📌 ত্রিশূলী নদীর হঠাৎ ভয়াবহ বন্যায় নেপালের সোলে ও বেত্রাবতী গ্রাম পুরোপুরি তলিয়ে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শত শত মানুষ নিখোঁজ ও নিহতের খবর পাওয়া গেছে
কাঠমান্ডুতে কান্তিপুর পাবলিকেশনসের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিক অর্জুন পৌডেলের স্ত্রীর কাছ থেকে প্রথম খবরটি আসে। উদ্বিগ্ন কণ্ঠে স্ত্রী জানান, ‘ত্রিশূলী নদীতে হঠাৎ বন্যা এসেছে। সোলে বাজার আর বেত্রাবতীতে ভয়াবহ কিছু ঘটে গেছে। সব কিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে।’ অর্জুন প্রাথমিকভাবে খবরটিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে নিজের গ্রামের ভয়াবহ পরিস্থিতির খবর জানতে পারেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ত্রিশূলী নদীর হঠাৎ বন্যায় নেপালের সোলে ও বেত্রাবতী গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত
- 📌 স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে
- 📌 অর্জুন পৌডেলের পরিবারের সদস্য সহ শত শত মানুষ নিখোঁজ ও নিহত
- 📌 স্থানীয় চেয়ারম্যান জানান, গ্রামের ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে
- 📌 স্থানীয় স্কুলের শিক্ষক জানান, স্কুলের ভ্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভেসে গেছে
📰 বিস্তারিত
সাংবাদিক অর্জুন পৌডেল জানান, তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে প্রথম খবরটি পাওয়ার পর তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি। কারণ, তাঁর নিজের গ্রাম সোলে বছরের পর বছর ধরে তাঁর জীবনের অংশ ছিল। গ্রামের অলিগলিতে খেলতে খেলতে তিনি বড় হয়েছেন। মাঠে কাজ করেছেন। স্কুলে যাওয়ার পথে এই গ্রামের পথ ধরে হেঁটেছেন তিনি। তীব্র বর্ষাতেও ত্রিশূলী নদীর পানি কখনো এই জনপদ পর্যন্ত পৌঁছায়নি বলে তিনি জানান।
বেলা ১১টায় নিউজের মিটিং থাকায় দ্রুত অফিসের দিকে পা বাড়ান অর্জুন। অফিসে যাওয়ার পথে তিনি বারবার নিজের পরিবারের সদস্য ও পরিচিতদের ফোন করতে থাকেন। কিন্তু কোনো সংযোগ মিলছিল না। অবশেষে পরিচিত এক বড় ভাইয়ের বাড়ির নম্বরে ফোন ঢুকলে তাঁর স্ত্রী জানান, ‘গ্রামে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। অধিকাংশ মানুষই ভেসে গেছে।’
অর্জুন জানান, তাঁর বয়স এখন ৪৪ বছর। এই জীবনে তিনি কখনো নদীর পানি এত দূর উঠে আসতে দেখেননি। কারণ, নদীগর্ভ থেকে সোলে ও টুপচে গ্রামের উচ্চতা প্রায় ১০০ মিটার। কয়েক শতকের ইতিহাসে এমন উচ্চতায় কোনো বন্যা আসার নজির নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, তাঁর পরিবারের সদস্য সহ গ্রামের প্রায় সব মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড়। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও সেখানকার সংস্কৃতিতে সবাই হয়ে উঠতেন ‘দাই’ বা ‘দিদি’। ধীরে ধীরে তাঁর ফোনে ভিডিও ও ছবি আসতে শুরু করে। সেখানে যা দেখলেন, তার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না বলে তিনি জানান।
স্থানীয় ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নেপাল অর্জুনকে জানান, ‘গ্রামে আর কিচ্ছু নেই। কিছু মানুষ কোনোমতে পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে উঠে প্রাণে বেঁচেছেন।’ স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষকও অর্জুনকে জানান, ‘বেত্রাবতীর ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। স্কুলের ভ্যানটিও ভেসে গেছে। আমার পাশে একটি ছেলের পা ভেঙে পড়ে আছে। আরেকজন মানুষের পা ভাঙা, চোখ মারাত্মক জখম।’
"দাই (বড় ভাই), আমিও এইমাত্র শুনলাম। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। মা, বাবা, কাকা, কাকি—কারও ফোনেই রিং হচ্ছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সোলে ও বেত্রাবতী, নেপাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্জুন পৌডেল (সাংবাদিক), রবীন্দ্র নেপাল (স্থানীয় চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ মিটার (গ্রামের উচ্চতা), ৪৪ বছর (অর্জুনের বয়স), ৯০ শতাংশ (ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!