📌 যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। ছয় দশকের সংগীত জীবনে তিনি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০টি অ্যালবাম প্রকাশ করেন এবং তার গানের রেকর্ড বিক্রি হয়েছে ১০ কোটির বেশি। মানবসেবা ও ব্যবসায়িক উদ্যোগেও তিনি ছিলেন অগ্রণী
যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের অন্যতম মহানায়িকা ডলি পার্টন ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তার পরিবারের পক্ষ থেকে এই দুঃসংবাদ প্রকাশ করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টনের মৃত্যু হয়েছে ৮০ বছর বয়সে
- 📌 তার ছয় দশকের সংগীত জীবনে প্রায় ৫০টি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ এবং বিশ্বজুড়ে ১০ কোটির বেশি রেকর্ড বিক্রি
- 📌 বিখ্যাত গান: ‘জোলিন’, ‘৯ টু ৫’, ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’
- 📌 অভিনয় জীবনে ‘৯ টু ৫’ চলচ্চিত্রের জন্য অস্কার মনোনয়ন লাভ
- 📌 মানবসেবায় অবদান হিসেবে ২০২২ সালে ‘কারেজ অ্যান্ড সিভিলিটি অ্যাওয়ার্ড’ লাভ
📰 বিস্তারিত
ডলি পার্টনের মৃত্যুতে কান্ট্রি সংগীত জগৎ শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণকারী একজন সংগীতশিল্পী, যিনি পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে খ্যাতির শিখরে আরোহণ করেন। ১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া ডলি ছিলেন তার পরিবারের ১২ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। ছোটবেলা থেকেই গান লেখা শুরু করেন তিনি।
১৯৬০-এর দশকে ন্যাশভিলে গিয়ে তিনি পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘হ্যালো, আই’ম ডলি’ প্রকাশের মাধ্যমে কান্ট্রি সংগীত জগতে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। তার লেখা ও গাওয়া বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জোলিন’, ‘৯ টু ৫’ ও ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’। ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ গানটি পরবর্তীতে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে নতুন জীবন পায় এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
সংগীতের পাশাপাশি ডলি পার্টন অভিনয়েও সফল ছিলেন। ১৯৮০ সালে জেন ফন্ডা ও লিলি টমলিনের সঙ্গে ‘৯ টু ৫’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বড় পর্দায় আলোচনায় আসেন। একই নামের গানটির জন্য তিনি অস্কার মনোনয়নও লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘দ্য বেস্ট লিটল হোরহাউস ইন টেক্সাস’ এবং ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন।
ডলি পার্টন এমিলু হ্যারিস, লিন্ডা রনস্ট্যাড, লরেটা লিন ও উইলি নেলসনসহ বহু কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন। ১৯৮৩ সালে কেনি রজার্সের সঙ্গে তার গাওয়া ‘আইল্যান্ডস ইন দ্য স্ট্রিম’ বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে উঠেছিল। তার দীর্ঘ সংগীত জীবনে একাধিক গ্র্যামি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন তিনি। ২০২২ সালে তিনি রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমে স্থান লাভ করেন।
শিল্পী পরিচয়ের পাশাপাশি ডলি পার্টন একজন সফল ব্যবসায়ীও ছিলেন। তিনি ১৯৮০-এর দশকে টেনেসির একটি থিম পার্কে বিনিয়োগ করেন, যা পরে তার নাম অনুসারে ‘ডলিউড’ নামে পরিচিত হয়। মানবসেবায়ও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ১৯৮৮ সালে ডলিউড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির চিকিৎসা গবেষণায় তিনি ১০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন, যা মডার্নার কোভিড-১৯ টিকা তৈরিতে সহায়তা করেছিল।
"ডলি পার্টনের মৃত্যুতে কান্ট্রি সংগীত জগৎ একটি অমূল্য সম্পদ হারাল। তার গান ও অভিনয় বিশ্ববাসীকে অনুপ্রাণিত করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডলি পার্টন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ বছর, ৫০টি অ্যালবাম, ১০ কোটি রেকর্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!