📌 কান্ট্রি সঙ্গীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন ৮০ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর অসাধারণ সঙ্গীত প্রতিভা, মানবিক কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন
মার্কিন কান্ট্রি সঙ্গীতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ডলি পার্টন আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। টেনেসির স্মোকি মাউন্টেন অঞ্চলের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া ডলি পার্টন তাঁর অসাধারণ সঙ্গীত প্রতিভা ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে বিশ্ব সংগীতাঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন কান্ট্রি সঙ্গীতের মহানায়িকা ডলি পার্টনের মৃত্যু হয়েছে ৮০ বছর বয়সে
- 📌 টেনেসির স্মোকি মাউন্টেন অঞ্চলের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম
- 📌 তিনি ছিলেন ১২ ভাইবোনের মধ্যে একজন
- 📌 মাত্র ১০ বছর বয়সে স্থানীয় টেলিভিশনে গান গাওয়া শুরু করেন
- 📌 ১৯৬৪ সালে হাইস্কুল পাস করার পর ন্যাশভিলে পাড়ি জমান সঙ্গীত জীবন শুরু করতে
- 📌 তাঁর লেখা ও গাওয়া বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে ‘জোলিন’, ‘কোট অব মেনি কালারস’, ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’
- 📌 বিশ্বজুড়ে তাঁর রেকর্ড বিক্রির সংখ্যা ১০০ মিলিয়নেরও বেশি
- 📌 তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ নামক দাতব্য সংস্থা
- 📌 অভিনয় ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন সমান সফল
- 📌 তাঁর ক্যারিয়ারে রয়েছে ৫৫টি গ্র্যামি মনোনয়ন এবং ১০টি পুরস্কার জয়
📰 বিস্তারিত
ডলি পার্টনের মৃত্যুতে সঙ্গীত জগতের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তিনি ছিলেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি সঙ্গীতের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল টেনেসির স্মোকি মাউন্টেন অঞ্চলের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন কৃষক যিনি আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি। পরিবারের ১২ ভাইবোনের মধ্যে ডলি পার্টন ছিলেন একজন।
তাঁর সঙ্গীত জীবনের সূচনা হয়েছিল গির্জায়। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি স্থানীয় টেলিভিশনে গান গাওয়া শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৩ বছর বয়সে বিখ্যাত ‘গ্র্যান্ড ওল ওপ্রি’-তে পারফর্ম করেন। সেখানে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী জনি ক্যাশ।
১৯৬৪ সালে হাইস্কুল পাস করার পর ডলি পার্টন সঙ্গীত জীবন শুরু করতে ন্যাশভিলে চলে যান। সেখানে তিনি প্রডিউসার ফ্রেদ ফস্টারের নজরে পড়েন। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ন্যাশভিলের সংগীতাঙ্গনের শীর্ষ তারকায় পরিণত হন। তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও নিজস্ব শৈলীর জন্য তিনি ছিলেন অনন্য।
"আমি রাজনীতি করি না। রাজনৈতিক ব্যবস্থার উভয় পক্ষেই আমার কোটি কোটি অনুরাগী রয়েছেন। আমার নিজস্ব মতামত আছে, কিন্তু আমি শিখেছি যেসব বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয় সেখানে নীরব থাকাই শ্রেয়।"
ডলি পার্টনের লেখা ও গাওয়া বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে ‘জোলিন’, ‘কোট অব মেনি কালারস’, ‘নাইন্টু ফাইভ’ এবং ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’। তাঁর রেকর্ড বিক্রির সংখ্যা বিশ্বজুড়ে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাঁর গানগুলো শতকোটি বারের বেশি শোনা হয়েছে।
তিনি ছিলেন একজন সফল অভিনেত্রীও। ১৯৮০ সালে ‘৯ টু ৫’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। সিনেমাটির শিরোনাম সংগীতের জন্য তিনি গ্র্যামি পুরস্কার জয় করেন। পরবর্তীতে ‘দ্য বেস্ট লিটল ভোরহাউজ ইন টেক্সাস’ এবং ‘স্টিল ম্যাগনেলিওস’-এর মতো ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রেও তাঁকে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি ছিলেন সফল। টেনেসিতে তিনি গড়ে তুলেছেন জনপ্রিয় থিম পার্ক ‘ডলিউড’, যা ওই অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবীও। নিজের ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। ২০১৬ সালে স্মোকি মাউন্টেনে এক ভয়াবহ দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে তিনি বিশেষ তহবিল গঠন করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডলি পার্টন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ বছর, ১২ ভাইবোন, ৫৫টি গ্র্যামি মনোনয়ন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!