের জিডিপি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে, জার্মানির অর্থনীতি শূন্য দশমিক ১ শতাংশ ছোট হয়েছে। স্পেনের জিডিপিতে দাবদাহের প্রভাব ছিল শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউরোপের শহরগুলোতে তাপজনিত কারণে প্রায় ২৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা ২০০৩ সালের ২৮ হাজার মৃত্যুর তুলনায় অনেক বেশি।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাপজনিত মৃত্যুর সঠিক হিসাব করা কঠিন, কারণ মানুষ সরাসরি তাপের সংস্পর্শে এসে মারা যায় না। বরং অতিরিক্ত তাপমাত্রা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং আগে থেকে থাকা বিভিন্ন রোগের অবস্থা আরও খারাপ করে দেয়। বিশেষ করে হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
"আমরা বারবার দাবদাহের মুখোমুখি হয়েছি। মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের কারণে বাড়তি তাপমাত্রা না থাকলেও এসব ঘটনা বিপজ্জনক হতো। কিন্তু মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সত্যিই অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।" — ক্লেয়ার বার্নস, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউরোপের ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহর (মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্লেয়ার বার্নস (ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন), অ্যান্ড্রু হার্টল (ইম্পেরিয়াল কলেজ হেলথকেয়ার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ হাজার মৃত্যু, ১৭ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতি, ০.১৭ শতাংশ জিডিপি কমে, ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ১২ ডিগ্রি তাপমাত্রা ব্যবধান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!