📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের জীবন-জীবিকা বিপন্ন। কপ-৩১ সম্মেলনে (৯-২০ নভেম্বর, তুরস্ক) বাংলাদেশ অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন ও সহজতর তহবিল প্রক্রিয়া দাবি করবে। পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের জীবন-জীবিকা ও উন্নয়ন প্রকটভাবে বিপন্ন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে — এই দাবি তুলে ধরবে বাংলাদেশ কপ-৩১ সম্মেলনে (৯-২০ নভেম্বর, তুরস্কের আনতালিয়া)। পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ৫ নভেম্বর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঋণ নয়, অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন এবং সহজতর তহবিল প্রক্রিয়া বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কপ-৩১ সম্মেলনে (৯-২০ নভেম্বর, তুরস্ক) বাংলাদেশ অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন ও জলবায়ু তহবিলের সহজতর প্রক্রিয়া দাবি করবে।
- 📌 জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক ও অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন সহায়তা প্রয়োজন।
- 📌 উন্নত দেশগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোতে — বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখতে।
- 📌 কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাতের পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে শ্রমিকের অধিকার ও নারী-তরুণদের কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
- 📌 ১০০ বর্গমিটার প্যাভিলিয়ন স্থাপন করবে বাংলাদেশ — সেখানে জলবায়ু অভিযোজন অভিজ্ঞতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও স্থানীয় উদ্যোগ প্রদর্শিত হবে।
📰 বিস্তারিত
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ ক্রমাগত ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, খরা ও তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগের শিকার হচ্ছে। এসব দুর্যোগ মানুষের জীবন, জীবিকা ও দেশের উন্নয়নকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তা বাংলাদেশের অগ্রাধিকার।
কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের মূল দাবি হলো অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে অভিযোজন ও জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে অনুদান বাড়ানো। তিনি জানান, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক অভিযোজন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা দরকার।
উপকূলীয় অঞ্চল, হাওর, চর ও খরাপ্রবণ এলাকার মানুষের পানি, খাদ্য, স্বাস্থ্য ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় অভিযোজন কার্যক্রম জোরদারে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে দ্রুত অনুদান পাওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখতে দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং প্রধান নির্গমনকারী দেশগুলোকে নিজস্ব দায়িত্ব অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর এনডিসি বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং নারী ও তরুণদের শোভন কর্মসংস্থান গুরুত্ব পাবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, পরিচ্ছন্ন শিল্প ও পরিবহন এবং জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও বাংলাদেশের অগ্রাধিকার।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ ও বনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কপ-৩১-এর জন্য বাংলাদেশের অবস্থানপত্র তৈরি করা হয়েছে। তিনি জানান, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট, জি-৭৭ এবং সমমনা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল কাজ করবে।
"কপ-৩১ সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশা হলো জলবায়ু অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সহায়তার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি। এর মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।"
ড. সাইমুম পারভেজ আরও জানান, ১০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি, অভিযোজন অভিজ্ঞতা, এনডিসি ৩.০, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষয়ক্ষতি, কার্বন বাজার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগ প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও একটি জুট প্যাভিলিয়নও স্থাপন করা হবে।
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!