📌 কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ডলি পার্টন ৮০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মহীয়সী নারী ছয় দশকের সংগ্রাম ও সাফল্যের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন
কান্ট্রি সংগীতের ইতিহাসে এক যুগের অবসান ঘটল। বিশ্বখ্যাত শিল্পী, গীতিকার, অভিনেত্রী ও সমাজসেবী ডলি পার্টন আর নেই। গত ২৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে নিজ বাড়িতে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর পরিবারের দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর স্বজনদের উপস্থিতিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 মৃত্যুকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে ছিলেন
- 📌 তাঁর মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে
- 📌 দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ডলি পার্টন
- 📌 তিনি ছয় দশকের বেশি সময় ধরে সংগীত ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন
- 📌 তাঁর লেখা প্রায় তিন হাজার গান বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে
- 📌 তিনি ১১টি গ্র্যামি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেন
- 📌 তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘জোলিন’
📰 বিস্তারিত
ডলি পার্টনের মৃত্যু কেবল একজন শিল্পীর বিদায় নয়, এটি একটি যুগের অবসান। ১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির পিটম্যান সেন্টারে একটি দরিদ্র কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। তাঁর পরিবারে ছিলেন ১২ ভাই–বোন। ছোট্ট এক কক্ষের কাঠের ঘরে তাঁর শৈশব কাটে। সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, তবে গান ছিল তাঁর একমাত্র আশ্রয়। তাঁর মা লোকগান গাইতেন, সেই গান শুনেই তিনি বেড়ে ওঠেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে নিজের প্রিয় পুতুলকে নিয়ে প্রথম গান লেখেন তিনি। আট বছর বয়সে তাঁর হাতে প্রথম গিটার ওঠে। ১১ বছর বয়সে স্থানীয় বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। আর মাত্র ১৩ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ কান্ট্রি সংগীতের মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি।
সংগ্রাম থেকে সাফল্যের পথে পড়াশোনা শেষ করে ডলি ন্যাশভিলে চলে যান। শুরুতে তিনি অন্য শিল্পীদের জন্য গান লিখতেন। তবে তাঁর নিজের কণ্ঠের জাদুতে শ্রোতাদের মন জয় করতে বেশি সময় লাগেনি। একক শিল্পী হিসেবে তাঁর সাফল্য তাঁকে কান্ট্রি সংগীতের ইতিহাসে স্থায়ী আসন এনে দেয়। তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে। প্রেম, বিচ্ছেদ, পরিবার, দারিদ্র্য, সংগ্রাম ও আশা—মানুষের জীবনের গভীর অনুভূতিগুলোই ছিল তাঁর গানের প্রধান বিষয়।
ডলি শুধু গান গাইতেন না, তিনি ছিলেন একজন সফল অভিনেত্রীও। গত শতকের আশির দশক থেকে একের পর এক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়ায়। চলচ্চিত্রের জন্য লেখা গানের সুবাদে তিনি দুবার অস্কার পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
"গান লেখা শুধু পেশা নয়, এটি একধরনের আত্মিক সাধনা। গান লিখতে বসলেই আমি নিজেকে সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে কাছাকাছি অনুভব করি।"
গীতিকার হিসেবে ডলির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর লেখনী। জীবদ্দশায় তিনি প্রায় তিন হাজার গান লিখেছেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর অধিকাংশ জনপ্রিয় গান তিনি নিজেই লিখেছিলেন। শুধু শিল্পী নয়, তিনি ছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তাও। নিজের নামে গড়ে তোলেন বিশাল বিনোদনকেন্দ্র, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়। টেলিভিশন অনুষ্ঠান, বই প্রকাশ ও প্রযোজনাসহ নানা ব্যবসায়িক উদ্যোগে তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন।
সমাজসেবায়ও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে তিনি একটি কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সেই উদ্যোগের মাধ্যমে লাখো শিশুর হাতে বিনা মূল্যে বই পৌঁছে দেওয়া হয়। করোনা মহামারির সময় টিকা গবেষণার জন্য তিনি বিপুল অর্থ অনুদান দেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। তাঁর কাছে খ্যাতির চেয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল বড় বিষয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডলি পার্টন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ বছর, ১৯ জানুয়ারি ১৯৪৬, ১২ ভাই–বোন, ১১টি গ্র্যামি পুরস্কার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!